শান্তিগঞ্জে ১ কোটি ৪৭ লাখ টাকার সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প ৮ বছর ধরে অচল
মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:১৮ PM

শান্তিগঞ্জে ১ কোটি ৪৭ লাখ টাকার সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প ৮ বছর ধরে অচল

শান্তিগঞ্জ (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২২/০৯/২০২৬ ০৯:৫৬:০৪ AM

শান্তিগঞ্জে ১ কোটি ৪৭ লাখ টাকার সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প ৮ বছর ধরে অচল


নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনিক ভবনের ছাদে স্থাপন করা হয়েছিল সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প। প্রায় এক কোটি ৪৭ লাখ টাকা ব্যয়ে তৈরি প্রকল্পটি এখন প্রায় আট বছর ধরে অচল পড়ে আছে। দীর্ঘদিন ধরে সোলার প্যানেল, ব্যাটারি, আইপিসিসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতি অব্যবহৃত থাকায় সরকারি এই বিনিয়োগের কার্যকারিতা ও রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

জানা গেছে, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর উদ্দেশ্যে জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের আওতায় ২০১৩ সালে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের অধীনে প্রকল্পটি স্থাপন করা হয়। উপজেলা প্রশাসনিক ভবনের ছাদে বসানো হয় ৩০ কিলোওয়াট ক্ষমতার ১০০টি সোলার প্যানেল। এর সঙ্গে ব্যাটারি, আইপিসিসিসহ প্রয়োজনীয় বিভিন্ন যন্ত্রপাতিও স্থাপন করা হয়। প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় হয় এক কোটি ৪৭ লাখ টাকা।

প্রকল্পটি সচল থাকার সময়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়, সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়, উপজেলা পরিষদসহ কৃষি, মৎস্য, সমবায়, প্রকল্প বাস্তবায়ন, স্থানীয় সরকার ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল দপ্তরে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হতো। ইউএনওর বাসভবনও এই সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার আওতায় ছিল।

তবে চালুর দুই থেকে তিন বছরের মধ্যেই প্রকল্পের বিভিন্ন যন্ত্রাংশে ত্রুটি দেখা দিতে শুরু করে। ধীরে ধীরে পুরো ব্যবস্থাই অচল হয়ে যায়। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, গত প্রায় আট বছর ধরে সোলার প্যানেল, ব্যাটারি, আইপিসিসিসহ অন্যান্য সরঞ্জাম নষ্ট অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এগুলো মেরামত করে পুনরায় চালু করার জন্য এতদিন কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

দীর্ঘ সময় রক্ষণাবেক্ষণ ছাড়া পড়ে থাকায় প্রকল্পের যন্ত্রপাতির অবস্থা আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ব্যাটারি, ইনভার্টার ও কন্ট্রোলারের মতো গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম দীর্ঘদিন ব্যবহারের বাইরে থাকলে কার্যক্ষমতা হারাতে পারে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপনের পাশাপাশি নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও তদারকির ব্যবস্থাও নিশ্চিত করা প্রয়োজন। ব্যাটারি, ইনভার্টার ও কন্ট্রোলারসহ গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি নিয়মিত পরীক্ষা এবং ত্রুটি দেখা দিলে দ্রুত মেরামতের উদ্যোগ না থাকলে এ ধরনের প্রকল্প অচল হয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে। এতে সরকারি অর্থে স্থাপিত প্রকল্প থেকে প্রত্যাশিত সুবিধা পাওয়া যায় না।

প্রকল্পটি স্থাপনের পর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব কোন প্রতিষ্ঠান বা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ছিল, কত বছর পর্যন্ত ওয়ারেন্টি বা মেইনটেন্যান্স সুবিধা দেওয়ার কথা ছিল এবং প্রকল্পটি বিকল হওয়ার পর সময়মতো সংস্কারের উদ্যোগ কেন নেওয়া হয়নি এসব বিষয়ও খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।

শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিল্লোল চাকমা বলেন, তিনি নতুন দায়িত্বে এসেছেন এবং এ বিষয়ে স্থানীয় প্রকৌশলীর সঙ্গে ইতোমধ্যে আলোচনা করেছেন। প্রকল্পটি পুনরায় সচল করতে কত অর্থ প্রয়োজন হবে, তা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অভিজ্ঞ টেকনিশিয়ান বা বিশেষজ্ঞ দিয়ে একটি প্রাক্কলন (এস্টিমেট) করানো হবে।

তিনি বলেন, ব্যয়ের পরিমাণ কম হলে এবং উপজেলা তহবিল থেকে তা বাস্তবায়নের মতো সংস্থান থাকলে ওই তহবিল থেকেই প্রকল্পটি সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

আজকের সিলেট/ জেকেএস

সিলেটজুড়ে


মহানগর