৮ বছরেও মেটেনি সীমানা জট, দ্বৈত ঠিকানার ফাঁদে দুই মৌজা
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:০২ PM

৮ বছরেও মেটেনি সীমানা জট, দ্বৈত ঠিকানার ফাঁদে দুই মৌজা

শায়েস্তাগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৫/০৯/২০২৬ ১১:১৮:২৯ AM

৮ বছরেও মেটেনি সীমানা জট, দ্বৈত ঠিকানার ফাঁদে দুই মৌজা


সরকারি কাগজে তারা এখন শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা। জমির নামজারি করতে গেলে যেতে হয় শায়েস্তাগঞ্জে। খাজনা ও ভূমি উন্নয়ন করও সেখানে দেওয়া যায়। কিন্তু ভোটার তালিকা খুললে ঠিকানা এখনো আগের হবিগঞ্জ সদর উপজেলার নিজামপুর ইউনিয়ন।

এমন প্রশাসনিক জটিলতায় আটকে আছেন হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভার বড়চর ও বাগুনীপাড়া মৌজার বাসিন্দারা। প্রায় আট বছর আগে সরকারি গেজেটে মৌজা দুটি শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার অন্তর্ভুক্ত হলেও জাতীয় পরিচয়পত্র ও ভোটার তালিকায় এখনো পুরোনো ঠিকানাই বহাল রয়েছে।

ফলে একই মানুষের জন্য সরকারি সেবার ঠিকানা এক নয়। একটি সেবার জন্য যেতে হচ্ছে শায়েস্তাগঞ্জে, অন্যটির জন্য ছুটতে হচ্ছে হবিগঞ্জ সদর উপজেলায়। বছরের পর বছর ধরে চলা এই বিভ্রান্তিতে সময় ও অর্থ দুটোই খরচ হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা গঠনের চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশিত হয় ২০১৮ সালের ২৫ জানুয়ারি। ওই গেজেটে হবিগঞ্জ সদর উপজেলার ৯ নম্বর নিজামপুর ইউনিয়নের ১৫২ নম্বর এসএ জেএলভুক্ত বড়চর ও ১৫১ নম্বর এসএ জেএলভুক্ত বাগুনীপাড়া মৌজাকে শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

পৃথক গেজেটে মৌজা দুটিকে নিজামপুর ইউনিয়ন থেকেও বাদ দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়। প্রশাসনিকভাবে এরপর থেকে তাদের ঠিকানা শায়েস্তাগঞ্জ। কিন্তু নির্বাচনী নথিতে সেই পরিবর্তন আসেনি। বড়চর ও বাগুনীপাড়ার বাসিন্দারা এখনো নিজামপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার হিসেবে তালিকাভুক্ত। অর্থাৎ, প্রায় আট বছর আগে প্রশাসনিক সীমানা বদলালেও ভোটার তালিকায় সেই পরিবর্তন কার্যকর হয়নি।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সমস্যাটি শুধু ভোটার তালিকায় ঠিকানা পরিবর্তনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর প্রভাব পড়ছে দৈনন্দিন সরকারি সেবাতেও। ভূমি-সংক্রান্ত কাজে শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের আওতায় সেবা পাওয়া গেলেও জন্মনিবন্ধন, নাগরিক সনদ ও ভোটারসংক্রান্ত বিভিন্ন কাজে তাঁদের যেতে হচ্ছে হবিগঞ্জ সদর উপজেলায়।

একজন নাগরিকের প্রশাসনিক পরিচয় এক জায়গায়, আবার নির্বাচনী পরিচয় অন্য জায়গায় এই অসামঞ্জস্যের কারণে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে কাজ করতে গিয়ে তারা বিভ্রান্তির মুখে পড়ছেন।

স্থানীয়রা জানান, কোনো কাজের জন্য শায়েস্তাগঞ্জে গিয়ে বলা হয়, বিষয়টি হবিগঞ্জ সদরের আওতাধীন। আবার সদর উপজেলায় গেলে তাদের বর্তমান প্রশাসনিক ঠিকানা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। ফলে একটি সাধারণ সেবার কাজ শেষ করতেও অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে।

বীর মুক্তিযোদ্ধা সিদ্দিক আলী বলেন, গেজেট অনুযায়ী তারা শায়েস্তাগঞ্জের বাসিন্দা। অথচ ভোটার তালিকায় এখনো আগের ইউনিয়নের ঠিকানা রয়েছে। দ্রুত সমস্যাটির সমাধান হওয়া দরকার।

আরেক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সহিদ বলেন, গেজেটে যখন দুটি মৌজাকে শায়েস্তাগঞ্জের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, তখন নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকাতেও তার প্রতিফলন থাকা উচিত ছিল। এত বছরেও বিষয়টির সমাধান না হওয়ায় তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন।

বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের নজরেও এসেছে। হবিগঞ্জের জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আনোয়ার মাহমুদ বলেন, বড়চর ও বাগুনীপাড়া মৌজার সুনির্দিষ্ট সীমানা নির্ধারণ করা জরুরি। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসকের কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. জি. এম. সরফরাজ বলেন, জটিলতা নিরসনে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইউএনওকে প্রধান করে তদন্ত ও পর্যালোচনা কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর সীমানা-সংক্রান্ত পরবর্তী কার্যক্রম নেওয়া হবে।

আজকের সিলেট/ডি/এসটি

সিলেটজুড়ে


মহানগর