ওসমানী বিমানবন্দর প্রকল্প : ৫ বছরেও ক্ষতিপূরণ পাননি জমির মালিকেরা
শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬, ০৯:৪৬ PM

ওসমানী বিমানবন্দর প্রকল্প : ৫ বছরেও ক্ষতিপূরণ পাননি জমির মালিকেরা

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৫/০৫/২০২৬ ০৯:৩৯:৪৩ AM

ওসমানী বিমানবন্দর প্রকল্প : ৫ বছরেও ক্ষতিপূরণ পাননি জমির মালিকেরা


সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তাবেষ্টনী ও নিরাপত্তা টহল সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের জন্য ২০২০ সালের ডিসেম্বরে প্রায় ১৫১ একর জমি অধিগ্রহণ করতে নোটিশ দেয় কর্তৃপক্ষ। দীর্ঘ ৫ বছরের অধিক সময় পার হলেও এখনো ক্ষতিপূরণের টাকা বুঝে পাননি জমির মালিকেরা। অধিগ্রহণের নোটিশ জারি হওয়ায় জমি কেনাবেচা বা খাজনাও দিতে পারছেন না মালিকেরা। ক্ষতিপূরণ না পাওয়ায় তারা নতুন ঠিকানায়ও যেতে পারছেন না। এছাড়া সন্তানদের বিয়ে, গৃহ নির্মাণ বা বিদেশে যাওয়ার মতো জরুরি পারিবারিক প্রয়োজনগুলো মেটানো সম্ভব হচ্ছে না।

ক্ষতিপূরণের টাকার জন্য পাঁচ বছরের অধিক সময় ধরে সিলেট জেলা প্রশাসন, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকার ধরনা দিয়েও কোনো সুরাহা পাননি। ভুক্তভোগীরা একত্র হয়ে একাধিকবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়েছেন। বিভিন্ন সময় কর্মসূচি পালন করেছেন। কিন্তু তাতেও কোনো অগ্রগতি হচ্ছে না। প্রশাসন থেকে শুধু সময় নেওয়া হচ্ছে। একেকবার একেক ধরনের কথা বলছে। বিষয়টি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কাগজের জন্য আটকে আছে বলে জানাচ্ছে জেলা প্রশাসন। আবার বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে জেলা প্রশাসন বিষয়টি দেখছে।

গত বৃহস্পতিবার দুপুরে জমি অধিগ্রহণের বিষয়টির সবশেষ অবস্থা জানতে সিলেটের জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে যান সদর উপজেলার জমির কয়েকজন মালিক।

এসময় তারা অভিযোগ করে বলেন, আমাদের ঘরবাড়িসহ জমি অধিগ্রহণের আওতায় পড়েছে, পাঁচ বছর ধরে মেরামত বা সংস্কার করতে পারছেন না। অন্যদিকে ক্ষতিপূরণের টাকাও পাওয়া যাচ্ছে না। টাকা পেলে তারা নতুন জায়গায় স্থায়ী হতে পারতেন।

ভুক্তভোগী শায়েস্তা মিয়া বলেন, অধিগ্রহণের পর থেকে আজ পর্যন্ত আমাদের ক্ষতিপূরণের টাকা দেওয়া হচ্ছে না বা অধিগ্রহণ বাতিল করা হচ্ছে না। ফলে কোনো কিছু মেরামত করতে পারছি না। কিছুদিন পরপর দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের কার্যালয়েও এসেও কোনো সদুত্তর পাচ্ছি না। এমনকি কর্মকর্তাদের সাথে দেখা করতে হলে ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করেও দেখা মিলে না।

সদর উপজেলার ভুক্তভোগী বুলবুল মিয়া বলেন, সাবেক জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শের মাহবুব মুরাদ থাকাকালীন সময়ে আমাদেরকে দুই মাসের মধ্যে সাত ধারা নোটিশের ব্যবস্থা করে দিচ্ছেন বলে জানিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি বদলি হয়ে গেলেও আমাদের আর কোনো নোটিশ দেয়া হয়নি। আজ এখানে আসার পর জানতে পেরেছি সিভিল এভিয়েশনের কর্মকর্তার স্বাক্ষরও হয়নি। স্বাক্ষর হয়ে গেলে বাকি কার্যক্রম শুরু হবে বলে আমাদেরকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এই আশ্বাস আজ ৬ বছর ধরে আমরা পেয়ে আসছি।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তাবেষ্টনী ও নিরাপত্তা টহল সড়ক নির্মাণ’ প্রকল্পের জন্য ২০২০ সালের ডিসেম্বরে ১৫১ একর জায়গা অধিগ্রহণের জন্য নোটিশ জারি করে জেলা প্রশাসন। স্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ ও হুকুমদখল আইন ২০১৭ (২০১৭ সালের ২১ নম্বর আইন)–এর ৪ ধারা অনুযায়ী এ নোটিশ জারি করা হয়। এ নোটিশ জারির প্রকল্প এলাকার কোনো জমি বেচাকেনা বন্ধ হয়ে যায়।

ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক হাফিজ আহমেদ বলেন, বিষয়টি সিভিল এভিয়েশনের প্রশাসন শাখা জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে তদারকি করছে। জেলা প্রশাসন থেকে আজ আমাদের কাছে পরিচালকের (প্রশাসন) একটি অথেন্টিকেশন ফাইল পাঠানো হয়েছে। আমরা সেটা প্রধান কার্যালয়ে পাঠিয়েছি। আশা করা যাচ্ছে আগামী রবিবার বা সোমবারের মধ্যে এই ফাইলটি অনুমোদিত হয়ে ফিরে আসবে। এরপর পরবর্তী কার্যক্রম শুরু হবে।

সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো.নুরের জামান চৌধুরী বলেন, একাধিকবার প্রস্তাব পরিবর্তন করায় প্রক্রিয়া দীর্ঘ হয়ে গেছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে বিষয়টি সমাধান হয়ে যাবে।

আজকের সিলেট/ডি/এসটি

সিলেটজুড়ে


মহানগর