ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে দৈনন্দিন জীবনে যে ৫ অভ্যাস বদলানোর পরামর্শ
মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:০৮ AM

ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে দৈনন্দিন জীবনে যে ৫ অভ্যাস বদলানোর পরামর্শ

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশিত: ২২/০৯/২০২৬ ০৯:৪১:৫৪ AM

ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে দৈনন্দিন জীবনে যে ৫ অভ্যাস বদলানোর পরামর্শ


ক্যানসার একদিনে তৈরি হয় না। শরীরে দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে এই রোগের বিকাশ ঘটতে পারে। আর মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাপনের কিছু অভ্যাস সেই ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, কোনো অভ্যাস পরিবর্তন করলেই ক্যানসার পুরোপুরি প্রতিরোধ করা সম্ভব—এমন নিশ্চয়তা নেই। তবে জীবনযাপনে কয়েকটি পরিবর্তন আনলে ক্যানসারের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

ধূমপান থেকে দূরে থাকা

ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে ধূমপান ও পরোক্ষ ধূমপান এড়িয়ে চলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। কারও পক্ষে একবারে ধূমপান ছেড়ে দেওয়া কঠিন হলে অন্তত ধীরে ধীরে এর পরিমাণ কমানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। যেমন, দিনে ছয়টি সিগারেট খাওয়ার অভ্যাস থাকলে সেটি দুইটিতে নামিয়ে আনার চেষ্টা করা যেতে পারে।

তামাক ও সিগারেটের ধোঁয়ায় ৭০টিরও বেশি কার্সিনোজেন বা ক্যানসার সৃষ্টিকারী উপাদান রয়েছে। এর মধ্যে বেঞ্জিন, ফরম্যালডিহাইড ও নাইট্রোসামিনের মতো রাসায়নিক রয়েছে, যা কোষের ডিএনএতে ক্ষতি ও জিনগত পরিবর্তন ঘটাতে পারে। এর ফলে ক্যানসারের কোষ তৈরি হওয়ার অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হতে পারে।

ঘুমের সময় ও পরিবেশ ঠিক রাখা

নিয়মিত ঘুমের অভ্যাসও শরীরের জৈবিক ঘড়ির সঙ্গে সম্পর্কিত। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, রাত ১১টার মধ্যে ঘুমিয়ে পড়া শরীরের বায়োলজিকাল ক্লকের জন্য উপকারী। রাত ১১টা থেকে ভোর ৩টার মধ্যে শরীরে ডিএনএ মেরামতের প্রক্রিয়া চলে বলেও ওই বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়েছে।

তাই প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়ার পাশাপাশি রাতে ঘুমের সময় ঘর যতটা সম্ভব অন্ধকার রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। মোবাইল, ল্যাপটপ বা কম্পিউটারের আলোও বন্ধ রাখা উচিত। সামান্য নীল আলো থাকলেও মেলাটোনিন হরমোনের নিঃসরণ ব্যাহত হতে পারে। এই হরমোন টিউমার কোষের বৃদ্ধি ও বিভাজন ঠেকাতে ভূমিকা রাখতে পারে।

খাবারের মাঝে দীর্ঘ বিরতি রাখা

দিনের নির্দিষ্ট একটি সময় শরীরকে খাবার থেকে বিরতি দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১২ থেকে ১৬ ঘণ্টা, অথবা অন্তত ১০ ঘণ্টা পেট খালি রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সে হিসেবে রাত ৮টার মধ্যে রাতের খাবার শেষ করে পরদিন সকাল ৮টা বা ১০টার দিকে নাশতা করার কথা বলা হয়েছে।

এই সময় শরীরে ‘অটো-ক্লিনিং’ নামে একটি প্রক্রিয়া চলে বলে ওই বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে কোষে জমে থাকা টক্সিন ও ক্যানসার সৃষ্টিকারী ক্ষতিকর উপাদান শরীর নিজেই ধ্বংস করে ফেলে বলে দাবি করা হয়েছে।

প্লাস্টিক ও নন-স্টিকের ব্যবহার কমানো

গরম খাবার প্লাস্টিকের বোতল বা পাত্রে না রাখা এবং খাবারের ক্ষেত্রে প্লাস্টিকের ব্যাগ ও টিফিন বক্সের ব্যবহার কমানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নন-স্টিকের থালা-বাসনের পরিবর্তে লোহা বা স্টেইনলেস স্টিলের সামগ্রী ব্যবহারের কথাও বলা হয়েছে।

প্লাস্টিক ও নন-স্টিকের কিছু সামগ্রীতে বিসফেনল-এ, থ্যালেট ও পিএফএএসের মতো রাসায়নিক থাকতে পারে। এসব রাসায়নিক শরীরের হরমোনের স্বাভাবিক কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে এবং কোষের অনিয়ন্ত্রিত বিভাজনে ভূমিকা রাখতে পারে। এর সঙ্গে স্তন, জরায়ু, ডিম্বাশয় ও থাইরয়েডের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

অ্যালকোহল সীমিত বা বর্জন করা

অ্যালকোহল শরীরে বিপাকের সময় ‘অ্যাসিটালডিহাইড’ নামের একটি বিষাক্ত রাসায়নিক যৌগে পরিণত হয়, যা ডিএনএ ও প্রোটিনের ক্ষতি করতে পারে। পাশাপাশি অ্যালকোহল শরীরে ইস্ট্রোজেনের মাত্রা বাড়াতে পারে, যা স্তন ক্যানসারের ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত।

তাই অ্যালকোহল পান থেকে বিরত থাকা কিংবা এর পরিমাণ সীমিত করলে লিভার, মুখ ও গলা, খাদ্যনালি, অগ্ন্যাশয়, স্তন এবং কোলন ক্যানসারের ঝুঁকি কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।

সব মিলিয়ে ধূমপান ও পরোক্ষ ধূমপান এড়িয়ে চলা, পর্যাপ্ত ও নিয়মিত ঘুম, খাবারের সময়ের ব্যবধান, প্লাস্টিক ও নন-স্টিক সামগ্রীর ব্যবহার কমানো এবং অ্যালকোহল সীমিত করার মতো অভ্যাস দীর্ঘমেয়াদে ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে। তবে কোনো একটি অভ্যাস পরিবর্তনকেই ক্যানসার প্রতিরোধের নিশ্চয়তা হিসেবে দেখা যায় না।

আজকের সিলেট/ জেকেএস

সিলেটজুড়ে


মহানগর