সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৪৭ অপরাহ্ন

‘প্রয়োজনে ক্রসফায়ারও করব’, আইনশৃঙ্খলা নিয়ে আইজিপির মন্তব্য

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৬/১০/২০২৬ ০২:৪০:৩৪ অপরাহ্ন

‘প্রয়োজনে ক্রসফায়ারও করব’, আইনশৃঙ্খলা নিয়ে আইজিপির মন্তব্য


আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ দমনে সরকার অনুমতি দিলে এবং প্রয়োজন হলে পুলিশ ক্রসফায়ার করতেও পিছপা হবে না বলে মন্তব্য করেছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। তাঁর ভাষ্য, পুলিশ কঠোর হলে ‘ফ্যাসিস্ট পুলিশ’ আর নীরব থাকলে ‘দুর্বল পুলিশ’ বলে সমালোচনা করা হয়। সোমবার সকালে রাজধানীর চকবাজারের শাহজাহান ইমাম টাওয়ারে কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির ইসলামিক ব্যাংকিং সেবা ‘কমিউনিটি ইসলামিক’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের প্রতিপাদ্য ছিল ‘ব্যাংকিং খাতে নৈতিকতা ও স্বচ্ছতার তাগিদ’।

আইজিপি বলেন, পাড়া-মহল্লায় মাদকের বিস্তার ঠেকাতে পুলিশ শূন্য সহনশীলতার নীতিতে কাজ করছে। পুলিশকে অকার্যকর করার চেষ্টা বরদাশত করা হবে না বলেও সতর্ক করেন তিনি।

তিনি বলেন, পুলিশ সদস্যদের কেউ অপরাধে জড়ালে তাঁদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পুলিশের নিজস্ব জবাবদিহি ও নজরদারির ব্যবস্থা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বারবার পুলিশের ওপর চড়াও হওয়া বা বাহিনীকে অকার্যকর করার চেষ্টা চলতে থাকলে সমাজব্যবস্থা টিকিয়ে রাখা কঠিন হবে।

আইজিপি আরও বলেন, “আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ দমনে সরকার যদি অনুমতি দেয় এবং প্রয়োজন হয়, তবে আমরা ক্রসফায়ারও করবো।” পুলিশকে দায়িত্ব পালনের ক্ষমতা ও আইন প্রয়োগের সুযোগ না দিলে সমাজে শান্তি ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে গুজব ও মিথ্যা প্রচারণায় কান না দিয়ে সংবিধান ও আইন অনুযায়ী দায়িত্ব পালনে সবার সহযোগিতা চান।

গত ১৭ বছরের শাসনামল নিয়ে সমালোচনা করে আলী হোসেন ফকির অভিযোগ করেন, ওই সময়ে পাড়া-মহল্লায় মাদকের বিস্তার ঘটেছিল। তৎকালীন সরকারি দলের নেতারা মাদক থেকে মাসোহারা পেতেন এবং পুলিশের কিছু সদস্যও এতে জড়িত ছিলেন বলে দাবি করেন তিনি। নিজের বাহিনীর জবাবদিহির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গত দুই মাসে ২৭ জন পুলিশ কর্মকর্তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

সম্প্রতি পুলিশের সমালোচনা করে নাগরিক সমাজের ১০১ জনের দেওয়া বিবৃতির প্রসঙ্গও তোলেন আইজিপি। গোপনীয়তার অধিকারের কথা উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন করেন, কেউ কি পুলিশ হাউজিংয়ের ভেতরে গোপনে মদ পান, মাতলামি কিংবা কোকেন-হেরোইন গ্রহণের অধিকার দাবি করতে পারেন? স্বাধীনতা থাকলেও সবাইকে আইনের আওতায় থাকতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

পুলিশের নিয়োগ ও সদস্যদের যোগ্যতা নিয়ে সমালোচনার জবাবে আইজিপি বলেন, কনস্টেবলরা তৃণমূল পর্যায়ে মানুষের সেবা দেন। অথচ তাঁদের সঙ্গে বিরোধ হলেই পুলিশকে খারাপ বলা হয়, আবার নিয়োগের সময় শিক্ষিত লোকের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। তাঁর মতে, সমাজের সব শ্রেণির মানুষের সঙ্গে কাজ করতে হয় বলে পুলিশের শিক্ষিত সদস্য থাকা বিশেষভাবে জরুরি।

তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের ব্যর্থতা, শিল্পকারখানায় বেতন না দেওয়া কিংবা অন্যান্য সামাজিক সংকটের জেরেও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সব দায় পুলিশের ওপর চাপিয়ে বাহিনীকে অকার্যকর করা যাবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

জুলাই অভ্যুত্থানের পর পুলিশ সদস্যদের দায়িত্ব পালনে ভয় পাওয়ার পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে আইজিপি বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে পুলিশ দিনরাত কাজ করছে।

অনুষ্ঠানে ব্যাংকিং খাতের অনিয়ম, সুদ ও ঘুষের বিষয়েও বক্তব্য দেন আইজিপি। তিনি বলেন, ইসলামে সুদ ও ঘুষ সম্পূর্ণ হারাম। প্রকৃত ইসলামি ব্যাংকিং হতে হবে সুদমুক্ত; সেখানে অংশীদারত্ব, নৈতিকতা এবং স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক ব্যবসায়িক ব্যবস্থা থাকতে হবে।

অতীতে ব্যাংক দখল, অনিয়ম এবং উচ্চ মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতারণার সমালোচনা করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের তদারকি ও নজরদারি কার্যকর না হলে আইন থাকলেও তা বাস্তবায়ন কঠিন। গ্রাহক ও সেবা বাস্তবায়নকারী উভয় পক্ষকেই নৈতিকতা বজায় রাখতে হবে।

বর্তমান ব্যবস্থাপনার ওপর আস্থা রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অতীতের অনিয়ম বা বিপর্যয়ের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে হবে। মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের (এমএফএস) তদারকি আরও জোরদার করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির পরিচালক, ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং বিভিন্ন পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। আয়োজকদের ভাষ্য, শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকিং সেবা সম্প্রসারণ এবং গ্রাহকদের জন্য আধুনিক বিকল্প ব্যাংকিং সুবিধা চালুর ক্ষেত্রে ‘কমিউনিটি ইসলামিক’-এর যাত্রা একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

আজকের সিলেট/ জেকেএস

সিলেটজুড়ে


মহানগর