সকালে হাঁটার সেরা সময় কখন, কীভাবে শুরু করবেন
বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ১১:২৪ AM

সকালে হাঁটার সেরা সময় কখন, কীভাবে শুরু করবেন

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৮/১০/২০২৬ ০৯:৪৪:২৮ AM

সকালে হাঁটার সেরা সময় কখন, কীভাবে শুরু করবেন


শরীরকে সক্রিয় রাখা ও মন সতেজ রাখতে নিয়মিত হাঁটার অভ্যাস বেশ উপকারী। বিশেষ করে দিনের শুরুতে কিছুটা সময় হাঁটলে শরীরচর্চার পাশাপাশি দিনের কাজেও মনোযোগ বাড়াতে সহায়তা করতে পারে। তবে ঘুম থেকে উঠেই দ্রুত হাঁটা বা দৌড় শুরু করার বদলে নিজের ঘুমের অভ্যাস, শারীরিক সক্ষমতা, আবহাওয়া ও দৈনন্দিন রুটিন বিবেচনা করা জরুরি।

সকালে হাঁটার জন্য সবার ক্ষেত্রে একই সময় আদর্শ নয়। কেউ ভোরের শান্ত পরিবেশে হাঁটতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন, আবার কারও কাছে সূর্য ওঠার পরের সময়টি বেশি আরামদায়ক। তাই নিজের জীবনযাত্রার সঙ্গে মানানসই সময় বেছে নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

নিরিবিলি পরিবেশে হাঁটতে পছন্দ করলে সূর্য ওঠার আগের সময়টি বেছে নেওয়া যেতে পারে। সাধারণত এ সময় রাস্তায় যানবাহনের চাপ কম থাকে এবং চারপাশও তুলনামূলক শান্ত থাকে। এতে অনেকের মানসিক প্রশান্তি আসতে পারে।

তবে খুব ভোরে বাইরে বের হলে নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। পর্যাপ্ত আলো না থাকলে নির্জন রাস্তায় একা হাঁটা এড়িয়ে চলাই ভালো।

যাঁরা খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠতে পারেন না, তাঁদের জন্য সকাল সাড়ে ৬টা থেকে ৮টার মধ্যে হাঁটা সুবিধাজনক হতে পারে। এ সময় সাধারণত পর্যাপ্ত দিনের আলো থাকে এবং অনেক দিনেই তাপমাত্রাও তুলনামূলক সহনীয় থাকে।

সকালের আলো শরীরে ভিটামিন ডি তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে শুধু হাঁটার সময়টুকুকেই ভিটামিন ডি পাওয়ার প্রধান উৎস হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক নয়। প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ভিটামিন ডি গ্রহণের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।

অফিস বা অন্যান্য কাজে বের হওয়ার আগে হাঁটার জন্য নির্দিষ্ট সময় রাখলে নিয়মিত শরীরচর্চার অভ্যাস গড়ে তোলাও সহজ হয়।

রাতে দেরিতে ঘুমানো বা সকালে একটু দেরিতে ঘুম থেকে ওঠার কারণে হাঁটার অভ্যাস বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। খুব ভোরে উঠতে না পারলেও দিনের শুরুতে নিজের সুবিধামতো সময়ে হাঁটা যেতে পারে।

আবার ভোরের ঠান্ডায় যাঁদের অস্বস্তি হয়, তাঁরা কিছুটা রোদ ওঠার পর হাঁটতে পারেন। তবে তাপমাত্রা বেশি থাকলে দীর্ঘ সময় রোদে হাঁটা এড়িয়ে চলা উচিত।

ভারী খাবার খাওয়ার পরপরই দ্রুত হাঁটতে বের হওয়া ঠিক নয়। খাবারের পর কিছুটা সময় অপেক্ষা করে হালকা গতিতে হাঁটা তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক হতে পারে।

ঘুম থেকে ওঠার পর শরীর দীর্ঘ সময় বিশ্রামে থাকে। তাই সরাসরি দ্রুত হাঁটা বা দৌড় শুরু না করে শরীরকে ধীরে ধীরে সক্রিয় করে নেওয়া ভালো। হাঁটার আগে ৫ থেকে ১০ মিনিট হালকা ওয়ার্ম-আপ করা যেতে পারে।

প্রথমে ঘাড় ধীরে ডানে-বাঁয়ে হেলিয়ে কয়েক সেকেন্ড ধরে রাখা যায়। এরপর কাঁধ সামনে ও পেছনে বৃত্তাকারে ঘোরানো যেতে পারে। শরীরের নমনীয়তার জন্য এক হাত মাথার ওপর তুলে শরীর সামান্য বিপরীত দিকে বাঁকানো যায়।

দুই পায়ের পেশি প্রস্তুত করতে এক পা সামনে রেখে হালকা স্ট্রেচ করা যেতে পারে। পাশাপাশি হাঁটার আগে গোড়ালি কিছুক্ষণ ঘোরানোও উপকারী হতে পারে। এতে পায়ের গোড়ালি ও আশপাশের জয়েন্ট নড়াচড়ার জন্য প্রস্তুত হয়।

হাঁটতে বের হওয়ার আগে পর্যাপ্ত পানি পান করা ভালো অভ্যাস। ঘুম থেকে উঠে কিছুটা পানি পান করে ২০ থেকে ৩০ মিনিট পর হাঁটতে বের হওয়া যেতে পারে। তবে শরীরে কতটা পানির প্রয়োজন, তা ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে।

হাঁটার সময় শরীরের বিভিন্ন সংকেতও গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে। মাথা ঘোরা, বুকব্যথা, অস্বাভাবিক শ্বাসকষ্ট কিংবা অতিরিক্ত দুর্বলতা দেখা দিলে হাঁটা বন্ধ করে প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

সবশেষে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো নিয়মিত হাঁটার অভ্যাস তৈরি করা। একদিন অনেকক্ষণ হাঁটার চেয়ে প্রতিদিন নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী হাঁটা বেশি কার্যকর হতে পারে। তাই ঘুম, কাজ ও দৈনন্দিন রুটিনের সঙ্গে মিলিয়ে সুবিধাজনক সময় ঠিক করে হাঁটাকে জীবনের নিয়মিত অংশ করে নেওয়াই ভালো।

আজকের সিলেট/ জেকেএস

সিলেটজুড়ে


মহানগর