শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০২:০৬ অপরাহ্ন

যন্ত্র আছে, সেবা নেই: চিকিৎসক-নার্স সংকটে লাখাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

লাখাই (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৭/১০/২০২৬ ১২:০৭:১০ অপরাহ্ন

যন্ত্র আছে, সেবা নেই: চিকিৎসক-নার্স সংকটে লাখাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স


ইসিজি ও আলট্রাসনোগ্রাম করার যন্ত্র রয়েছে, আছেন ডেন্টাল চিকিৎসকও। কিন্তু প্রয়োজনীয় জনবল, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও অবকাঠামোর অভাবে এসব সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন রোগীরা। হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫০ শয্যার বিপরীতে প্রতিদিন ভর্তি থাকছেন ৭০ জনেরও বেশি রোগী। অথচ ৩৬ জন চিকিৎসকের পদে কর্মরত মাত্র ১১ জন। ২৫ জন নার্সের বিপরীতে রয়েছেন ১৬ জন।

চিকিৎসক ও নার্সের ঘাটতির পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের অভাবে হাসপাতালটিতে কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসা পাচ্ছেন না উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মানুষ। পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্যও অনেক রোগীকে হাসপাতালের বাইরে যেতে হচ্ছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও সে অনুযায়ী বাড়ানো হয়নি জনবল। চারজন কনসালট্যান্টসহ মোট ৩৬ জন চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে কর্মরত আছেন ১১ জন। মেডিসিন, সার্জারি ও গাইনি বিভাগের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিভাগগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসক নেই। একইভাবে ২৫ জন নার্সের বিপরীতে কর্মরত আছেন ১৬ জন। ফলে সীমিত জনবল দিয়ে অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও নার্সরা।

চিকিৎসা সরঞ্জাম থাকা সত্ত্বেও সেবা না পাওয়ার চিত্রও রয়েছে হাসপাতালটিতে। ইসিজি ও আলট্রাসনোগ্রাম করার যন্ত্র থাকলেও সেগুলো পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় জনবল নেই। ফলে যন্ত্রপাতি অব্যবহৃত পড়ে থাকছে এবং রোগীদের এসব পরীক্ষা করাতে বাইরে যেতে হচ্ছে।

হাসপাতাল সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ সালের ১৮ জুন প্রথম ইসিজি যন্ত্র সরবরাহ করা হয়। পরে ২০২০ সালের ১৯ জুলাই আরও একটি ইসিজি যন্ত্র দেওয়া হয়। আলট্রাসনোগ্রাম যন্ত্রের ক্ষেত্রেও প্রথম সরবরাহের তারিখ হিসেবে ২০১৪ সালের ১৮ জুন উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর ২০২৪ সালের ১৭ জুলাই আরও একটি আলট্রাসনোগ্রাম যন্ত্র সরবরাহ করা হয়। তবে প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় এসব যন্ত্রের মাধ্যমে নিয়মিত সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

অন্যদিকে, হাসপাতালে ডেন্টাল চিকিৎসক থাকলেও দাঁতের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও অবকাঠামো নেই। এ কারণে চিকিৎসক থাকা সত্ত্বেও রোগীরা দাঁতের চিকিৎসাসেবা পাচ্ছেন না।

লাখাই উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কাজী শামসুল আরেফিন বলেন, ‘লাখাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক, নার্সসহ প্রয়োজনীয় জনবলের সংকট রয়েছে। ৩৬ জন চিকিৎসকের বিপরীতে ১১ জন এবং ২৫ জন নার্সের বিপরীতে মাত্র ১৬ জন নার্স দিয়ে ৫০ শয্যার হাসপাতালটি পরিচালনা করতে হচ্ছে। শয্যার তুলনায় ভর্তি রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি। এত কমসংখ্যক জনবল দিয়ে চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম।’

তিনি আরও বলেন, ‘হাসপাতালে ইসিজি ও আলট্রাসনোগ্রামের যন্ত্রপাতি থাকলেও প্রয়োজনীয় জনবল নেই। আবার ডেন্টাল চিকিৎসক থাকলেও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি নেই। ফলে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা উপজেলার সাধারণ মানুষ কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।’

সংশ্লিষ্টদের মতে, লাখাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেবার মান বাড়াতে শয্যাসংখ্যার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে চিকিৎসক ও নার্স নিয়োগ, গুরুত্বপূর্ণ বিভাগগুলোতে চিকিৎসক পদায়ন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম ও অবকাঠামো নিশ্চিত করা জরুরি। এসব ঘাটতি পূরণ না হলে উপজেলার মানুষের জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়বে।

আজকের সিলেট/ জেকেএস

সিলেটজুড়ে


মহানগর