কাদা-পানির দুর্ভোগ পেরিয়ে স্বস্তির পথে ঠাকুরভোগ, নির্মিত দুই সিসি সড়ক
সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:৫০ PM

কাদা-পানির দুর্ভোগ পেরিয়ে স্বস্তির পথে ঠাকুরভোগ, নির্মিত দুই সিসি সড়ক

শান্তিগঞ্জ (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৩১/০৮/২০২৬ ০৩:৩৫:২৫ PM

কাদা-পানির দুর্ভোগ পেরিয়ে স্বস্তির পথে ঠাকুরভোগ, নির্মিত দুই সিসি সড়ক


বর্ষা এলেই যোগাযোগব্যবস্থা কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ত সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম বীরগাঁও ইউনিয়নের দুর্গম গ্রাম ঠাকুরভোগে। সামান্য বৃষ্টিতেই গ্রামের রাস্তাগুলো কাদা-পানিতে তলিয়ে যেত। স্কুলগামী শিশু থেকে শুরু করে বয়োজ্যেষ্ঠ ও অসুস্থ রোগীদের চলাচলে তৈরি হতো চরম ভোগান্তি। বছরের পর বছর এমন দুর্ভোগ সয়ে আসা গ্রামটির চিত্র এখন অনেকটাই বদলে গেছে।

এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এবং নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সুনামগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কয়ছর আহমদের বিশেষ বরাদ্দে ঠাকুরভোগে নির্মিত হয়েছে দুটি সিসি ঢালাই সড়ক। পৃথক বরাদ্দে মোট সাড়ে ১৩ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত সড়ক দুটি স্থানীয়দের যাতায়াতে নতুন স্বস্তি এনেছে।

এর মধ্যে ৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ঠাকুরভোগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত নির্মাণ করা হয়েছে ৬২০ ফুট দীর্ঘ একটি সিসি ঢালাই সড়ক। অন্যদিকে, দুই দফায় বরাদ্দ পাওয়া সাড়ে ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে রজনীগঞ্জ সড়ক থেকে পূর্বপাড়ার বিলাল মিয়ার বাড়ি পর্যন্ত নির্মিত হয়েছে ৮০০ ফুট দীর্ঘ আরেকটি সিসি সড়ক।

নতুন সড়কের সবচেয়ে বড় সুফল পাচ্ছে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। বর্ষায় আগে কাদা-পানি পেরিয়ে বিদ্যালয়ে যেতে গিয়ে অনেক শিক্ষার্থী পিছলে পড়ে যেত। বৃষ্টির দিনে কেউ স্কুলে আসতে চাইত না, আবার কেউ ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় যাতায়াত করত। এখন পাকা সড়ক হওয়ায় সেই দুর্ভোগ অনেকটাই দূর হয়েছে।

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মরিয়ম তালুকদার ও তানিশা জান্নাত বলে, “আগে কাদা-পানির কারণে স্কুলে আসতে পারতাম না। এখন দৌড়ে স্কুলে আসতে পারি।”

ঠাকুরভোগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সমীরণ চন্দ্র দাস বলেন, “আমি যখন এই স্কুলে যোগদান করি, তখন স্কুলে আসার পথে ৫-৬ ফুট জায়গা খুবই কর্দমাক্ত ছিল। জুতা হাতে নিয়ে স্কুলে আসতে হতো। এখন রাস্তা সিসি ঢালাই হওয়ায় আমরা জুতা পায়ে দিয়ে নির্বিঘ্নে স্কুলে আসতে পারি। আগে ছাত্রছাত্রীদের উপস্থিতি অনেক কম ছিল, এখন শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ৯০ শতাংশের ওপরে।”

এদিকে গ্রামের পূর্বপাড়ায় নির্মিত ৮০০ ফুট সড়কটিও বদলে দিয়েছে স্থানীয়দের চলাচলের চিত্র। রজনীগঞ্জ সড়কের সঙ্গে সংযুক্ত হওয়ায় ঠাকুরভোগের পাশাপাশি সাপেরকোনা গ্রামের মানুষও এখন তুলনামূলক স্বাচ্ছন্দ্যে যাতায়াত করতে পারছেন।

তবে দুটি সড়ক নির্মাণে স্বস্তি এলেও যোগাযোগব্যবস্থার আরও উন্নয়নের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের প্রত্যাশা, শান্তিগঞ্জ-রজনীগঞ্জ সড়কটি দ্রুত নির্মাণ করা হলে ঠাকুরভোগ, সাপেরকোনা, শান্তিপুর, টাইলা, দুর্বাকান্দা, দুর্গাপুরসহ পশ্চিম বীরগাঁও ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের সঙ্গে উপজেলা সদরের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ তৈরি হবে।

স্থানীয়দের মতে, শান্তিগঞ্জ-রজনীগঞ্জ সড়ক বাস্তবায়িত হলে যোগাযোগের পাশাপাশি শিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

দীর্ঘদিনের কাদা-পানির দুর্ভোগ কাটিয়ে ঠাকুরভোগে নির্মিত দুটি সিসি সড়ক তাই এখন শুধু চলাচলের পথ নয়, গ্রামবাসীর কাছে স্বস্তি ও পরিবর্তনের প্রতীক হয়ে উঠেছে।

আজকের সিলেট/ জেকেএস

সিলেটজুড়ে


মহানগর