হাসপাতালের ফটকের সামনে ময়লার ভাগাড়, দুর্গন্ধে দুর্ভোগে নবীগঞ্জবাসী
শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৫০ PM

হাসপাতালের ফটকের সামনে ময়লার ভাগাড়, দুর্গন্ধে দুর্ভোগে নবীগঞ্জবাসী

নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৩/১০/২০২৬ ০১:৫২:২০ PM

হাসপাতালের ফটকের সামনে ময়লার ভাগাড়, দুর্গন্ধে দুর্ভোগে নবীগঞ্জবাসী


হাসপাতালে মানুষ আসে চিকিৎসা ও স্বস্তির আশায়। অথচ হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান ফটকের সামনে দাঁড়ালেই মিলছে ভিন্ন এক অভিজ্ঞতা। ফটকের অদূরে খালে জমে আছে ময়লা-আবর্জনা। পচা বর্জ্যের দুর্গন্ধে নাক-মুখ চেপে চলাচল করতে হচ্ছে রোগী, স্বজন, পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের। সঙ্গে রয়েছে মশা-মাছির উপদ্রব। এতে হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠানের সামনে জনস্বাস্থ্য নিয়ে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ।

স্থানীয়দের প্রশ্ন এটি কি হাসপাতাল এলাকা, নাকি ময়লার ভাগাড়?

সরেজমিনে দেখা যায়, হবিগঞ্জ-নবীগঞ্জ সড়কের পাশে অবস্থিত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান ফটকের সামনেই খালের মধ্যে ময়লার স্তূপ। আবর্জনার একাংশ পচে যাওয়ায় চারপাশে ছড়িয়ে পড়েছে তীব্র দুর্গন্ধ।

হাসপাতালে আসা রোগী ও স্বজনদের পাশাপাশি প্রতিদিন এ পথ ব্যবহার করেন বিপুলসংখ্যক পথচারী। দুর্গন্ধের কারণে অনেককেই ওই এলাকা পার হওয়ার সময় নাক-মুখ চেপে রাখতে দেখা যায়।

শুধু হাসপাতাল নয়, আশপাশের এলাকাটিও ব্যস্ত। রয়েছে বাস ও সিএনজি স্ট্যান্ড, ফার্মেসি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও আবাসিক এলাকা। ফলে সড়কের পাশে দীর্ঘদিন ধরে বর্জ্য জমে থাকায় এর প্রভাব পড়ছে বিস্তৃত এলাকার মানুষের ওপর।

স্থানীয়দের অভিযোগ, হাসপাতালের প্রধান ফটকের সামনে এমন পরিবেশ রোগী ও স্বজনদের জন্য বাড়তি দুর্ভোগ তৈরি করছে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও শ্বাসতন্ত্রের সমস্যায় থাকা ব্যক্তিদের জন্য দুর্গন্ধ আরও বেশি অস্বস্তিকর হয়ে উঠছে।

শচীন্দ্র কলেজের শিক্ষার্থী তারিন আক্তার বলেন, ‘সিএনজিতে করে নিয়মিত যাতায়াত করি। হাসপাতালের সামনে এলেই তীব্র দুর্গন্ধে অস্বস্তি হয়। প্রতিদিন শিক্ষার্থীসহ অসংখ্য মানুষকে এ দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।’

ব্যবসায়িক কাজে নিয়মিত নবীগঞ্জ থেকে হবিগঞ্জে যাতায়াতকারী ইমন মিয়াও একই ধরনের দুর্ভোগের কথা জানিয়েছেন। তিনি শ্বাসকষ্টের সমস্যায় ভুগছেন উল্লেখ করে বলেন, হাসপাতালের সামনের ময়লার দুর্গন্ধের জায়গাটি পার হওয়ার সময় তার শ্বাস নিতে অস্বস্তি হয়।

হাসপাতালের সামনের সিএনজি স্ট্যান্ডে দীর্ঘ সময় অবস্থান করতে হয় চালকদের। স্থানীয় সিএনজি শ্রমিকদের অভিযোগ, ময়লার দুর্গন্ধের কারণে চালক ও যাত্রী দুই পক্ষকেই বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে।

বাস শ্রমিকরাও একই সমস্যার কথা জানিয়েছেন। তাদের ভাষ্য, গুরুত্বপূর্ণ সড়কের পাশে এবং হাসপাতালের প্রবেশপথের কাছাকাছি এভাবে বর্জ্য পড়ে থাকায় স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা চৌধুরী ফয়সাল সোয়েব বলেন, ময়লা-আবর্জনা ও দুর্গন্ধের কারণে এলাকার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। বিষয়টি নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হলেও দৃশ্যমান পরিবর্তন হয়নি। ময়লা জমে থাকায় মশা-মাছির উপদ্রবসহ নানা রোগের আশঙ্কাও রয়েছে।

নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আব্দুস সামাদ বলেন, হাসপাতালের সামনে ময়লা ফেলার কারণে রোগী, স্বজন ও হাসপাতালের কর্মীদের দুর্ভোগ হচ্ছে।

তিনি বলেন, প্রশাসনিক বিভিন্ন সভায় বিষয়টি পৌর কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং হাসপাতালের সামনে ময়লা না ফেলতে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে। তবে এখনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

অর্থাৎ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের জানানো হলেও ময়লা জমে থাকার সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি এমন অভিযোগই উঠে এসেছে।

তবে নবীগঞ্জ পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা আয়েশা বেগম বলেন, বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে। পৌর পশুর হাটের পাশে সরকারি খাসজমিতে বর্জ্য ফেলার ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তার ভাষ্য, সেখানে রাস্তার কাজ শেষ হলে ওই স্থানে বর্জ্য ফেলা হবে।

বর্তমানে হাসপাতালের সামনে ময়লা ফেলা হচ্ছে না বলেও দাবি করেন তিনি। তবে দুদিন আগেও ওই স্থানে ময়লা ফেলতে দেখা গেছে এমন তথ্য জানানো হলে নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, বিষয়টি তার জানা নেই।

হাসপাতালের মতো জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠানের প্রধান ফটকের সামনে ময়লার স্তূপ পড়ে থাকা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দুটোই রয়েছে। তাদের দাবি, শুধু নতুন করে বর্জ্য ফেলার জায়গার আশ্বাস দিলেই সমস্যার সমাধান হবে না; বর্তমানে জমে থাকা বর্জ্য দ্রুত অপসারণের পাশাপাশি নির্দিষ্ট স্থানে বর্জ্য ফেলার ব্যবস্থা কার্যকর করতে হবে।

তাদের মতে, নিয়মিত তদারকি না থাকলে একই পরিস্থিতি আবারও তৈরি হতে পারে। তাই হাসপাতাল, সড়ক, বাস ও সিএনজি স্ট্যান্ড এবং আশপাশের আবাসিক এলাকার মানুষের কথা বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।

চিকিৎসা নিতে এসে যেন রোগীকে দুর্গন্ধের সঙ্গে লড়তে না হয়, আর হাসপাতালের প্রধান ফটক যেন ময়লার স্তূপের পরিচয়ে না দাঁড়ায়—এটাই এখন স্থানীয়দের প্রত্যাশা।

আজকের সিলেট/ জেকেএস

সিলেটজুড়ে


মহানগর