সিলেটের ডাম্পিং ইয়ার্ডে হাজারো যানবাহন, পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে যন্ত্রাংশ
শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৪৩ PM

সিলেটের ডাম্পিং ইয়ার্ডে হাজারো যানবাহন, পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে যন্ত্রাংশ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৮/০৯/২০২৬ ০৭:৩৫:২৫ PM

সিলেটের ডাম্পিং ইয়ার্ডে হাজারো যানবাহন, পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে যন্ত্রাংশ


খোলা আকাশের নিচে পড়ে আছে হাজার হাজার যানবাহন। কোথাও ঝোপঝাড়ের আড়ালে হারিয়ে গেছে গাড়ির অংশবিশেষ, আবার কোথাও জমে থাকা পানিতে ডুবে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে যানবাহন। ব্যাটারিচালিত রিকশাগুলোর অধিকাংশই পড়ে আছে ব্যাটারি ছাড়া। অন্য অনেক গাড়ি ও মোটরসাইকেলের গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশও নেই।

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) দক্ষিণ সুরমার আলমপুরস্থ ডাম্পিং ইয়ার্ডে গিয়ে এমন চিত্র দেখা গেছে। দীর্ঘদিন ধরে অযত্নে পড়ে থাকা এসব যানবাহনের অনেকগুলো কার্যত কঙ্কালে পরিণত হয়েছে।

শুধু ডাম্পিং ইয়ার্ড নয়, বিভিন্ন মামলার আলামত হিসেবে থানায় জব্দ থাকা যানবাহনের অবস্থাও আরও নাজুক। কোনো গাড়ির ব্যাটারি নেই, কোনোটি হারিয়েছে হেডলাইট, আবার কোনো যানবাহনের গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশও উধাও। বছরের পর বছর উন্মুক্ত জায়গায় পড়ে থাকার পাশাপাশি পুলিশ হেফাজতে থাকা অবস্থায়ও কিছু যন্ত্রাংশ চুরি হয়ে যাচ্ছে বলে স্বীকার করেছে পুলিশ।

এসএমপি সূত্র জানায়, ট্রাফিক পুলিশের অভিযানে জব্দ করা যানবাহনগুলো আলমপুরের ডাম্পিং ইয়ার্ডে রাখা হয়। অন্যদিকে বিভিন্ন মামলায় আলামত হিসেবে জব্দ করা গাড়ি ও মোটরসাইকেল সংশ্লিষ্ট থানার কম্পাউন্ডে রাখা হয়। স্থায়ী ডাম্পিং ইয়ার্ড ও শেড না থাকায় এসব যানবাহনকে দীর্ঘ সময় ধরে খোলা আকাশের নিচেই রাখতে হচ্ছে।

সরেজমিনে আলমপুর ডাম্পিং ইয়ার্ডে দেখা যায়, সেখানে হাজার হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশা, টমটম, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন পড়ে রয়েছে। পুরো ইয়ার্ডের বিভিন্ন অংশে হাঁটুপানি জমে আছে। কোথাও ঝোপঝাড়ের মধ্যে যানবাহনের অংশবিশেষ দেখা যাচ্ছে, আবার কোনো কোনো যানবাহন পানিতে প্রায় ডুবে আছে।

এসএমপির উপকমিশনার (ট্রাফিক) সুদীপ্ত রায় বলেন, ট্রাফিক পুলিশের হাতে আটক গাড়িগুলো ডাম্পিংয়ে নেওয়া হলেও মালিকরা হালনাগাদ কাগজপত্র নিয়ে এলে সেগুলো ছেড়ে দেওয়া হয়। ফলে সাধারণত ডাম্পিংয়ে অতিরিক্ত যানবাহন থাকার কথা নয়। তবে যেসব যানবাহনের কাগজপত্র নেই এবং ব্যাটারিচালিত অবৈধ রিকশাগুলো দীর্ঘদিন ধরে পড়ে আছে।

শেড না থাকায় এসব যানবাহন বাধ্য হয়ে খোলা আকাশের নিচে রাখতে হচ্ছে বলে জানান তিনি। তাঁর ভাষ্য, এ কারণে যানবাহনগুলোর কিছুটা নষ্টও হচ্ছে।

থানাগুলোতে থাকা জব্দ যানবাহনের পরিস্থিতি আরও খারাপ বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। চোরাইপণ্য বা মাদকসহ জব্দ করা যানবাহন এবং দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত গাড়ি মামলার আলামত হিসেবে বছরের পর বছর থানার ভেতরে পড়ে থাকে। তদন্ত শেষ হওয়ার পর বা আদালতের নির্দেশে মালিকরা যানবাহন নিতে গেলে অনেক সময় সেটির মূল্যবান যন্ত্রাংশ আর পাওয়া যায় না।

আদালতের নির্দেশে নিলামে তোলা যানবাহনের ক্ষেত্রেও একই ধরনের পরিস্থিতি দেখা যায়। অনেক সময় যন্ত্রাংশ না থাকায় সেগুলো ব্যবহারযোগ্য গাড়ি হিসেবে নয়, স্ক্র্যাপ হিসেবেই বিক্রি হয়।

চলতি মাসে কয়েকটি মোটরসাইকেল নিলামে তোলা হলে একেকটির দাম ওঠে ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। নিলামে অংশ নেওয়া সোহেল আহমদ বলেন, একটি মোটরসাইকেলের দাম চাওয়া হয়েছিল ২৫ হাজার টাকা। কিন্তু সেটির বেশিরভাগ যন্ত্রাংশই নেই। তাই তিনি ৩ হাজার টাকা দাম বলেছেন। তাঁর মতে, মোটরসাইকেলটি ভাঙাড়ির দোকানে বিক্রি করা ছাড়া অন্য কাজে ব্যবহার করার মতো অবস্থায় নেই।

জব্দ যানবাহন সংরক্ষণের সংকটের বিষয়ে এসএমপি কমিশনার সারোয়ার মোর্শেদ শামীম বলেন, এসএমপির বর্তমান ডাম্পিং ইয়ার্ডে জব্দ করা সব গাড়ি রাখার মতো পর্যাপ্ত জায়গা নেই। সাময়িকভাবে দুটি স্থানে যানবাহন রাখা হচ্ছে।

তিনি বলেন, স্থায়ী ডাম্পিং ইয়ার্ড তৈরি করা গেলে যানবাহনগুলো ভালোভাবে সংরক্ষণ করা সম্ভব হতো। পাশাপাশি সেখানে স্থায়ী শেডও নির্মাণ করা যেত। এ বিষয়ে সিটি করপোরেশনের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

খোলা আকাশের নিচে যানবাহন রাখলে কিছুটা নষ্ট হওয়া স্বাভাবিক উল্লেখ করে কমিশনার বলেন, অস্থায়ী ডাম্পিং ইয়ার্ডের চারপাশে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা গেলে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা সম্ভব হতো। পুলিশ দায়িত্ব পালন করলেও কিছু যানবাহনের যন্ত্রাংশ খোয়া যায়—এটি সত্য বলেও স্বীকার করেন তিনি।

আজকের সিলেট/ জেকেএস

সিলেটজুড়ে


মহানগর