মৌলভীবাজারের জুড়ীতে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের ব্যানারে ঝটিকা মিছিলের ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করেছে পুলিশ। মামলায় ১৭ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৩০ থেকে ৩৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। এ ঘটনায় শামীম মোল্লা নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
জুড়ী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) এস.এম. জামিল হাসান অনিক বাদী হয়ে মামলাটি করেন। মামলার নম্বর ০৩/১৫/১০/২৬।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ অক্টোবর সকাল সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার পাঁচ নম্বর জায়ফরনগর ইউনিয়নে উপজেলা পরিষদের সামনে কুলাউড়া-বড়লেখা আঞ্চলিক মহাসড়কে ঝটিকা মিছিল বের করা হয়। এজাহারে বলা হয়েছে, ২ নম্বর আসামি হাবিবুর রহমান জয়ের নেতৃত্বে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ৫০ থেকে ৬০ জন সদস্য এতে অংশ নেন।
এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়, মিছিলকারীরা পরস্পরের যোগসাজশে একত্র হয়ে জননিরাপত্তা ও বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব বিপন্ন করার উদ্দেশ্যে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করেন। মিছিলের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।
মামলার এজাহারে নাম থাকা ব্যক্তিরা হলেন, বেলাগাঁও গ্রামের ধন মিয়ার ছেলে দুবাইপ্রবাসী মো. শামিম মোল্লা (২৫); জাঙ্গীরাই গ্রামের মো. চান মিয়ার ছেলে হাবিবুর রহমান জয় (৩৪); পাতিলাসাঙ্গন (মাধবটিলা) গ্রামের আশরাফ আলীর ছেলে শাহরিয়ার মাহবুব (৩৮); ভবানীপুর গ্রামের মৃত কবির আহমদের ছেলে এ আর সাজেদ (২৮); বড় ধামাই গ্রামের মৃত সিরাজ উদ্দিনের ছেলে ও পূর্বজুড়ী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান সালেহ উদ্দিন আহমদ (৬৫); একই গ্রামের সিরাজ উদ্দিনের ছেলে ও পূর্বজুড়ী ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান রুয়েল উদ্দিন (৪৪)।
এ ছাড়া আসামির তালিকায় রয়েছেন বাছিরপুর গ্রামের মৃত বিনোদ পালের ছেলে ও পশ্চিম জুড়ী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহদপ্তর সম্পাদক বিন্দু পাল (৫৪); মাধবটিলা (পাতিলাসাঙ্গন) গ্রামের আব্দুল গণি বাবুলের ছেলে সিদ্দিকুর রহমান সুমন (৪০); বড় ধামাই গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. তজমুল আলীর ছেলে ও পূর্বজুড়ী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগ সভাপতি মো. আছলম উদ্দিন (৪৪); ভোগতেরা গ্রামের মৃত নানু মিয়ার ছেলে, জুড়ী উপজেলা সিএনজি চালক সমিতির সাবেক সভাপতি ও জায়ফরনগর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ফয়জুল ইসলাম ছোট কালা (৪৬); একই গ্রামের শাহাজাহান কবিরের ছেলে ও জুড়ী উপজেলা সিএনজি চালক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাজেদুল (৪০)।
অন্য আসামিরা হলেন ভবানীপুর গ্রামের মৃত চেরাগ মিয়ার ছেলে মিজানুর রহমান খোকন (৪০); পাতিলাসাঙ্গন গ্রামের আনাছ উদ্দিনের ছেলে আশরাফুল ইসলাম আশরাফ (২৪); একই গ্রামের আং গনি বাবুলের ছেলে শিপার মিয়া (৪২); নয়াগ্রামের জয়নাল আবেদীনের ছেলে সাইদুল ইসলাম (৩০); কালীনগর গ্রামের মৃত আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে ও উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান জুয়েল আহমদ ওরফে জুয়েল রানা (৩৬); এবং ভবানীপুর গ্রামের আব্দুল জলিলের ছেলে তারেক হাসান (৪০)।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জুড়ী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আব্দুল মালিক (পিপিএম) বলেন, এ মামলায় শামীম মোল্লাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশের অভিযান চলছে।
উল্লেখ্য, গত বুধবার (১৪ অক্টোবর) ভোর সাড়ে ৬টার দিকে জুড়ী কলেজ ছাত্রলীগের (নিষিদ্ধ) নেতা হাবিবুর রহমান জয়ের নেতৃত্বে মুখোশ পরা সাত থেকে আটজন উপজেলা পরিষদের সামনে কুলাউড়া-বড়লেখা সড়কে মিছিল করেন বলে আগের বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে। মিছিলের ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে শেখ হাসিনার আগমনকে স্বাগত জানিয়ে এবং আওয়ামী লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে মামলার রায়ের প্রতিবাদে স্লোগান দেওয়া হয়।
আজকের সিলেট/ জেকেএস
জুড়ী (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি 








