স্বামীর পরকীয়া জেনেও যে কারণে সংসার টিকিয়েছিলেন জিনাত আমান
শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৫০ PM

স্বামীর পরকীয়া জেনেও যে কারণে সংসার টিকিয়েছিলেন জিনাত আমান

বিনোদন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৩/১০/২০২৬ ০১:৪৫:৪৪ PM

স্বামীর পরকীয়া জেনেও যে কারণে সংসার টিকিয়েছিলেন জিনাত আমান


বলিউডের অন্যতম সাহসী ও স্বতন্ত্র অভিনেত্রী হিসেবে পরিচিত জিনাত আমান। অভিনয়, ব্যক্তিত্ব ও প্রচলিত নায়িকার ছক ভেঙে পর্দায় উপস্থিতির কারণে আলাদা পরিচিতি তৈরি করেছিলেন তিনি। তবে তার ব্যক্তিগত জীবন ছিল নানা চড়াই-উতরাইয়ে ভরা। বিশেষ করে অভিনেতা-প্রযোজক মাজহার খানের সঙ্গে তার দাম্পত্য জীবন নিয়ে বহু বছর পরও আলোচনা হয়।

এক পুরোনো সাক্ষাৎকারে জিনাত জানিয়েছিলেন, বিয়ের প্রথম বছরেই বুঝতে পেরেছিলেন, সিদ্ধান্তটি ভুল ছিল। এমনকি স্বামীর অন্য সম্পর্কের খবর প্রকাশ্যে আসার পরও তিনি সংসার টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করেছিলেন। পরে মাজহার গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রায় পাঁচ বছর তার চিকিৎসা ও পরিচর্যায় নিজেকে উজাড় করে দেন অভিনেত্রী।

সিমি গারেওয়ালের সঙ্গে কথোপকথনে জিনাত বলেছিলেন, বিয়ের এক বছরের মধ্যেই তার মনে হয়েছিল, তিনি ভুল করেছেন। সেই সময় তিনি অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। ঠিক তখনই মাজহারের অন্য এক নারীর সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে ‘স্টারডাস্ট’ পত্রিকায় একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। বিষয়টি তার কাছে গোপন ছিল না। তবুও তখনই সংসার ছেড়ে বেরিয়ে আসেননি জিনাত।

এর কারণও জানিয়েছিলেন অভিনেত্রী। তার ভাষ্য ছিল, পরিবারের আপত্তি অগ্রাহ্য করে তিনি নিজেই বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তাই সম্পর্কটি শেষ না করে কোনোভাবে সেটিকে টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করতে চেয়েছিলেন। প্রথম সন্তানের জন্মের পরও তিনি সংসার থেকে বেরিয়ে যাওয়ার কথা ভেবেছিলেন। কিন্তু সন্তানের কথা চিন্তা করে থেকে যান এবং দাম্পত্য জীবন টিকিয়ে রাখতে নিজের দিক থেকে সবকিছু করার চেষ্টা করেন।

এরপর মাজহার গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিস্থিতি আরও বদলে যায়। সংসার ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার বদলে স্বামীর চিকিৎসার দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন জিনাত। প্রায় পাঁচ বছর তার জীবনের বড় একটি অংশ জুড়ে ছিল মাজহারের চিকিৎসা ও সুস্থ করে তোলার চেষ্টা।

জিনাতের ভাষ্য অনুযায়ী, স্বামীর চিকিৎসার জন্য মুম্বাইয়ের একের পর এক হাসপাতালে ছুটেছেন তিনি। চিকিৎসকদের সঙ্গে যোগাযোগের পাশাপাশি নিজেই ইনজেকশন দেওয়া ও ক্ষতস্থানের পরিচর্যা করার মতো কাজও শিখেছিলেন। এমনকি চিকিৎসার প্রয়োজনে বিদেশে গিয়ে চিকিৎসকের সন্ধানও করেছিলেন। দীর্ঘ এই সময়ে মাজহারের শারীরিক অবস্থার সঙ্গে লড়াই করতে গিয়ে মানসিকভাবেও ভীষণ চাপে পড়েছিলেন তিনি।

জিনাত আমানের ব্যক্তিগত জীবনে এর আগেও এসেছিল বড় ধাক্কা। ১৯৭৮ সালে অভিনেতা সঞ্জয় খানকে বিয়ে করেন তিনি। সঞ্জয় তখন আগে থেকেই বিবাহিত এবং চার সন্তানের বাবা ছিলেন। পরের বছর, ১৯৭৯ সালে তাদের বিয়ে বাতিল হয়ে যায়। জিনাত পরে সঞ্জয় খানের হাতে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হওয়ার কথাও জানিয়েছেন।

এরপর ১৯৮৫ সালে অভিনেতা-প্রযোজক মাজহার খানকে বিয়ে করেন জিনাত আমান। ১৯৯৮ সালে মাজহারের মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তারা বিবাহিত ছিলেন। এই সংসারে তাদের দুই পুত্র- আজান খান ও জাহান খান। আজান চলচ্চিত্র পরিচালক এবং জাহান সুরকার হিসেবে কাজ করছেন। 

আজকের সিলেট/ডি/এসটি

সিলেটজুড়ে


মহানগর