সিলভার ভিলেজে বাড়ছে অপরাধ, বিক্রি হয় মাদকও
সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ০১:৫৪ PM

সিলভার ভিলেজে বাড়ছে অপরাধ, বিক্রি হয় মাদকও

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩১/০৮/২০২৬ ১১:২৫:৩৯ AM

সিলভার ভিলেজে বাড়ছে অপরাধ, বিক্রি হয় মাদকও


নগরীর শিববাড়ি এলাকার সিলভার ভিলেজ আবাসিক এলাকা অপরাধীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। পরিকিল্পিত এই আবাসনে মাদক বিক্রির অভিযোগও পাওয়া গেছে। ফলে একদিকে যেমন বিপতগামী হচ্ছে যুবসমাজ, অন্য দিকে বাড়ছে অপরাধ। মাদক বেচাকেনা, চুরি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধের ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ ও আতঙ্কে রয়েছেন এখানকার বাসিন্ধারা। সবকিছু চোখের সামনে ঘটলেও কোন ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পান না। এমনকি একজন পুলিশ সদষ্যের এক আত্মীয়ও এই আবাসনে ছিনতাইয়ের শিকার হলেও অপরাধীরা বার বার রয়ে যাচ্ছে ধরাছোয়ার বাহিরে।

স্থানীয় বাসিন্ধারা জানিয়েছেন, শত শত পরিবারের বসবাসের এ আবাসিক এলাকা দিন দিন বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। এই এলাকার অপরাধ সম্রাজ্যের নেপথ্যে রয়েছেন স্থানীয় প্রভাবশালী ছয়ফুর রহমান লিটন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘ দিন থেকে নিজের অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য সিলভার ভিলেজের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে মরিয়া হয়ে উঠেন এই লিটন। একসময় সিলভার ভিলেজ উন্নয়ন পরিষদের অর্থ সম্পাদকের পদও ভাগিয়ে নেন। এর পর আর তাকে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। ধীরে ধীরে গড়ে তুলেন অপরাধের সিন্ডিকেট। কিন্তু সংস্থাটির অর্থ তছরুপসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও অপরাধে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগে তাকে ওই পদ থেকে সরিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা দিলাল উদ্দিন আহমদকে অর্থ সম্পাদকের দায়িত্ব দেন স্থানীয় বাসিন্ধারা। এরপর থেকেই লিটন নিজের সম্রাজ্যে ভাটা পড়ার আশঙ্কায় বেপরোয়া হয়ে উঠেন।

অভিযোগ রয়েছে, লিটন সিন্ডিকেট আবাসিক এলাকায় বাসাবাড়ি নির্মাণে আসা ব্যক্তিদের কাছ থেকে বিভিন্ন অযুহাতে চাঁদা আদায় করা হতো। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে নির্মাণসামগ্রী পরিবহনে বাধা দেওয়া এবং প্রতিবাদ করলে বহিরাগত সন্ত্রাসীদের দিয়ে হামলা চালানোর অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব ঘটনায়  নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে অনেক ভুক্তভোগী আইনগত ব্যবস্থা নিতে সাহস পাননি বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিভিন্ন সময়ে অভিযান পরিচালনা করলেও অপরাধ কর্মকাণ্ড পুরোপুরি বন্ধ হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

সর্বশেষ গত ১৬ জুলাই রাত আনুমানিক ১০টার দিকে দক্ষিণ সুরমা থানার কদমতলী ফাঁড়ির পুলিশ সিলভার ভিলেজের ২ নম্বর সড়কে অভিযান চালায়। এ সময় একটি সিএনজি অটোরিকশাসহ দুই ব্যক্তি ও চালককে গাঁজা ও ইয়াবাসহ আটক করা হয়। পরে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করে ১৭ জুলাই আদালতে পাঠানো হয়। তবে অভিযোগ রয়েছে এর নেপথ্যে ছিলেন লিটন।

সিলভার ভিলেজ উন্নয়ন পরিষদের সাবেক সভাপতি শাহজাহান খান বলেন, এলাকায় মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধ বেড়েছে। বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সেক্রেটারি এ বিষয়ে কোনো ভূমিকা পালন করছেন না।

অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তাঁরা এলাকার সামাজিক পরিবেশ বিনষ্ট করে রেখেছেন।

এদিকে স্থানীয়দের আনা অভিযোগের বিষয়ে ছয়ফুর রহমান লিটনের বক্তব্য জানতে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ব্যস্ত আছেন জানিয়ে এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে এসএমপির অতিরিক্ত উপ কমিশনার (মিডিয়া) মঞ্জুরুল আলম বলেন, মদক সহ সকল অপরাধের বিরুদ্ধে এসএমপি জিরো ট্ররারেন্স ঘোষনা করেছে। এই আসানে ইতিমধ্যে অভিযান পরিচালিত হয়েছে। মাদক সহ সকল অপরাধ নির্মূলে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

এসটি/জেকেএস

সিলেটজুড়ে


মহানগর