পানির দাবিতে সিসিকিতে বালতি-কলস নিয়ে বিক্ষোভ, ভাঙচুরের মামলায় আটক ৬
শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৫৩ PM

পানির দাবিতে সিসিকিতে বালতি-কলস নিয়ে বিক্ষোভ, ভাঙচুরের মামলায় আটক ৬

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৪/০৯/২০২৬ ০৬:২৭:০১ PM

পানির দাবিতে সিসিকিতে বালতি-কলস নিয়ে বিক্ষোভ, ভাঙচুরের মামলায় আটক ৬


পানির সংকট নিরসনের দাবিতে সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) নগর ভবনে বিক্ষোভ করেছেন জল্লারপার এলাকার বাসিন্দারা। বিক্ষোভের একপর্যায়ে নগর ভবনের ষষ্ঠ তলায় পানি শাখার একটি জানালা ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় ছয়জনকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে সিটি করপোরেশনের নিরাপত্তা শাখা।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর ১২টার মধ্যে নগর ভবনের ষষ্ঠ তলায় এ ঘটনা ঘটে। পরে সরকারি সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি, দাপ্তরিক কাজে বিঘ্ন এবং সেবা নিতে আসা নাগরিকদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টির অভিযোগে পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে এবং ১০ থেকে ১৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে রাতে কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করে সিসিক।

আটক ব্যক্তিরা হলেন নগরের জল্লারপার এলাকার বাসিন্দা মিরাজ, তাহমিদ, তাহের, জুয়েল, রুহান ও মারুফ।

সিসিক সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার সকালে জল্লারপার এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা বালতি, কলস ও মগসহ বিভিন্ন সামগ্রী নিয়ে নগর ভবনে যান। পরে তারা ষষ্ঠ তলায় পানি শাখার সামনে অবস্থান নিয়ে পানির সংকট দূর করার দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। তাদের কাছে ইট-পাটকেলসহ বিভিন্ন সামগ্রী ছিল বলেও দাবি করেছে সিসিক কর্তৃপক্ষ।

বিক্ষোভের সময় ‘অ্যাকশন অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়। খবর পেয়ে সিসিকের সচিব ও প্রধান প্রকৌশলী সেখানে গিয়ে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেন। তারা শান্তিপূর্ণভাবে আলোচনার মাধ্যমে দাবি জানানোর অনুরোধ জানান।

এরপর সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী নগর ভবনে এসে আন্দোলনকারীদের তাঁর কার্যালয়ে গিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের আহ্বান জানান। তবে সিসিকের ভাষ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভকারীরা প্রশাসকের সঙ্গে আলোচনায় না গিয়ে ষষ্ঠ তলায় অবস্থান করে স্লোগান দিতে থাকেন।

একপর্যায়ে পানি শাখার নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তরে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে। এতে নগর ভবনের ষষ্ঠ তলার একটি জানালা ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে জানিয়েছে সিসিক। এ ঘটনার পর নগর ভবনে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয় এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্বাভাবিক দাপ্তরিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়। সেবা নিতে আসা সাধারণ নাগরিকদের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে বলে দাবি কর্তৃপক্ষের।

পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সিসিকের নিরাপত্তা শাখার সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ছয়জনকে আটক করেন। তাদের আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। তবে ভাঙচুর ও হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জল্লারপার এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ এহছানুল হক তাহের। তাঁর দাবি, পানির সংকট নিরসনের দাবিতে তারা শান্তিপূর্ণভাবেই নগর ভবনে গিয়েছিলেন।

মোহাম্মদ এহছানুল হক তাহের বলেন, গত সোমবার এলাকার বাসিন্দারা সিটি করপোরেশনে গিয়ে পানির সংকটের কথা জানিয়েছিলেন। তখন কর্মকর্তারা তিন দিনের মধ্যে পানি সরবরাহ স্বাভাবিক করার আশ্বাস দিয়েছিলেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সমস্যার সমাধান না হওয়ায় বৃহস্পতিবার তারা আবার শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ জানাতে নগর ভবনে যান। তাঁর ভাষ্য, সেখানে কোনো ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেনি এবং অন্যায়ভাবে ছয়জনকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। তিনি দ্রুত তাদের মুক্তির দাবি জানান।

কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি খান মো. মঈনুল জাকির বলেন, সিটি করপোরেশনের ষষ্ঠ তলার জানালা ভাঙচুরের অভিযোগে কর্মচারীরা ছয়জনকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছেন। এ ঘটনায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে এবং ১০ থেকে ১৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে সিসিক এজাহার দিয়েছে। বৃহস্পতিবার থানায় মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। আগামীকাল শুক্রবার তাদের আদালতে পাঠানো হবে।

সিসিকের জনসংযোগ কর্মকর্তা নেহার রঞ্জন পুরকায়স্থ বলেন, ষষ্ঠ তলার জানালা ভাঙচুরের ঘটনায় ছয়জনকে আটক করে পুলিশে দেওয়া হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করা হয়েছে।

সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, দাবি জানানোর একটি প্রক্রিয়া আছে। তারা তাঁর কাছে দাবি জানাতে পারতেন। নগর ভবনের ষষ্ঠ তলায় উঠে বিক্ষোভ ও ভাঙচুর কোনোভাবেই কাম্য নয়।

আজকের সিলেট/ জেকেএস

সিলেটজুড়ে


মহানগর