বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ১২:২৩ অপরাহ্ন

সামরিক এআইয়ের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে উদ্যোগ নিচ্ছে জাতিসংঘ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ২১/১০/২০২৬ ১০:১০:২০ পূর্বাহ্ন

সামরিক এআইয়ের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে উদ্যোগ নিচ্ছে জাতিসংঘ


যুদ্ধক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার বাড়ায় সামরিক সিদ্ধান্তে মানুষের নিয়ন্ত্রণ কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ, নজরদারি ও আগাম সতর্কতার পাশাপাশি পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের মতো স্পর্শকাতর সিদ্ধান্তেও যুক্ত হচ্ছে এ প্রযুক্তি। এ পরিস্থিতিতে সামরিক ক্ষেত্রে এআইয়ের নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক উদ্যোগ নিচ্ছে জাতিসংঘ।

যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামরিক ক্ষেত্রে এআইয়ের ব্যবহার নিয়ে বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক ফোরাম চালুর পরিকল্পনা করেছে জাতিসংঘের নিরস্ত্রীকরণ গবেষণা ইনস্টিটিউট (ইউএনআইডিআইআর)। এতে বিভিন্ন দেশের সরকার, প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, গবেষক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন।

ইউএনআইডিআরের প্রধান রবিন গেইস মঙ্গলবার জাতিসংঘে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, সামরিক ক্ষেত্রে এআইয়ের বিস্তারে সিদ্ধান্ত গ্রহণে মানুষের বিচার-বিবেচনার সুযোগ সংকুচিত হচ্ছে। পারমাণবিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও এ ঝুঁকি রয়েছে। প্রযুক্তির সক্ষমতা দ্রুত বাড়ায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার সময়ও সীমিত হয়ে আসছে।

সামরিক অভিযানের পরিকল্পনা, গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ ও আগাম সতর্কতায় এআই ব্যবহারের ফলে ভুল তথ্য বা প্রযুক্তিগত ত্রুটি ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে। বিশেষ করে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের ক্ষেত্রে ভুল সংকেত বিশ্লেষণ কিংবা প্রতিপক্ষের পদক্ষেপ সম্পর্কে ভুল ধারণা অনিচ্ছাকৃত সংঘাত বাড়িয়ে দিতে পারে।

সামরিক এআইয়ের দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত করতে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য স্বেচ্ছামূলক নির্দেশিকা তৈরির কাজ করছে ইউএনআইডিআর। পাশাপাশি রাষ্ট্রের বাইরে থাকা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর হাতে এ প্রযুক্তির অপব্যবহার নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। প্রযুক্তিটির সহজলভ্যতা বাড়ায় এ ঝুঁকি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা আরও বাড়ছে।

চলতি বছরের গ্রীষ্মে ইউএনআইডিআর এআই, শান্তি ও নিরাপত্তাবিষয়ক একটি স্থায়ী উৎকর্ষকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করে। যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স এ কেন্দ্রের অর্থায়নে সহায়তা দিয়েছে। সামরিক ক্ষেত্রে এআইয়ের ব্যবহার নিরাপদ রাখা, সিদ্ধান্ত গ্রহণে মানুষের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা এবং অনিচ্ছাকৃত সংঘাতের ঝুঁকি কমানোই এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।

আজকের সিলেট/ডি/এসটি

সিলেটজুড়ে


মহানগর