শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৫০ অপরাহ্ন

বিয়ানীবাজারে ফল বিপর্যয়; অর্ধেকের বেশি শিক্ষার্থী ফেল

বিয়ানীবাজার প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৩১/১০/২০২৬ ০৫:৪৮:২৭ অপরাহ্ন

বিয়ানীবাজারে ফল বিপর্যয়; অর্ধেকের বেশি শিক্ষার্থী ফেল


প্রবাসী অধ্যুষিত সিলেটের বিয়ানীবাজারে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে হতাশার চিত্র ফুটে উঠেছে। উপজেলার ছয়টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের অর্ধেকেরও বেশি অকৃতকার্য হয়েছে। মোট ২ হাজার ২৩৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ১ হাজার ১১২ জন। ফেল করেছে ১ হাজার ১২৪ জন। গড় পাসের হার ৪৯ দশমিক ৭৩ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে মাত্র চারজন।

অন্যদিকে, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে আলিম পরীক্ষায় তুলনামূলক ভালো ফল করেছে উপজেলার শিক্ষার্থীরা। এ পরীক্ষায় ১৮৬ জন অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে ১১৪ জন। পাসের হার ৬০ দশমিক ৯০ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে একজন।

গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার বিয়ানীবাজারের কলেজগুলোর ফলাফল পিছিয়ে পড়ায় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় সচেতন মহলে হতাশা দেখা দিয়েছে। প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী, উপজেলার ছয়টি কলেজের মধ্যে পাসের হারে শীর্ষে রয়েছে বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজ। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ৬২ দশমিক ৪৬ শতাংশ। বিপরীতে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে পাসের হার ৩৫ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে।

বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজ থেকে এবার এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয় ১ হাজার ২৮৪ জন শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে পাস করেছে ৮০২ জন এবং অকৃতকার্য হয়েছে ৪৮২ জন। পাসের হার ৬২ দশমিক ৪৬ শতাংশ। উপজেলার অন্যতম প্রধান এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে চারজন।

বিয়ানীবাজার মহিলা কলেজে ৩১৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে মাত্র ৯৯ জন। অকৃতকার্য হয়েছে ২১৫ জন। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ৩১ দশমিক ৫৩ শতাংশ।

বৈরাগীবাজার কলেজ থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১৪৯ জনের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৬০ জন। ফেল করেছে ৮৯ জন। পাসের হার ৪০ দশমিক ২৭ শতাংশ। পাসের হারের দিক থেকে সরকারি কলেজের পরই রয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

দুবাগ স্কুল অ্যান্ড কলেজে ২০১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ৬২ জন। অকৃতকার্য হয়েছে ১৩৯ জন। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ৩০ দশমিক ৮৫ শতাংশ।

সৈয়দ নবীব আলী কলেজে পরীক্ষার্থী ছিল ২০৮ জন। তাদের মধ্যে ৬৮ জন পাস করেছে এবং ১৪০ জন অকৃতকার্য হয়েছে। পাসের হার ৩২ দশমিক ৬৯ শতাংশ।

অন্যদিকে, বিয়ানীবাজার বালিকা স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ৮০ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করেছে ২১ জন। অকৃতকার্য হয়েছে ৫৯ জন। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ২৬ দশমিক ২৫ শতাংশ।

সব মিলিয়ে ছয়টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ২ হাজার ২৩৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ১ হাজার ১১২ জন। বাকি ১ হাজার ১২৪ জন উত্তীর্ণ হতে পারেনি। সরকারি কলেজের তুলনামূলক ভালো ফলের বিপরীতে অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর নিম্ন পাসের হার উপজেলার শিক্ষার মান, পাঠদান পদ্ধতি ও শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে নতুন করে আলোচনার সুযোগ তৈরি করেছে।

এদিকে, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে বিয়ানীবাজারে একমাত্র আলিম পরীক্ষা কেন্দ্র বিয়ানীবাজার সিনিয়র মাদ্রাসায় ছয়টি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নেয়। মোট ১৮৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ১১৪ জন। পাসের হার ৬০ দশমিক ৯০ শতাংশ।

আলিম পরীক্ষায় উপজেলার মধ্যে একমাত্র জিপিএ-৫ পেয়েছে দাসউরা সিনিয়র মাদ্রাসার একজন শিক্ষার্থী। ফলাফলের দিক থেকে প্রতিষ্ঠানটি উপজেলার মাদ্রাসাগুলোর মধ্যে প্রথম হয়েছে। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বিয়ানীবাজার সিনিয়র কামিল মাদ্রাসা।

আজকের সিলেট/ জেকেএস

সিলেটজুড়ে


মহানগর