ভাষা, সংস্কৃতি, ভূমি ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করাসহ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি ও সংশ্লিষ্ট গেজেট সংশোধনের দাবি জানিয়েছেন হবিগঞ্জের চা শ্রমিকরা।
এসব দাবিতে মাধবপুর উপজেলার পাঁচটি ও চুনারুঘাট উপজেলার ১৮টি চা বাগানে বসবাসরত শ্রমিকদের পক্ষ থেকে হবিগঞ্জ-৪ (মাধবপুর-চুনারুঘাট) আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ মো. ফয়সলের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে।
বুধবার দুপুরে মাধবপুরে সংসদ সদস্যের পরিদর্শন কার্যালয়ে তাঁর হাতে স্মারকলিপি তুলে দেন চা শ্রমিকদের প্রতিনিধিরা।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, ব্রিটিশ শাসনামলে ভারতের বাংলা, বিহার, উড়িষ্যা, আসাম, ঝাড়খণ্ডসহ বিভিন্ন অঞ্চল থেকে নিজেদের ভিটেমাটি ছেড়ে এ অঞ্চলে চা শ্রমিক হিসেবে আসেন তারা। এরপর প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চা উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত থেকে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছেন।
তবে দীর্ঘদিন ধরে চা বাগানে বসবাস ও শ্রম দিয়ে এলেও নিজেদের ভাষা, সংস্কৃতি ও জাতিসত্তার স্বতন্ত্র পরিচয় হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন শ্রমিকরা। এ কারণে নিজেদের অধিকার ও স্বাতন্ত্র্য রক্ষায় সরকারের কার্যকর উদ্যোগ চান তারা।
চা শ্রমিকদের ছয় দফা দাবির মধ্যে রয়েছে ভাষা ও সংস্কৃতির স্বীকৃতি ও সংরক্ষণ, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি, সংশ্লিষ্ট গেজেট সংশোধন, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি, স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা এবং ভূমির অধিকার প্রতিষ্ঠা।
স্মারকলিপিতে চা শ্রমিকদের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি সংরক্ষণের পাশাপাশি শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও স্বাস্থ্যসেবায় সুযোগ বৃদ্ধির দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে ভূমির অধিকার নিশ্চিত করা এবং চা শ্রমিকদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
স্মারকলিপি গ্রহণ করে সংসদ সদস্য সৈয়দ মো. ফয়সল বলেন, চা শ্রমিকরা যেন নিজেদের কৃষ্টি, সংস্কৃতি, ইতিহাস ও ঐতিহ্য নিয়ে বাংলাদেশে সমান সুযোগে সুনাগরিক হিসেবে জীবনযাপন করতে পারেন, সে বিষয়ে আমি জাতীয় সংসদে তাদের অধিকার নিয়ে বক্তব্য রেখেছি।
তিনি বলেন, চা বাগানের শ্রমিকরা দেশের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাদের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়ন এবং মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া দরকার।
চা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাসও দেন সংসদ সদস্য সৈয়দ মো. ফয়সল।
আজকের সিলেট / জেকেএস
মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি 








