সুনামগঞ্জে ৪৪৪ মণ্ডপে দুর্গাপূজা, নিরাপত্তায় সিসিটিভি ও বাড়তি নজরদারি
বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৪৯ PM

সুনামগঞ্জে ৪৪৪ মণ্ডপে দুর্গাপূজা, নিরাপত্তায় সিসিটিভি ও বাড়তি নজরদারি

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৩০/০৯/২০২৬ ১১:৪৯:২৫ AM

সুনামগঞ্জে ৪৪৪ মণ্ডপে দুর্গাপূজা, নিরাপত্তায় সিসিটিভি ও বাড়তি নজরদারি


শারদীয় দুর্গোৎসবের ঢাকে কাঠি পড়ার আগেই সুনামগঞ্জজুড়ে শুরু হয়েছে প্রস্তুতির ব্যস্ততা। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসবকে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন করতে জেলার ১২টি উপজেলা ও পৌর এলাকায় এবার ৪৪৪টি মণ্ডপে নেওয়া হচ্ছে নানা প্রস্তুতি। উৎসব ঘিরে ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে তৎপরতা বাড়িয়েছে জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সব পূজামণ্ডপ সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনার পাশাপাশি ‘গুরুত্বপূর্ণ’ মণ্ডপগুলোতে নেওয়া হচ্ছে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছে প্রস্তুতিমূলক সভা। সেখানে পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা, অগ্নিনিরাপত্তা, বিদ্যুৎ ব্যবস্থা, আলোকসজ্জা, দর্শনার্থীদের চলাচল এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করা হয়। উৎসব চলাকালে যাতে নির্বিঘ্নে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান সম্পন্ন করা যায়, সে জন্য সংশ্লিষ্টদের নিজ নিজ দায়িত্ব পালনে প্রস্তুত থাকার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ সূত্রে জানা যায়, এবার সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা ও পৌরসভায় ৫২টি, ছাতক উপজেলা ও পৌরসভায় ৩০টি, জগন্নাথপুর উপজেলা ও পৌরসভায় ৩৯টি, দিরাই উপজেলা ও পৌরসভায় ৭২টি, শান্তিগঞ্জ উপজেলায় ২২টি, জামালগঞ্জ উপজেলায় ৫৫টি, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় ৩১টি, শাল্লা উপজেলায় ৩২টি, তাহিরপুর উপজেলায় ৩১টি, দোয়ারাবাজার উপজেলায় ২৪টি, ধর্মপাশা উপজেলায় ২১টি এবং মধ্যনগর উপজেলায় ৩৫টি মণ্ডপে দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হবে।

এরই মধ্যে এসব মণ্ডপকে ঘিরে নিরাপত্তা পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পূজা কমিটি, স্বেচ্ছাসেবক ও দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিশেষ করে মণ্ডপের ভেতর ও আশপাশের পরিবেশ, দর্শনার্থীদের চলাচল এবং গুরুত্বপূর্ণ সময়ে জনসমাগম ব্যবস্থাপনায় সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, সুনামগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক বিপ্রেশ কুমার রায় বাপ্পী বলেন, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পূজা উদযাপনের জন্য মণ্ডপগুলো সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় থাকবে। পূজা কমিটির সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবকেরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে দায়িত্ব পালন করবেন।

তিনি বলেন, সবার সহযোগিতায় সুন্দর ও উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গোৎসব সম্পন্ন হবে বলে তাঁরা আশা করছেন।

এদিকে দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থাকার কথা জানিয়েছে পুলিশ। সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার এবিএম জাকির হোসেন বলেন, জেলার প্রতিটি পূজামণ্ডপে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

পূজা চলাকালে মণ্ডপ ও আশপাশের এলাকায় নিয়মিত টহলের পাশাপাশি সাদা পোশাকেও পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানান তিনি। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থাকবে বলেও উল্লেখ করেন পুলিশ সুপার।

শারদীয় দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিক সূচনা হবে মহালয়ার মধ্য দিয়ে। আগামী ১০ অক্টোবর মহালয়া অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠী, ১৮ অক্টোবর মহাসপ্তমী, ১৯ অক্টোবর মহাষ্টমী, ২০ অক্টোবর মহানবমী এবং ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমী পালিত হবে।

মহালয়া থেকে শুরু করে বিজয়া দশমী পর্যন্ত সুনামগঞ্জের বিভিন্ন পূজামণ্ডপে থাকবে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, পূজা, অঞ্জলি ও দর্শনার্থীদের সমাগম। ফলে নিরাপত্তার পাশাপাশি বিদ্যুৎ ও অগ্নিনিরাপত্তা, পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা এবং দর্শনার্থীদের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করাকেও গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছে প্রশাসন।

জেলার ৪৪৪টি মণ্ডপে একই সময়ে উৎসবের আবহ তৈরি হলেও প্রতিটি মণ্ডপের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় স্থানীয় পূজা কমিটি, স্বেচ্ছাসেবক এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত ভূমিকার ওপরই নির্ভর করবে উৎসবের সার্বিক পরিবেশ। প্রশাসন ও পূজা উদযাপন পরিষদও সবার সহযোগিতায় শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গোৎসব শেষ করার প্রত্যাশা করছে।

আজকের সিলেট/ জেকেএস

সিলেটজুড়ে


মহানগর