সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ১২:১৭ অপরাহ্ন

মিষ্টির পদত্যাগ করা আসনে ভোট, কাকে বেছে নিচ্ছে বিএনপি?

আজকের সিলেট ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৯/১০/২০২৬ ১০:৫২:২২ পূর্বাহ্ন

মিষ্টির পদত্যাগ করা আসনে ভোট, কাকে বেছে নিচ্ছে বিএনপি?

সৈয়দা আবিদা হোসেন, সাবিনা খান, সৈয়দ সাবরিনা সিদ্দিকী, ফাইল ছবি


ঢাকার মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সম্প্রতি হামলার ঘটনায় সম্পৃক্ততার অভিযোগে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে পদত্যাগ করেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি। এতে শূন্য হয় ২৩ নম্বর আসনটি। আগামী ১২ নভেম্বর উপ-নির্বাচন হবে এ আসনে। মিষ্টির পদত্যাগে শূন্য হওয়া আসনটিতে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন পেতে ৭০ জন নারী ফরম সংগ্রহ করেন। তাদের মধ্যে ৬৮ জন ফরম জমা দিয়েছেন। এখন দেখার বিষয় বিএনপি কাকে বেছে নেয় এই আসনে।

মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সম্ভাব্য সাক্ষাৎকারের তারিখ নির্ধারণ আজ সোমবার (১৯ অক্টোবর) বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। তবে এ বিষয়ে বিএনপির আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা পাওয়া যায়নি। এতসংখ্যক মনোনয়নপ্রত্যাশীর মধ্যে শেষ পর্যন্ত কাকে বেছে নেয় বিএনপি, তা নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছে দলটির নেতাকর্মীদের মধ্যে।

আলোচনায় থাকা তিন মনোনয়নপ্রত্যাশী হলেন, সৈয়দা আবিদা হোসেন, সাবিনা খান ও সৈয়দ সাবরিনা সিদ্দিকী। তাদের রাজনৈতিক ও পারিবারিক পরিচিতি ঘিরে দলীয় পর্যায়ে আলোচনা চলছে। তবে এই তিনজনের মধ্যে কাউকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়ে বিএনপির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা পাওয়া যায়নি।

বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানিয়েছেন, আসনটিতে মনোনয়ন ফরম কিনেছেন ৭০ জন নারী। তাদের মধ্যে ৬৮ জন ফরম জমা দিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। ফলে ফরম সংগ্রহ করলেও দুজন শেষ পর্যন্ত তা জমা দেননি। তারা কারা এবং কী কারণে ফরম জমা দেননি, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

আলোচনায় তিন নারী

মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে সৈয়দা আবিদা হোসেনের পরিচিতির অন্যতম দিক তার পারিবারিক রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা। তার বাবা সৈয়দ মকবুল হোসেন সিলেট বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

অন্যদিকে, সাবিনা খান লন্ডন বিএনপির সাবেক সভাপতি প্রয়াত কমর উদ্দিনের মেয়ে। আর সৈয়দ সাবরিনা সিদ্দিকী ঢাকা মহানগর বিএনপির নেতা সৈয়দ আবু বকর সিদ্দিক সাজুর স্ত্রী।

এই তিনজনের রাজনৈতিক ও পারিবারিক পরিচিতি তাদের মনোনয়ন নিয়ে আলোচনায় রেখেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য। তবে শুধু পারিবারিক পরিচিতি নয়, দলীয় কর্মকাণ্ড, রাজনৈতিক ভূমিকা, সাংগঠনিক সম্পৃক্ততা ও দলের বিবেচনায় থাকা অন্যান্য বিষয়ও চূড়ান্ত মনোনয়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

ফরম কিনতে পাঁচ হাজার, জমা দিতে ৫০ হাজার টাকা

সংরক্ষিত নারী আসন-২৩-এর জন্য বিএনপির মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করতে পাঁচ হাজার টাকা এবং ফরম জমা দিতে ৫০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল বলে জানা গেছে। সে হিসাবে একজন মনোনয়নপ্রত্যাশীর ফরম সংগ্রহ ও জমা দেওয়ার জন্য মোট ব্যয় ৫৫ হাজার টাকা।

নির্ধারিত ফি অনুযায়ী, ৭০টি ফরম বিক্রি করে বিএনপির আয় হয়েছে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা। আর ৬৮টি ফরম জমা দেওয়ার বিপরীতে জমার ফি বাবদ অর্থের পরিমাণ ৩৪ লাখ টাকা। দুই ধাপ মিলিয়ে নির্ধারিত ফি থেকে হিসাব করলে মোট অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ৩৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

মিষ্টির পদত্যাগে শূন্য হয় আসন

সংরক্ষিত নারী আসন-২৩-এর সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি পদত্যাগ করায় আসনটি শূন্য হয়। রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় তার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ওঠার পর ১ অক্টোবর তিনি স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। তবে অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য ও পদত্যাগের আনুষ্ঠানিক কারণ পৃথকভাবে বিবেচ্য।

সংসদ সচিবালয় ওই দিনই আসনটি শূন্য ঘোষণা করে। সংবিধানের ৬৭ অনুচ্ছেদের ২ উপ-অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী, আসন শূন্য হওয়ার বিষয়টি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি বিএনপির মনোনয়নে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। ফলে শূন্য হওয়া আসনটিতে বিএনপির মনোনয়নই পরবর্তী সংসদ সদস্য নির্ধারণের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সংরক্ষিত নারী আসন সাধারণ আসনের মতো সরাসরি ভোটারদের ভোটে নির্বাচিত হওয়ার আসন নয়। জাতীয় সংসদে রাজনৈতিক দলগুলোর সাধারণ আসনের প্রতিনিধিত্বের অনুপাতে সংরক্ষিত নারী আসন বণ্টন করা হয়। কোনো আসন শূন্য হলে সংশ্লিষ্ট দল বা জোটের জন্য বরাদ্দ থাকা আসনে আইন অনুযায়ী পরবর্তী নির্বাচনী প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।

১২ নভেম্বর উপ-নির্বাচন, সামনে যেসব ধাপ

নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ৩২৩ নম্বর আসন, অর্থাৎ সংরক্ষিত নারী আসন-২৩-এর উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ১২ নভেম্বর।

তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ২৬ অক্টোবর। মনোনয়নপত্র বাছাই হবে ২৭ অক্টোবর। বাছাইয়ের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের ও নিষ্পত্তির জন্য যথাক্রমে ২৮ ও ২৯ অক্টোবর নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ১ নভেম্বর এবং প্রতীক বরাদ্দ ২ নভেম্বর।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সংরক্ষিত নারী আসন-২৩-এ বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সম্ভাব্য সাক্ষাৎকারের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ১৯ অক্টোবর। ওই দিন মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হতে পারে। তবে এ বিষয়ে বিএনপির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনো পাওয়া যায়নি।

দলীয় মনোনয়নপ্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত নিয়মে প্রার্থিতা ও নির্বাচনের পরবর্তী ধাপগুলো সম্পন্ন হবে। এ আসনে একাধিক প্রার্থী থাকলে ভোটগ্রহণের প্রয়োজন হতে পারে। আর একক প্রার্থী থাকলে আইন অনুযায়ী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ রয়েছে।

৭০ জনের ফরম সংগ্রহ এবং ৬৮ জনের জমা দেওয়ার মধ্য দিয়ে সংরক্ষিত নারী আসন-২৩-এ বিএনপির মনোনয়ন ঘিরে প্রতিদ্বন্দ্বিতার চিত্র স্পষ্ট হয়েছে। আলোচনায় থাকা সৈয়দা আবিদা হোসেন, সাবিনা খান ও সৈয়দ সাবরিনা সিদ্দিকীর মধ্যে কে দলীয় মনোনয়ন পাবেন, তা এখনও নিশ্চিত নয়।

একটি আসনের বিপরীতে এতসংখ্যক মনোনয়নপ্রত্যাশী থাকায় শেষ পর্যন্ত দলের সিদ্ধান্তই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সাক্ষাৎকার, দলীয় মূল্যায়ন ও অন্যান্য বিবেচনার ভিত্তিতে কাকে বেছে নেওয়া হবে, সে বিষয়ে বিএনপির আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের অপেক্ষায় রয়েছেন আগ্রহীরা।

আবিদা, সাবিনা নাকি সাবরিনা শেষ পর্যন্ত কে হচ্ছেন সংরক্ষিত নারী আসন-২৩-এ বিএনপির মনোনীত প্রার্থী, সেই প্রশ্নের উত্তর মিলবে দলটির চূড়ান্ত ঘোষণার পর।

আজকের সিলেট/এপি

সিলেটজুড়ে


মহানগর