শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:০৬ পূর্বাহ্ন

দুর্গাপূজা ঘিরে হবিগঞ্জে শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা, ৬৬৭ মণ্ডপ প্রস্তুত

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৮/১০/২০২৬ ০২:৩৭:১৪ অপরাহ্ন

দুর্গাপূজা ঘিরে হবিগঞ্জে শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা, ৬৬৭ মণ্ডপ প্রস্তুত


শারদীয় দুর্গোৎসবের সময় যত ঘনিয়ে আসছে, ততই ব্যস্ত হয়ে উঠছে হবিগঞ্জের পূজামণ্ডপগুলো। শহর থেকে গ্রাম কোথাও প্রতিমায় চলছে শেষ তুলির আঁচড়, কোথাও রং ও সাজসজ্জার কাজ, আবার কোথাও ব্যস্ত আলোকসজ্জা ও তোরণ তৈরির কর্মীরা।

জেলার ৯টি উপজেলায় এবার ৬৬৭টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। অধিকাংশ মণ্ডপেই প্রতিমা তৈরির কাজ প্রায় শেষ। এখন চলছে দেবীর পোশাক, অলংকার ও অন্যান্য সাজসজ্জার কাজ। পাশাপাশি মণ্ডপগুলোকে উৎসবের উপযোগী করে তুলতে শুরু হয়েছে আলোকসজ্জা ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ।

হবিগঞ্জ শহর ও বিভিন্ন উপজেলার কয়েকটি পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখা গেছে, কারিগরদের ব্যস্ততা এখন সবচেয়ে বেশি। কেউ প্রতিমার মুখাবয়বের সূক্ষ্ম কাজ করছেন, কেউ রং করছেন, আবার কেউ দেবী দুর্গাসহ অন্যান্য প্রতিমার পোশাক ও অলংকার পরানোর কাজে ব্যস্ত।

কারিগরদের ভাষ্য, প্রতিমার কাঠামো ও মূল নির্মাণকাজ শেষ হলেও রং, পোশাক, অলংকার এবং সাজসজ্জার জন্য বেশ সময় প্রয়োজন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিমা মণ্ডপে পৌঁছে দিতে এখন দিন-রাত কাজ করতে হচ্ছে। শেষ মুহূর্তে কাজের চাপও বেড়েছে কয়েক গুণ।

জেলা পূজা ফ্রন্টের নেতৃবৃন্দ জানান, আগামী এক-দুই দিনের মধ্যেই অধিকাংশ মণ্ডপে প্রতিমার শাড়ি, অলংকার ও সাজসজ্জার কাজ শেষ হবে। এরপর পূজার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত করা হবে মণ্ডপগুলো।

এদিকে শুধু প্রতিমা ও মণ্ডপ সাজানোর কাজেই সীমাবদ্ধ নেই উৎসবের প্রস্তুতি। পূজার প্রয়োজনীয় সামগ্রী কেনাকাটার পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের জন্য নতুন পোশাক কিনতেও ব্যস্ত সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। বাজারগুলোতেও বেড়েছে মানুষের উপস্থিতি। মণ্ডপগুলোতে প্রতিমা তৈরির কাজ দেখতে ভিড় করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা; শিশু-কিশোরদের মধ্যেও দেখা যাচ্ছে বাড়তি উচ্ছ্বাস।

অনেক মণ্ডপে স্থানীয় তরুণ-যুবকদের নিয়ে গঠন করা হয়েছে স্বেচ্ছাসেবক দল। পূজার দিনগুলোতে দর্শনার্থীদের সহযোগিতা, শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতা করবেন এসব স্বেচ্ছাসেবক।

জেলা পূজা ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক রাজন দাশ বলেন, ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি সম্প্রীতির বার্তা নিয়ে প্রতিবছরের মতো এবারও দুর্গাপূজা উদযাপনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি যাতে তৈরি না হয়, সে জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের জেলা কমিটির সদস্য সচিব ও হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের সদস্য অতিন দত্ত চৌধুরী পাপন বলেন, অন্যান্য বছরের মতো এবারও উৎসবমুখর পরিবেশে শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপনের প্রস্তুতি চলছে। প্রতিমা তৈরির কাজ প্রায় শেষ হয়ে এখন রং, পোশাক ও অলংকার পরানোর কাজ চলছে। শান্তিপূর্ণ ও আনন্দঘন পরিবেশে উৎসব উদযাপনে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।

হবিগঞ্জ পৌর পূজা ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক ডা. অনুজ দাশ জানান, হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় এবার ৩৬টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা হবে। এর মধ্যে ৩৫টি সার্বজনীন এবং একটি ব্যক্তিগত মণ্ডপ। পূজার সব প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে। প্রতিটি মণ্ডপে পুলিশ ও আনসারের পাশাপাশি পূজা কমিটি এবং মণ্ডপ কর্তৃপক্ষের নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবকেরাও দায়িত্ব পালন করবেন।

দুর্গোৎসব নির্বিঘ্ন রাখতে নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখছে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন। প্রতিটি মণ্ডপে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যদের দায়িত্ব পালনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

মণ্ডপ ও আশপাশের এলাকায় নিয়মিত টহলের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোয় বিশেষ নজরদারি থাকবে। প্রয়োজন অনুযায়ী যানজট নিয়ন্ত্রণে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পুলিশ মোতায়েন করা হবে।

হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার তারেক মাহমুদ বলেন, পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা বা নাশকতা ঠেকাতে আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। মণ্ডপগুলোকে সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাব ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে।

তিনি জানান, প্রতিটি মণ্ডপে ছয়জন করে আনসার-ভিডিপি সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। দর্শনার্থীদের নির্বিঘ্ন চলাচল এবং যানজট নিয়ন্ত্রণেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা থাকবে।

জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ড. জি. এম. সরফরাজ বলেন, দুর্গাপূজা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পুলিশ প্রশাসন, পূজা উদযাপন কমিটি এবং জেলা ও পৌর পূজা কমিটির নেতৃবৃন্দসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মতবিনিময় করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বজায় রেখে সবাই যেন নির্বিঘ্নে পূজা উদযাপন করতে পারেন, বিষয়টি প্রশাসন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে।

আজকের সিলেট/ জেকেএস

সিলেটজুড়ে


মহানগর