সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট ও কমেন্টকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে রাসেল আহমদ শাহ (২৩) নিহত হওয়ার ঘটনায় দুই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের পাঁচ দিন পর বুধবার সুনামগঞ্জ সীমান্ত এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে এসআরবি।
গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মোগলাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ এরশাদুল ইসলাম ভূঁইয়া।
গ্রেপ্তার দুজন হলেন, সিলাম শেখপাড়ার আব্দুল মুকিত মকুর ছেলে ইয়াসির আহমেদ ফাহিম এবং আচার মিয়ার ছেলে আব্দুস সামাদ।
মোগলাবাজার থানার ওসি মোহাম্মদ এরশাদুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, সুনামগঞ্জ থেকে রাসেল আহমদ শাহ হত্যা মামলায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি। তবে গ্রেপ্তার দুজনকে এখনো পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার (২ অক্টোবর) জুমার নামাজের পর দক্ষিণ সুরমার সিলাম চকেরবাজার এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে আগে থেকেই চলমান বিরোধ নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করে। কয়েক দিন আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একটি পোস্ট এবং সেটিতে করা মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বিরোধের সূত্রপাত হয়।
শুক্রবার বিকেলে এ বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষের লোকজন মুখোমুখি হলে প্রথমে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে রাসেল আহমদ শাহ ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হন।
পরে তাকে দ্রুত সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
রাসেলের মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে দুই পক্ষ ইটপাটকেল ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে দক্ষিণ সুরমা ও মোগলাবাজার থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
পরদিন শনিবার (৩ অক্টোবর) ময়নাতদন্ত শেষে রাসেলের দাফন সম্পন্ন হয়। এ ঘটনায় রোববার (৪ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে মোগলাবাজার থানায় হত্যা মামলা করেন নিহতের মা মোছাম্মৎ রাজনা বেগম।
মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
আজকের সিলেট/ জেকেএস









