দিন-রাত সমানতালে লোডশেডিং, অসহনীয় ভোগান্তিতে সিলেটবাসী
সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:৪৫ PM

দিন-রাত সমানতালে লোডশেডিং, অসহনীয় ভোগান্তিতে সিলেটবাসী

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১০/০৮/২০২৬ ০৩:২৫:৪৬ PM

দিন-রাত সমানতালে লোডশেডিং, অসহনীয় ভোগান্তিতে সিলেটবাসী


সিলেটে আবারও বেড়েছে ঘনঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট। গত কয়েকদিন ধরে দিন-রাত সমানতালে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং হচ্ছে। কোনো কোনো এলাকায় এক ঘণ্টা পরপর এক ঘণ্টা, আবার কোথাও টানা দুই ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না বলে অভিযোগ করেছেন নগরবাসী। এতে তীব্র গরমের মধ্যে দুর্ভোগ বেড়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বিদ্যুৎ না থাকায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন শিশু ও বয়স্করা। বাসাবাড়ির পাশাপাশি দোকানপাট, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও অফিসের কার্যক্রমেও ব্যাঘাত ঘটছে। অনলাইনে কাজ করা ব্যক্তি ও শিক্ষার্থীদেরও নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।

নগরীর বাগবাড়ি এতিম স্কুল রোডের বাসিন্দা রাতুল বলেন, দিনে এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকলেও পরের ঘণ্টা ২ ঘণ্টা  থাকে না। দিন রাতে যে কতবার যে বিদ্যুৎ চলে যায় তার কোনো ঠিক নাই। দিনে নেয় ত নেয় রাতে ১০টা, ১টা কিংবা ২টায় বিদ্যুৎ নিয়ে নেয়। এতে করে স্কুল কলেজ শিক্ষার্থী ও শিশুর বেশি কষ্ট হয়।

তিনি আরও বলেন, রাতে তীব্র গরমের জন্য ঘুমতে পারি না, সকালে ঠিক সময় মতো অফিস করতে পারি না।

জিন্দাবাজার এলাকার এশিয়া ইন্টারন্যাশনাল মার্কেটের ব্যবসায়ীরা বলেন, তাদের মার্কেট এলাকায় সবচেয়ে বেশি বিদ্যুৎ থাকে না। বিদ্যুৎ না থাকায় দোকানে ক্রেতাও আসে না। প্রায় এক ঘণ্টা পর বিদ্যুৎ আসে, আবার কখনো দুই ঘণ্টাও চলে যায়। এ সময় তাদের খুব কষ্ট করতে হয়।

কেওয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা সুমন আহমদ বলেন, এক ঘণ্টা পরপর লোডশেডিং হচ্ছে। কখনো কখনো এক ঘণ্টা পরপর দুই ঘণ্টা করেও বিদ্যুৎ থাকছে না। দিন-রাত সমানতালে লোডশেডিংয়ের কারণে অসহনীয় পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে রাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তিদের বেশি ভোগান্তি হচ্ছে।

পাঠানটুলা এলাকার বাসিন্দা আল-আমিন বলেন, কোনো ধরনের পূর্বঘোষণা ছাড়াই গভীর রাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। বিদ্যুৎ বিভাগের যাচ্ছেতাই অবস্থার কারণে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে।

সিলেটে বিদ্যুৎ সরবরাহের এই সংকট অবশ্য নতুন নয়। গত এক বছর ধরে বিভিন্ন সময়ে চাহিদার তুলনায় কম সরবরাহ পাওয়ায় লোডশেডিং হয়েছে। গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদার তুলনায় কম বিদ্যুৎ পাওয়ায় দিনে ও রাতে একাধিকবার লোডশেডিং করা হয়। অক্টোবরেও ঘনঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে ভোগান্তি বাড়ে।

চলতি বছরের এপ্রিলেও সিলেটে বিদ্যুৎ সংকট দেখা দিয়েছিল। সে সময় চাহিদার তুলনায় সরবরাহে প্রায় ৩৫ শতাংশ ঘাটতি ছিল। ফলে প্রায় এক ঘণ্টা পরপর লোডশেডিং হচ্ছিল। তখন বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) জানিয়েছিল, জ্বালানি সংকট, জাতীয় গ্রিড থেকে কম সরবরাহ এবং কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে উৎপাদন কমে যাওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। জুনেও সংকট অব্যাহত ছিল। ওই সময় সিলেট অঞ্চলে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ২৩২ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ পাওয়া যায় ১৪৮ মেগাওয়াট। অর্থাৎ তখন ঘাটতি ছিল ৮৪ মেগাওয়াট।

সর্বশেষ আগস্টেও সেই সংকট কাটেনি। বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদার তুলনায় কম সরবরাহ পাওয়ায় বিভিন্ন এলাকায় বারবার লোডশেডিং করতে হচ্ছে।

সিলেট বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী ইমাম হোসেন বলেন, রোববার সিলেট বিভাগের পিডিবির আওতাধীন এলাকায় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ২৩৩ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ পাওয়া গেছে ১৭৭ মেগাওয়াট। ফলে বিভাগজুড়ে ৫৬ মেগাওয়াট বিদ্যুতের ঘাটতি ছিল।

তিনি বলেন, আগামী কয়েক দিন এ পরিস্থিতি চলমান থাকবে কি না, তা সঠিকভাবে বলা যাচ্ছে না। তবে জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ বাড়লে লোডশেডিংয়ের মাত্রা অনেকাংশে কমে আসবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

তবে জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ কখন বাড়বে বা বিদ্যুৎ বিভ্রাটের এই পরিস্থিতি কবে পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারেননি বিদ্যুৎ বিভাগের এই কর্মকর্তা।

এদিকে ঘনঘন লোডশেডিংয়ের কারণে নগরবাসীর মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। তাদের দাবি, বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেবে এবং লোডশেডিংয়ের ক্ষেত্রে অন্তত পূর্বঘোষণা দেওয়া হবে।


আজকের সিলেট/ জেকেএস

সিলেটজুড়ে


মহানগর