রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সিলেট সফর উপলক্ষে আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনায় বিএনপির একাধিক শীর্ষ নেতা অংশ না নেওয়ায় দলটির অভ্যন্তরীণ মতবিরোধ প্রকাশ্যে এসেছে। যথাযথ মূল্যায়ন না পাওয়ার অভিযোগ তুলে জেলা, মহানগর ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ের কয়েকজন নেতা অনুষ্ঠান বয়কট করেছেন বলে বিএনপি সূত্রে জানা গেছে।
এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার বিকেল ৪টায় সিলেট জেলা পরিষদ মিলনায়তনে জরুরি সাংগঠনিক সভা ডেকেছে সিলেট জেলা বিএনপি। এর আগে মঙ্গলবার রাতে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে না যাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে বিবৃতি দেয় সিলেট মহানগর বিএনপি।
মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন ও সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরীর দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়, যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে নাগরিক কমিটি গঠন না করে সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়েছে। একই সঙ্গে আয়োজকদের স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ তুলে তারা অনুষ্ঠানে অংশ নেননি।
স্থানীয় বিএনপি নেতাদের বক্তব্য অনুযায়ী, অনুষ্ঠানটির নাম নাগরিক সংবর্ধনা হলেও এটি কোনো নাগরিক কমিটির মাধ্যমে আয়োজন করা হয়নি। তাদের দাবি, সিলেট সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে অনুষ্ঠানটি হয়েছে এবং পুরো আয়োজন এককভাবে পরিচালিত হয়েছে। এ প্রসঙ্গে তারা সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীকে ইঙ্গিত করেছেন।
নেতাদের অভিযোগ, শুরুতে বিএনপির সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে নাগরিক কমিটি গঠনের কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। সিসিক প্রশাসক এককভাবে অনুষ্ঠান আয়োজন করায় তারা এতে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
তবে সংবর্ধনা বয়কট করলেও রাষ্ট্রপতির সিলেট সফরের অন্যান্য কর্মসূচিতে বিএনপি নেতাদের উপস্থিতি ছিল। বিমানবন্দরে রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানানো এবং হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার জিয়ারতের সময় তারা ছিলেন বলে দলীয় নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন। পরে মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সার্কিট হাউসে গিয়ে মহানগর বিএনপির নেতারা রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশ না নেওয়ার বিষয়টি তাঁকে জানান।
বিএনপি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, অনুষ্ঠানে যথাযথ মূল্যায়ন না পাওয়ার অভিযোগে বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ড. এনামুল হক চৌধুরী, কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য হাদিয়া চৌধুরী মুন্নী, কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও সিলেট ওয়াসার চেয়ারম্যান মিফতাহ সিদ্দিকী, সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীম অংশ নেননি।
এ তালিকায় আরও রয়েছেন সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী এবং জালালাবাদ গ্যাসের পরিচালক বদরুজ্জামান সেলিম।
মঙ্গলবার বিকেল থেকেই এ ঘটনা নিয়ে বিএনপির অভ্যন্তরে ও দলের বাইরে আলোচনা শুরু হয়। একে দলের অভ্যন্তরীণ মতবিরোধের প্রকাশ হিসেবে দেখছেন অনেকে।
মহানগর বিএনপির বিবৃতিতে রাষ্ট্রপতির সফর ও সংবর্ধনা নিয়ে তাদের অবস্থানও স্পষ্ট করা হয়েছে। নাসিম হোসাইন ও ইমদাদ হোসেন চৌধুরী বলেন, রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সম্মানিত ব্যক্তি এবং তাঁর সিলেট আগমনে পুরো সিলেটবাসী আনন্দিত ও উচ্ছ্বসিত হয়েছেন। তাঁদের দাবি, মহানগর বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পয়েন্টে রাষ্ট্রপতিকে বরণ করা হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, রাষ্ট্রপতির সংবর্ধনা নিয়ে মহানগর বিএনপির সঙ্গে সমন্বয় করে নাগরিক কমিটি গঠনের বিষয়ে প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী ও জেলা প্রশাসকের উপস্থিতিতে দুই দফা সভা হয়েছিল। দুই সভাতেই নাগরিক কমিটি গঠনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হলেও সিসিক প্রশাসকের স্বেচ্ছাচারিতার কারণে তা বাস্তবায়িত হয়নি বলে দাবি করেন তারা।
মহানগর বিএনপি আরও জানিয়েছে, সংবর্ধনা শেষে নেতারা সার্কিট হাউসে গিয়ে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করেন এবং অনুষ্ঠানে অংশ না নেওয়ার কারণ তাঁকে অবহিত করেন। একই সঙ্গে দলীয় নেতাকর্মী ও গণমাধ্যমকে এ বিষয়ে বিভ্রান্তি না ছড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
তবে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) তিনি বলেছিলেন, সংবর্ধনার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আমরা নাগরিক সমাজসহ নানা স্তরের নাগরিকদের সাথে কথা বলেছি।
এদিকে বুধবারের সাংগঠনিক সভার জন্য জেলা বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যদের পাশাপাশি জেলার ১৩টি উপজেলা ও ৫টি পৌরসভা বিএনপির ‘সুপার ফাইভ’ সভাপতি, সহসভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, যুগ্ম সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকদের উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে। জেলা বিএনপির সহদপ্তর সম্পাদক মাহবুব আলম স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ আহ্বান জানানো হয়েছে।
আজকের সিলেট/ জেকেএস









