বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৩৩ অপরাহ্ন

মেলার শর্ত ভেঙে নগরজুড়ে মাইকিং, নীরব জেলা প্রশাসন

জনি কান্ত শর্মা

প্রকাশিত: ২২/১০/২০২৬ ০৩:৫৮:৩৮ অপরাহ্ন

মেলার শর্ত ভেঙে নগরজুড়ে মাইকিং, নীরব জেলা প্রশাসন


সিলেট নগরীর ঐতিহাসিক শাহী ঈদগাহ খেলার মাঠে সিলেট উইমেন চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রির আয়োজনে মাসব্যাপী ‘সৃজনশীল পণ্য প্রদর্শনী, শিল্প-পণ্য ও বাণিজ্য মেলা ২০২৬’ আয়োজনকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অমান্য করে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় মেলার প্রচার-প্রচারণা ও মাইকিং চালানো হচ্ছে। এ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলেও জেলা প্রশাসনের দৃশ্যমান পদক্ষেপ না থাকায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

অভিযোগ রয়েছে, মেলার প্রচারে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় মাইক স্থাপন করে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় শব্দ করে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে নগরীর বিভিন্ন স্থানে এ ধরনের প্রচার চালাতে দেখা যায়। এ কাজে প্রায় ৩৫ থেকে ৪০টি অটোরিকশা ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে।

আরও পড়ুন: শর্ত ভেঙ্গে খেলার মাঠে মেলা, ভোগান্তিতে নগরবাসী

খেলার মাঠে বাণিজ্য মেলা, নগরজুড়ে মাইকিং—প্রশাসনের নজরদারি কোথায়?

তবে ইতিমধ্যে মেলা আয়োজক প্রতিষ্ঠান সিলেট উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি লুবানা ইয়াছমিন শম্পার দাবি করেছেন, তাদের মাইকিংয়ে মানুষের সমস্যা হবে না। প্রতি বছরই মাইকিং করা হয়।

মেলার আয়োজন ঘিরে অনুমতি ও শর্ত পালনের বিষয়টি সামনে আসার পরও প্রচার-প্রচারণা চলতে থাকায় নগরবাসীর মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। শর্ত ভেঙ মাইকিংয়ের বিষয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পরও প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা  না নেয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

আরও পড়ুন: শর্ত ভেঙ্গে খেলার মাঠে মেলা, ভোগান্তিতে নগরবাসী

খেলার মাঠে বাণিজ্য মেলা, নগরজুড়ে মাইকিং—প্রশাসনের নজরদারি কোথায়?

স্থানীয়রা বলছেন, কোনো আয়োজনের অনুমতি দেওয়ার ক্ষেত্রে নির্ধারিত শর্ত থাকলে তা বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা প্রশাসনের দায়িত্ব। সেই শর্ত অমান্য করার অভিযোগ ওঠার পরও ব্যবস্থা না নেওয়া হলে আইন ও নির্দেশনার কার্যকারিতা নিয়ে জনমনে সংশয় তৈরি হতে পারে।

বিশেষ করে নগরীর ব্যস্ত সড়ক, হাসপাতাল ও বিভিন্ন এলাকায় মাইক ব্যবহার করে প্রচারণা চালানোর অভিযোগ জনস্বার্থের সঙ্গে সম্পর্কিত। এ ধরনের প্রচারে জনদুর্ভোগের আশঙ্কা থাকায় সব কিছু শর্ত অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।

ব্যবসায়ীরা তাঁদের প্রতিষ্ঠানে লাখ লাখ টাকা বিনিয়োগ করছেন। মেলার মাইকিং শুনে ক্রেতারা মার্কেট ছেড়ে মেলায় চলে যাচ্ছেন। এতে মার্কেটের ব্যবসায়ীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন ব্যবসায়ীরা।”

আরও পড়ুন: শর্ত ভেঙ্গে খেলার মাঠে মেলা, ভোগান্তিতে নগরবাসী

খেলার মাঠে বাণিজ্য মেলা, নগরজুড়ে মাইকিং—প্রশাসনের নজরদারি কোথায়?

সিলেট মেট্টোপলিটন চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডিষ্ট্রির কোষাধক্ষ্য জহিরুল হক তুহিন বলেন, মেলার শর্ত ভঙ্গ হচ্ছে, আমরা প্রত্যাশা করি প্রশাসন যথাযথ ব্যবস্থা নিবেন। ব্যবসায়ীদের ক্ষতির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।

সিলেট জেলা ব্যবসায়ী ঐক্য কল্যাণ পরিষদের সভাপতি আব্দুর রহমান রিপন বলেন, দোকানে যেসব পণ্য বিক্রি হচ্ছে, মেলাতেও একই ধরনের পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে। সিলেটের বাইরে থেকে ব্যবসায়ীরা এসে মেলায় স্টল বসাচ্ছেন। এতে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন।

তিনি বলেন, এ বিষয়ে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের একটি বৈঠক হয়েছিল। বৈঠকে জেলা প্রশাসক আমাদের আশ্বস্ত করে বলেছিলেন, ব্যবসায়ীদের ক্ষতি হয় এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে না। একই সঙ্গে আগামীতে সিলেট চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডিষ্ট্রির উদ্যোগে বাণিজ্য মেলার আয়োজন করার কথাও তিনি জানিয়েছিলেন।

তিনি বলেন , বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে এ খাতে একটি অনুদান এসেছে বলে তাঁরা জানতে পেরেছেন। তাঁদের প্রস্তাব ছিল, একটি বাণিজ্য মেলার আয়োজন করা হবে, যা হবে আন্তর্জাতিক মানের। সবাই সম্মিলিতভাবে উদ্যোগ নিলে মেলাটি আরও সুন্দর ও মানসম্মতভাবে আয়োজন করা সম্ভব বলে তাঁরা মনে করেন। এ ছাড়া উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির মেলা আয়োজনের বিষয়েও মন্ত্রী মহোদয় তাঁদের অনুরোধ জানিয়েছিলেন।

মেলায় মাইকিংয়ের বিষয়ে রিপন বলেন, জেলা প্রশাসক দুর্গাপূজার পর এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন। এখন তিনি কী পদক্ষেপ নেন, সেটিই দেখার বিষয়। কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে তাঁরা লিখিত অভিযোগ জানাবেন এবং এ বিষয়ে কঠোর অবস্থানে যাবেন।

মাইকিং সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে জানতে সিলেটের জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুনের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। পরে এ বিষয়ে খুদে বার্তা পাঠানো হলেও তাঁর কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন: শর্ত ভেঙ্গে খেলার মাঠে মেলা, ভোগান্তিতে নগরবাসী

খেলার মাঠে বাণিজ্য মেলা, নগরজুড়ে মাইকিং—প্রশাসনের নজরদারি কোথায়?

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার মেলার অনুমতি, প্রশাসনের নির্দেশনা এবং মাইকিং সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে জানতে সিলেটের জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “মাইকিং করতেছে। আচ্ছা আমি দেখব।” এ কথা বলেই তিনি ফোন রেখে দেন। মেলা আয়োজনের অনুমতি, অন্যান্য শর্ত এবং সেগুলো অমান্য করার অভিযোগ নিয়ে বিস্তারিত প্রশ্ন করার আগেই তিনি কল কেটে দেন।

ফলে মাইকিংয়ের অভিযোগের বিষয়ে জেলা প্রশাসনের অবস্থান, অনুমতির শর্ত এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে এসব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যায়নি।

ঐতিহাসিক শাহী ঈদগাহ খেলার মাঠে মেলা আয়োজনকে কেন্দ্র করে ওঠা অভিযোগ এখন শুধু প্রচার-প্রচারণার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে প্রশাসনিক নজরদারি ও জবাবদিহির প্রশ্নও। অভিযোগের বিষয়ে সংবাদ প্রকাশের পরও কার্যকর পদক্ষেপের তথ্য সামনে না আসায় সমালোচনা আরও জোরালো হচ্ছে।

সব মিলিয়ে, শাহী ঈদগাহ মাঠের মেলাকে ঘিরে মাইকিংয়ের অভিযোগের পাশাপাশি জেলা প্রশাসনের ভূমিকা এখন আলোচনার কেন্দ্রে।

আজকের সিলেট/ জেকেএস

সিলেটজুড়ে


মহানগর