জুড়ীতে অটোরিকশাচালক হত্যায় মা ও মেয়ে গ্রেপ্তার
শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:২৮ PM

জুড়ীতে অটোরিকশাচালক হত্যায় মা ও মেয়ে গ্রেপ্তার

জুড়ী (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৯/০৯/২০২৬ ০৩:৩৩:৪৯ PM

জুড়ীতে অটোরিকশাচালক হত্যায় মা ও মেয়ে গ্রেপ্তার


মৌলভীবাজারের জুড়ীতে সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক আবুল কালাম ওরফে বুলুচানকে (৩৫) হত্যার ঘটনায় মা ও মেয়েকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার দুজন হলেন- উপজেলার গোয়ালবাড়ি ইউনিয়নের পূর্ব কচুরগুল নালাপুঞ্জি এলাকার আছমা বেগম (৩৮) ও তার মেয়ে লিমা আক্তার (১৯)।

নিহত বুলুচান সম্পর্কে আছমা বেগমের ননদের জামাই। বুলুচান পূর্ব জুড়ী ইউনিয়নের দক্ষিণ বড়ধামাই গ্রামের বাসিন্দা। তিনি অটোরিকশা চালাতেন। যে অটোরিকশাটি তিনি চালাতেন, সেটির মালিক আছমা বেগম।

শনিবার সকালে জুড়ী থানার ওসি মো. রফিকুল ইসলাম এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, বুলুচান হত্যা মামলায় জড়িত থাকার অভিযোগের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে।

নিহতের পরিবারের বরাত দিয়ে পুলিশ জানিয়েছে, গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বুলুচান বাড়ি থেকে বের হন। রাত আনুমানিক ১১টার দিকে তিনি আছমা বেগমের বাড়িতে যান। এরপর আর বাড়িতে ফেরেননি।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, ওই রাতে আছমার বাড়ির একটি কক্ষে ছিলেন বুলুচান। রাত ৩টার দিকে তাকে রান্নাঘরে নিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলায় আঘাত করা হয়। এতে তার মৃত্যু হয় বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। এরপর গত বৃহস্পতিবার দুপুরে জুড়ীর জায়ফরনগর ইউনিয়নের জাঙ্গীরাই ব্রিজসংলগ্ন জুড়ী নদীতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখেন স্থানীয় লোকজন। খবর পেয়ে দুপুরের দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।

পুলিশের সুরতহাল প্রতিবেদনে মরদেহের গলায় ধারালো অস্ত্রের দুটি আঘাত এবং ঘাড়ে আঘাতের চিহ্ন পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। উদ্ধারের সময় মরদেহটির পরনে একটি গেঞ্জি ছিল। পরে স্বজনেরা মরদেহটি বুলুচানের বলে শনাক্ত করেন।

এ ঘটনায় বুলুচানের ভাই হাফিজ উদ্দিন বাদী হয়ে জুড়ী থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন। এরপর হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্‌ঘাটনে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। তদন্তের একপর্যায়ে আছমা বেগম ও তার মেয়ে লিমা আক্তারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হয়। পরে তাদের এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আছমা বেগম ও তার মেয়ে লিমা আক্তার হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যায় ব্যবহৃত একটি দা ও নিহতের মোবাইল ফোনসহ কয়েকটি আলামত উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নিহত বুলুচানের দ্বিতীয় স্ত্রী ওয়াহিদা আক্তার সাবানা বলেন, বুলুচান অনেক সময় পরিচিতজনদের বাড়িতে থাকতেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় অটোরিকশার মালিকের ভাইয়ের স্ত্রী তাকে তাদের বাড়ির বাজার করার জন্য ফোন করেন। ফোনে কথা বলার পর তিনি বাড়ি থেকে বের হন। এরপর আর বাড়িতে ফেরেননি।

ওসি রফিকুল ইসলাম আরও বলেন, তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যায় ব্যবহৃত দা উদ্ধার করা হয়েছে। হত্যার প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার সঙ্গে আর কেউ জড়িত কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। গ্রেপ্তার দুজনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

আজকের সিলেট/এপি/প্রতিনিধি

সিলেটজুড়ে


মহানগর