শ্রীমঙ্গলে স্কুল চলাকালে মশার ওষুধ স্প্রে, অসুস্থ ৫ ছাত্রী
রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:২০ PM

শ্রীমঙ্গলে স্কুল চলাকালে মশার ওষুধ স্প্রে, অসুস্থ ৫ ছাত্রী

শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২০/০৯/২০২৬ ০৮:০৯:৩৭ PM

শ্রীমঙ্গলে স্কুল চলাকালে মশার ওষুধ স্প্রে, অসুস্থ ৫ ছাত্রী


মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে স্কুল চলাকালীন মশা নিধনের ওষুধ ছিটানোর পর পাঁচ ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়েছে। তাদের মধ্যে তিনজন ঘটনাস্থলেই জ্ঞান হারায়। গুরুতর অবস্থায় তিন শিক্ষার্থীকে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।রোববার দুপুরে শহরের কলেজ রোডে অবস্থিত শাহ মোস্তফা জামেয়া ইসলামিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

অসুস্থ পাঁচ শিক্ষার্থীর মধ্যে দশম শ্রেণির আতিকা ও ফাইজা এবং সপ্তম শ্রেণির আরিফা গুরুতর অসুস্থ হওয়ায় তাদের মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। সপ্তম শ্রেণির রূপসা আক্তার মাহিয়া ও সাবিকুন্নাহার ব্যাপারী প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরে গেছে।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ায় শ্রীমঙ্গল পৌরসভা শহরজুড়ে মশক নিধন কার্যক্রম শুরু করেছে। এর অংশ হিসেবে রোববার দুপুরে ক্লাস চলার সময় কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই শাহ মোস্তফা জামেয়া ইসলামিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের চারপাশে ফগার মেশিন দিয়ে মশার ওষুধ ছিটানো হয়।

ধোঁয়া যাতে শ্রেণিকক্ষে না ঢোকে, সে জন্য দরজা-জানালা বন্ধ করে দেওয়া হলেও জানালার ফাঁক দিয়ে ভেতরে বাষ্প প্রবেশ করে। কিছুক্ষণের মধ্যেই শ্রেণিকক্ষ ও আশপাশের পরিবেশ ধোঁয়ায় ভরে গেলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে শ্বাসকষ্ট ও অসুস্থতা দেখা দেয়। একপর্যায়ে তিনজন শিক্ষার্থী জ্ঞান হারায়।

অসুস্থ এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘মশার ওষুধ দেওয়ার সময় আমাদের নিশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছিল। সবাই কাশতে কাশতে অস্থির হয়ে পড়ি। হঠাৎ বান্ধবী মাথা ঘুরে পড়ে গেলে শিক্ষকদের জানাই।’

পরে অসুস্থ শিক্ষার্থীদের প্রথমে শহরের একটি প্রাইভেট হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। সেখান থেকে তাদের শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে তিনজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আতিকার চাচা শেখ মোহাম্মদ জালাল মিয়া বলেন, খবর পেয়ে হাসপাতালে গিয়ে তিনি দেখেন, তার ভাতিজির নাক-মুখ বন্ধ হয়ে আসছে। গুরুতর অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও সময়মতো সরকারি অ্যাম্বুলেন্স ও কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসা পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে চিকিৎসকের পরামর্শে তাকে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়।

ঘটনার পর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীদের অভিভাবকেরা। তাদের ভাষ্য, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে ক্লাস শেষে অথবা ছুটির পর মশার ওষুধ ছিটানো হলে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতো না।

শাহ মোস্তফা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মনসুর বলেন, ‘স্কুল চলাকালীন ওষুধ ছিটানোর বিষয়ে আগে থেকে কিছুই জানানো হয়নি। শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে পড়লে দ্রুত অভিভাবকদের জানিয়ে তাদের হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করি।’

শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. নাভীদ বিন রাইয়ান বলেন, ‘মশার ওষুধের বিষাক্ত ধোঁয়া থেকেই ছাত্রীরা মারাত্মক শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হয়। তিনজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।’

ঘটনার বিষয়ে শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিয়াউর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি জানা নেই, এখন জানলাম। তবে ভবিষ্যতে যেন সবসময় স্কুল ছুটির পরই ওষুধ স্প্রে করা হয়, তা নিশ্চিত করা হবে।’

আজকের সিলেট/ জেকেএস

সিলেটজুড়ে


মহানগর