আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে বিয়ানীবাজারে হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ ও পূজা উদযাপন পরিষদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছে থানা পুলিশ। দুর্গোৎসব ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে সভায় বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে বিয়ানীবাজার পৌরশহরের একটি অভিজাত রেস্টুরেন্টের হলরুমে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বিয়ানীবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবু জাফর মো. মাহফুজুল করিম। সভাটি সঞ্চালনা করেন এসআই গোপেশ দাস।
সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জকিগঞ্জ-বিয়ানীবাজার সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার স্যামুয়েল সাংমা।
সভায় জানানো হয়, এবার বিয়ানীবাজার উপজেলায় মোট ৫৩টি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। পূজার শুরু থেকে প্রতিমা বিসর্জন পর্যন্ত প্রতিটি মণ্ডপে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ, আনসার ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সহকারী পুলিশ সুপার স্যামুয়েল সাংমা বলেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীরা যাতে শান্তিপূর্ণ ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজা উদযাপন করতে পারেন, সে জন্য পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থাকবে। কোনো পূজামণ্ডপে অপ্রীতিকর ঘটনা বা বিশৃঙ্খলা যাতে সৃষ্টি না হয়, সেজন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি জানান, পূজামণ্ডপগুলোতে পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকের পুলিশ ও আনসার সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করবেন। নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে মণ্ডপগুলোতে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
পাশাপাশি প্রতিটি মণ্ডপে স্বেচ্ছাসেবী টিম গঠন করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে দায়িত্ব পালনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সভায় বিয়ানীবাজার উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অরুণাভ পাল চৌধুরী মোহন, সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব চক্রবর্তী, বিয়ানীবাজার পূজা উদযাপন ফ্রন্টের আহ্বায়ক বিবেকানন্দ দাস বিবেক, সাধারণ সম্পাদক সুশান্ত পালসহ উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও ব্যক্তিগত পূজামণ্ডপের পরিচালকরা উপস্থিত ছিলেন।
মতবিনিময় সভায় মণ্ডপের নিরাপত্তা, দর্শনার্থীদের চলাচল নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি দ্রুত মোকাবিলায় পুলিশ ও পূজা উদযাপন কমিটির মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
এ সময় পূজামণ্ডপের দায়িত্বশীলদের কোনো সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি চোখে পড়লে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর আহ্বান জানানো হয়।
আজকের সিলেট/ জেকেএস
বিয়ানীবাজার প্রতিনিধি 








