বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৩০ অপরাহ্ন

পাথর মহাল খোলার দাবিতে পোস্ট, জিজ্ঞাসাবাদের পর ছাড়া পেলেন ব্যবসায়ী

কোম্পানীগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৪/১০/২০২৬ ১০:০০:০২ পূর্বাহ্ন

পাথর মহাল খোলার দাবিতে পোস্ট, জিজ্ঞাসাবাদের পর ছাড়া পেলেন ব্যবসায়ী


সিলেটের বন্ধ পাথর মহালগুলো খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীকে নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছিলেন পাথর ব্যবসায়ী জুবায়ের আহমদ। ওই পোস্টের বিষয়ে মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) তাঁকে থানায় ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করে কোম্পানীগঞ্জ থানা পুলিশ। পরে উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি শওকত আলী বাবুলের জিম্মায় তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

মঙ্গলবার দুপুরে জুবায়েরকে থানায় নেওয়া হয়। রাত সাড়ে ১২টার দিকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাঁকে ছেড়ে দেয় পুলিশ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জুবায়ের আহমদ কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার কলাবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা। পাথর ব্যবসার পাশাপাশি তিনি একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুলে শিক্ষকতা করেন। গত শনিবার ফেসবুকে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর ছবি দিয়ে একটি পোস্ট করেন তিনি। সিলেটের পাথর মহালগুলো চালু না হওয়ায় সেখানে ক্ষোভ প্রকাশ করেন জুবায়ের।

পোস্টে তিনি লেখেন, ‘১২ তারিখ নির্বাচনের পর ১৩ তারিখ সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে যাওয়ার কথা ছিল। অথচ কিছুই ঠিক হলো না। মন্ত্রী মহোদয় আমাদের জীবন কঠিন থেকে কঠিনতম করে দিলেন।’

ওই পোস্টের পর মঙ্গলবার উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আকবর ও সিনিয়র সহসভাপতি শওকত আলী বাবুল তাঁকে থানায় নিয়ে যান। পরে পোস্টটি জুবায়েরের নিজের করা কি না, নাকি অন্য কেউ তাঁর ফেসবুক আইডি ব্যবহার করেছেন এসব বিষয় নিয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ।

কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওসমান গনি কালবেলাকে বলেন, জুবায়ের আহমদের ফেসবুক আইডি থেকে করা পোস্ট ও মন্তব্যের সত্যতা যাচাই করা হয়েছে। অন্য কেউ তাঁর আইডি ব্যবহার করেছেন কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হয়েছে। তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে আটক বা গ্রেপ্তার করা হয়নি। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বিএনপি নেতা শওকত আলী বাবুলের জিম্মায় তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

শওকত আলী বাবুল কালবেলাকে বলেন, ফেসবুক পোস্টটি নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়েছে। পোস্টটি জুবায়ের নিজে করেছেন, নাকি অন্য কেউ করেছেন, তা তদন্ত করে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। ওসি তাঁকে গ্রেপ্তার করেননি, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকেছিলেন। ফোন পাওয়ার পর বন্ধু হারুনের মাধ্যমে তিনি থানায় যান।

বাবুল আরও বলেন, জুবায়ের নিজের মোবাইল ফোন দেখিয়ে জানিয়েছেন, ওই পোস্ট ছাড়া অন্য কোনো পোস্ট তিনি করেননি। পাথর মহাল খুলে দেওয়ার দাবি জানানো অপরাধ নয়। মন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো নির্দোষ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। এ কারণে তিনি জুবায়েরকে নিজের জিম্মায় থানা থেকে নিয়ে আসেন।

আজকের সিলেট/ জেকেএস

সিলেটজুড়ে


মহানগর