সিলেটের কৃষির সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে উৎপাদনশীলতা বাড়াতে হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী
শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:১৮ PM

সিলেটের কৃষির সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে উৎপাদনশীলতা বাড়াতে হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৫/০৮/২০২৬ ০৭:২৩:০৩ PM

সিলেটের কৃষির সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে উৎপাদনশীলতা বাড়াতে হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী


বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, এমপি, বলেছেন, সিলেট অঞ্চলের কৃষির অপার সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে পতিত ও এক ফসলি জমিকে আবাদে আনা, জলাবদ্ধতা নিরসন, সেচ সুবিধা সম্প্রসারণ এবং নতুন ও অপ্রচলিত কৃষিপণ্যের চাষ বাড়াতে হবে। কৃষিজমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে উৎপাদনশীলতা ও কৃষকের আয় বাড়ানোই আগামী দিনের অন্যতম লক্ষ্য হওয়া উচিত। 

শনিবার সিলেট নগরীর হোটেল মেট্রোর কনফারেন্স রুমে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর আয়োজিত ‘আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে সিলেট অঞ্চলের কৃষি উন্নয়ন প্রকল্প’-এর আওতায় ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে জেলা পর্যায়ে বার্ষিক কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন ও বিগত বছরের বাস্তবায়ন মূল্যায়ন বিষয়ক জেলা কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, সিলেট অঞ্চলে এখনো উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পতিত ও এক ফসলি জমি রয়েছে। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে হাওর ও নিম্নাঞ্চলে বছরের একটি নির্দিষ্ট সময়ে পানি জমে থাকে। এসব এলাকার পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা গেলে অনেক জমি আবাদে আনা সম্ভব হবে। একইভাবে সেচের অভাবে যেসব জমি বছরের একটি নির্দিষ্ট সময়ে অনাবাদি থাকে, সেখানে সেচ সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে এক ফসলি জমিকে দুই ফসলি এবং দুই ফসলি জমিকে তিন ফসলি জমিতে রূপান্তর করা সম্ভব। জলাবদ্ধতার পানি নিষ্কাশন এবং শুষ্ক মৌসুমে সেচের পানি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে খাল খনন একটি কার্যকর সমাধান হতে পারে। তিনি সিলেটে তরমুজ চাষের সাফল্যকে নতুন ও অপ্রচলিত কৃষিপণ্যের সম্ভাবনার উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, আগাম তরমুজ উৎপাদনের মাধ্যমে সিলেটের কৃষকরা দেশের বাজারে বিশেষ সুবিধা পাচ্ছেন।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, সিলেটের মৌলভীবাজার ও শ্রীমঙ্গলসহ শীতপ্রবণ এলাকায় বিট চাষের সম্ভাবনা যাচাই করা যেতে পারে। স্বল্প সময়ে বিট উৎপাদন করা সম্ভব হওয়ায় একই জমিতে এর পাশাপাশি অন্য ফসলও চাষের সুযোগ রয়েছে। এ ধরনের কৃষিপণ্যের সম্ভাবনা যাচাইয়ে পাইলট প্রকল্প গ্রহণ করা প্রয়োজন। সিলেট বিভাগের কৃষি ও প্রাণিসম্পদে ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা, এলাকাভিত্তিক প্রকল্প গ্রহণ, কৃষকদের প্রশিক্ষণ, কৃষি উপকরণ সরবরাহ ও সরকারি সহযোগিতার বিষয় নিয়ে আগামী সপ্তাহে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও কৃষি সচিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে সিলেটে বিশেষ কর্মসূচি আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান। তিনি বলেন, শিল্প ও অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি দেশের গ্রামীণ জনপদে কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বড় অংশ কৃষিনির্ভর। তাই প্রতিটি কৃষিজমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে সর্বোচ্চ উৎপাদন ও রিটার্ন নিশ্চিত করতে হবে। উৎপাদনশীলতা বাড়াতে পারলে দেশের সামগ্রিক খাদ্য উৎপাদন বহুগুণ বৃদ্ধি করা সম্ভব এবং বাংলাদেশকে ভবিষ্যতে খাদ্য, বিশেষ করে চালের ক্ষেত্রে আরও শক্তিশালী উৎপাদনকারী ও রপ্তানিকারক দেশে পরিণত করার সুযোগ রয়েছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, নতুন ফসলে ঝুঁকি নিয়ে চাষাবাদ করা কৃষকরাই কৃষির নতুন সম্ভাবনার পথ দেখাচ্ছেন। তরমুজ, পেঁয়াজসহ নতুন ফসল চাষে যারা ঝুঁকি নিয়েছেন, তারা সাহসী কৃষক এবং তাদের দেখানো পথে সিলেটের কৃষিকে এগিয়ে নিতে হবে। কৃষকদের প্রশিক্ষণ, আধুনিক প্রযুক্তির সম্প্রসারণ, কৃষি উপকরণ সরবরাহ এবং এলাকাভিত্তিক পরিকল্পনার মাধ্যমে সিলেটের কৃষির সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান তিনি।

সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার মো. মশিউর রহমানের সভাপতিত্বে কর্মশালায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক ড. মো. মোশাররফ হোসেন, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেট জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, সিলেট রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির ভাইস চেয়ারম্যান বদরুজ্জামান সেলিম, সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী, প্রকল্প পরিচালক মো. রাকিব উদ্দিনসহ সিলেট বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তা, কৃষক ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

আজকের সিলেট/এপি

সিলেটজুড়ে


মহানগর