মৌলভীবাজারের বড়লেখায় গৃহবধূ মরিয়ম আক্তার মুন্নির আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় তাঁর ননদ চামেলীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মামলায় তাঁকে প্রধান আসামি করা হয়েছে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাতে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন বড়লেখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান খান। তিনি জানান, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঢাকার কেরানীগঞ্জের বসিলা এলাকা থেকে পুলিশের একটি বিশেষ দল চামেলীকে গ্রেফতার করে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ২১ আগস্ট বড়লেখার মুড়িরগুল এলাকায় শ্বশুরবাড়ি থেকে মুন্নির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় তাঁর বাবা মকবুল আলী থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করেন।
পরে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর ৫ সেপ্টেম্বর রাতে মুন্নির মা রেনু বেগম আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে বড়লেখা থানায় মামলা করেন। মামলায় মুন্নির স্বামী, শাশুড়ি, ননদ, ভাশুর ও জাসহ ছয়জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও পাঁচজনকে আসামি করা হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রায় চার বছর আগে বড়লেখার মুড়িরগুল এলাকার মৃত ইয়াছিন আলীর ছেলে লাভলু আহমদের সঙ্গে মুন্নির বিয়ে হয়। তাঁদের আড়াই বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। বর্তমানে লাভলু সৌদি আরবে অবস্থান করছেন।
মুন্নির পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই তাঁর কাছে পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করা হতো। পাশাপাশি বিভিন্ন ঋণের কিস্তি পরিশোধের জন্যও চাপ দেওয়া হতো। চাহিদামতো টাকা দিতে না পারায় তাঁকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারে নির্যাতনের অডিও ও ভিডিও থাকার কথাও বলা হয়েছে। পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিনের নির্যাতন ও মানসিক চাপের একপর্যায়ে মুন্নি আত্মহত্যা করতে বাধ্য হন।
আজকের সিলেট/ জেকেএস
বড়লেখা (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি 








