হাওরের প্রকৃতি আর লোকজ সংস্কৃতির মেলবন্ধনে দিনভর প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছিল শাল্লার নাইন্দ্যা গ্রাম। হারিয়ে যেতে বসা প্রাচীন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে সেখানে আয়োজন করা হয় ‘হাওরে হল্লা’ নামের ব্যতিক্রমী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় গ্রামের হরিগাছ তলায় শুরু হওয়া এ আয়োজন চলে দিনভর।
একাত্তর টিভির সিনিয়র সাব-এডিটর হাসান আহমেদের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানের মূল লক্ষ্য ছিল প্রকৃতির কাছাকাছি থেকে হাওর এলাকার হারিয়ে যাওয়া সাংস্কৃতিক চর্চাকে আবারও প্রাণবন্ত করে তোলা। আয়োজনজুড়ে বিশেষ গুরুত্ব পায় প্রাচীন ঐতিহ্যের গাজীর গান, যাত্রাপালা, ধামাইল, পদ্মপুরাণ পাঠ ও বাউল গান।
শাল্লা উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে আসা স্থানীয় শিল্পীরা এতে অংশ নেন। হাওরের খোলা প্রান্তর ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মধ্যে শিল্পীদের পরিবেশনায় বাউল গান, ধামাইল, পদ্মপুরাণ পাঠ, গাজীর নৃত্য ও যাত্রাপালা উপভোগ করেন উপস্থিত মানুষ। গান ও নৃত্যের সঙ্গে আনন্দ-উচ্ছ্বাসে হাওরের নীরব পরিবেশও হয়ে ওঠে উৎসবমুখর।
দিনব্যাপী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের জন্য দুপুরের খাবারের ব্যবস্থাও ছিল। প্রকৃতির মাঝে এমন আয়োজনকে উপভোগ করেন অনুষ্ঠানে আসা মানুষজন।
আয়োজক হাসান আহমেদ বলেন, ‘আমরা বাঙ্গালীয়ানাকে শহরে এবং হাওরের জায়গাটাকে মিলবন্ধন করতে চাই। বাউলা সংস্কৃতিকে একটা চাপের মুখে রাখা হচ্ছে। তাই আমরা চাই এই সংস্কৃতিকে জাগিয়ে তুলে শহর ও হাওরের মানুষের মাঝে নতুন করে জানান দিতে।’
‘হাওরে হল্লা’ শব্দটির নেতিবাচক অর্থের বিপরীতে ইতিবাচক ভাবনা থেকেই ‘হাওরে হল্লা’ নামটি নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। হাসান আহমেদ বলেন, ‘শুরু করা আসলেই খুব কঠিন, তবে এটাকে ধরে রাখা আরো কঠিন। তবুও আমরা প্রতিবছর ভাদ্র মাসের ১৯ তারিখে এই অনুষ্ঠানটি পালন করার চেষ্টা করবো।’
তার ভাষ্য, কর্মব্যস্ত জীবনের একঘেয়েমি কাটিয়ে মানুষকে প্রকৃতির কাছাকাছি নিয়ে আসার পাশাপাশি হাওরের মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক বন্ধন আরও দৃঢ় করা এবং সাংস্কৃতিক চর্চাকে প্রাণবন্ত করাই ছিল আয়োজনটির মূল উদ্দেশ্য।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন একাত্তর টিভির সিনিয়র সাব-এডিটর হাসান আহমেদ, বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) স্টাফ রিপোর্টার ফখরুল ইসলাম, কালেরকণ্ঠের মাল্ট্রিমিডিয়ার শাল্লা প্রতিনিধি সন্দীপন তালুকদার সুজন, দৈনিক এদিন পত্রিকার উপজেলা প্রতিনিধি শান্ত কুমার তালুকদার, যায়যায় দিনের প্রতিনিধি দিলুয়ার হোসেন, পদাবলী কীর্তনী সুবোধ দাস বাচ্চু, বিপুল রায়, বাউল শিল্পী রথীন্দ্র দাস, রঞ্জন সরকার, জন্মান্ধ বাউল শিল্পী সুশান্ত দাস, শিশু শিল্পী জনার্দন দাস প্রমুখ।
আজকের সিলেট/ জেকেএস
শাল্লা (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি 








