২৮ বছর পর জোড়াফুল প্রতীক ছাড়া ভোটে তৃণমূল, নাম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা
শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:২৫ PM

২৮ বছর পর জোড়াফুল প্রতীক ছাড়া ভোটে তৃণমূল, নাম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৮/০৯/২০২৬ ০৩:৩৫:৪৬ PM

২৮ বছর পর জোড়াফুল প্রতীক ছাড়া ভোটে তৃণমূল, নাম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা


প্রতিষ্ঠার ২৮ বছর পর পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবার নিজেদের পরিচিত ‘জোড়াফুল’ প্রতীক ছাড়া নির্বাচনে অংশ নিতে হচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেসের দুই গোষ্ঠীকে। নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা আসনের উপনির্বাচনের আগে দলীয় নাম ও প্রতীক ব্যবহারে অন্তর্বর্তী নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ভারতের নির্বাচন কমিশন।

আগামী ৬ অক্টোবর এই দুই আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন দুই পক্ষই প্রার্থী ঘোষণা করলেও আপাতত তাদের আলাদা নাম ও প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে লড়তে হবে।

নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কোনো পক্ষই ‘সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম বা দলের সংরক্ষিত জোড়াফুল প্রতীক ব্যবহার করতে পারবে না। উভয় গোষ্ঠীকে কমিশনের তালিকাভুক্ত মুক্ত প্রতীক থেকে আলাদা প্রতীক বেছে নিতে হবে।

তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠাতা সভানেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বিদ্রোহী নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষ নিজেদের দলটির বৈধ প্রতিনিধি বলে দাবি করে আসছে। দলীয় নিয়ন্ত্রণ, নাম, প্রতীক ও তহবিলের মালিকানা নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধের পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশনে বিষয়টি গড়ায়।

ঋতব্রতপন্থি গোষ্ঠী জোড়াফুল প্রতীক ব্যবহারের দাবি জানিয়ে কমিশনে আবেদন করে। অন্যদিকে মমতাপন্থি শিবিরও দলের নাম ও প্রতীকের ওপর নিজেদের অধিকার দাবি করেছে।

দুই পক্ষের দাবি ও জমা দেওয়া নথি পর্যালোচনার পর কমিশন জানিয়েছে, উপনির্বাচনের আগে কোনো পক্ষকেই ‘আসল তৃণমূল কংগ্রেস’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে না। বিরোধের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত অন্তর্বর্তী এই ব্যবস্থা কার্যকর থাকবে।

নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, দুই গোষ্ঠী নিজেদের জন্য আলাদা নাম নির্ধারণ করতে পারবে। চাইলে সেই নামের সঙ্গে ‘সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’-এর সম্পর্কের উল্লেখ রাখা যাবে।

একইভাবে, উভয় পক্ষকে কমিশনের মুক্ত প্রতীকের তালিকা থেকে আলাদা প্রতীক বেছে নিতে হবে। প্রতীক ও নামসংক্রান্ত এই সিদ্ধান্তকে চূড়ান্ত রায় হিসেবে বিবেচনা করছে না কমিশন। দলীয় নিয়ন্ত্রণ ও প্রতীকের মালিকানা নিয়ে পরবর্তী শুনানি ও প্রক্রিয়ার মাধ্যমে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

১৯৯৮ সালের ১ জানুয়ারি ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে এসে ‘সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ প্রতিষ্ঠা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দলের স্বতন্ত্র পরিচয়ের অংশ হিসেবে জোড়াফুল প্রতীক ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

সবুজ ঘাসের ওপর ফুটে থাকা দুটি ফুলের এই প্রতীক তৃণমূল কংগ্রেসের রাজনৈতিক পরিচিতির সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত। দলের ‘মা-মাটি-মানুষ’ স্লোগান, আন্দোলন ও নির্বাচনী প্রচারে প্রতীকটির ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

তবে নির্বাচন কমিশনের অন্তর্বর্তী সিদ্ধান্তের কারণে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের আসন্ন উপনির্বাচনে তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীকে সেই পরিচিত প্রতীক ছাড়াই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হবে।

আজকের সিলেট/ জেকেএস

সিলেটজুড়ে


মহানগর