শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:১৩ অপরাহ্ন

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করলে সরকারকে চড়া মূল্য দিতে হবে: শফিকুর রহমান

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩১/১০/২০২৬ ১০:২২:০০ পূর্বাহ্ন

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করলে সরকারকে চড়া মূল্য দিতে হবে: শফিকুর রহমান


গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের দাবিতে রাজপথের আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, জনগণের দাবি পূরণ না হলে আন্দোলন চলবে। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করলে সরকারকে চড়া মূল্য দিতে হবে। বিএনপি অতীত থেকে শিক্ষা না নিয়ে নতুন নতুন জঞ্জাল সৃষ্টি করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-খুলনা-ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন শফিকুর রহমান।

জামায়াত আমির বলেন, তাঁরা কোনো ব্যক্তি বা দলের নিজস্ব দাবি নিয়ে রাজপথে নামেননি; এসব জনগণের দাবি। জনগণের সহযোগিতায় তাঁদের আগের দুটি লংমার্চ সফল হয়েছে। ১১ দলীয় ঐক্যের সাত দফা দাবির মধ্যে প্রধান দাবি হলো গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন। এই দাবি পূরণ করা হলে বাকি ছয়টি দাবি সামনে আসত না।

বিএনপি সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, সরকার জনগণের সঙ্গে বিশ্বাস ভঙ্গ করেছে এবং তাদের আশাহত করেছে। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করলে বিএনপিকে চড়া মূল্য দিতে হবে। অতীত থেকে শিক্ষা না নিয়ে তারা নতুন নতুন জঞ্জাল তৈরি করছে।

শফিকুর রহমান আরও বলেন, অতীতে যারা দাসত্ব স্বীকার করেছে, তারা নিজেদের পরিণতি ভোগ করছে। সরকারের প্রতি তাঁর আহ্বান, জনগণের দাবি মেনে নিয়ে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন করতে হবে। দাবি আদায় করেই তাঁরা রাজপথ ছাড়বেন।

যুবসমাজের উদ্দেশে জামায়াত আমির বলেন, কারও ছলনায় কান দেওয়া যাবে না। আরেকটি বিপ্লব দরজায় কড়া নাড়ছে। জনগণের দাবি আদায়ে লংমার্চ সফল করতে তিনি সবার প্রতি আহ্বান জানান।

সমাবেশে এলডিপির চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ বীর বিক্রম বলেন, তাঁরা চান দেশ সঠিকভাবে পরিচালিত হোক। সিস্টেম ভালো না থাকলে দেশ ভালোভাবে চলতে পারে না। তাঁর অভিযোগ, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর জেলা, সিটি করপোরেশন ও বিভিন্ন করপোরেশন বিএনপির কার্যালয়ে পরিণত হয়েছে। সেখান থেকে সব টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেন, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন না করে সরকার জনগণের সঙ্গে গাদ্দারি করছে এবং তাদের অসম্মান করছে। তাঁর বক্তব্য, গণভোট অবৈধ হলে এ সরকার ও সংসদও বৈধ হতে পারে না।

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং তেল-গ্যাস সংকট নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মামুনুল হক। তিনি বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হওয়ায় দেশে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাস বেড়েছে।

জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বিএনপি ভুল পথে পা বাড়িয়ে ফ্যাসিবাদের পথে হাঁটছে। সংবিধান সংস্কার না করে সংবিধান সংশোধন কমিটি গঠন করে সরকার একদলীয় শাসনের পথে এগোচ্ছে। জুলাই সনদের সঙ্গে গাদ্দারি করে সরকার জনগণকে লাল কার্ড দেখিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এ সময় ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ১১ দলের কর্মীদের আহত করার ঘটনার নিন্দা জানান।

সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন এবি পার্টির মুজিবুর রহমান মঞ্জু, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির আমির মাওলানা আবদুল কাইয়ুম ছোবহানী, জাগপা সহসভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জামায়াতে ইসলামীর নির্বাহী পরিষদ সদস্য নুরুল ইসলাম বুলবুল ও মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম এবং ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম।

সমাবেশটি সঞ্চালনা করেন জামায়াতের নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এবং ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি ডা. ফখরুদ্দিন মানিক।

উদ্বোধনী সমাবেশ শেষে সকাল ৮টার দিকে লংমার্চের বহর খুলনা, ঝিনাইদহ ও কুষ্টিয়ার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। আয়োজিত এ সমাবেশে লাখো মানুষের উপস্থিতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

লংমার্চের বহর পদ্মা সেতু পার হয়ে শরীয়তপুরের জাজিরার নাওডোবা, বাগেরহাটের ফকিরহাটের কাঁটাখালীর মোড়, খুলনা মহানগরীর বাবরী চত্বর ও ফুলতলার স্বাধীনতা চত্বর, যশোরের মুড়লীর মোড় এবং ঝিনাইদহ বাস টার্মিনালে পথসভা করবে। সবশেষে কুষ্টিয়ার শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে সমাপনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। পথে বিভিন্ন স্থানে গণজমায়েতে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য দেবেন।

উল্লেখ্য, দাবি আদায়ের লক্ষ্যে গত ৫ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম অভিমুখে প্রথম এবং ১৯ সেপ্টেম্বর রংপুর অভিমুখে দ্বিতীয় লংমার্চ করেছিল ১১ দলীয় ঐক্য।

আজকের সিলেট/ জেকেএস

সিলেটজুড়ে


মহানগর