রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবারের মতো মঙ্গলবার সিলেট সফরে আসছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তাঁকে স্বাগত জানাতে নগরজুড়ে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, স্থাপনা ও বিভিন্ন এলাকা সাজানো হয়েছে বর্ণিল সাজে; একই সঙ্গে সফর নির্বিঘ্ন করতে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তাব্যবস্থা।
রাষ্ট্রপতির আগমন উপলক্ষে সিলেট সার্কিট হাউসে সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ করা হয়েছে। নগরের বিভিন্ন সড়কের ডিভাইডার, কিন ব্রিজ, আলী আমজাদের ঘড়িঘরসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো রং-তুলির আঁচড়ে নতুনভাবে সাজানো হয়েছে। সার্কিট হাউস এলাকাতেও করা হয়েছে আল্পনা।
সফরকে সামনে রেখে হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরাণ (রহ.)-এর মাজার এলাকায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালানো হয়েছে। পাশাপাশি সিলেট সিটি করপোরেশন প্রাঙ্গণেও চলছে সাজসজ্জার কাজ। নগর ভবন প্রাঙ্গণে প্যান্ডেল নির্মাণ করে নাগরিক সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে নগরবাসীর পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতিকে আনুষ্ঠানিকভাবে বরণ করা হবে।
সফরসূচি অনুযায়ী, সিলেটে পৌঁছানোর পর রাষ্ট্রপতি প্রথমে হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করবেন। পরে বিকেলে সিলেট সিটি করপোরেশন আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনায় অংশ নেবেন তিনি। অনুষ্ঠান শেষে সন্ধ্যায় ঢাকার উদ্দেশে সিলেট ত্যাগ করার কথা রয়েছে তাঁর।
রাষ্ট্রপতির সফর ঘিরে নিরাপত্তার বিষয়টিকেও সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে। নিরাপত্তা, সড়ক ব্যবস্থাপনা ও বিভিন্ন আয়োজনের প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) উপপুলিশ কমিশনার (উত্তর) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, রাষ্ট্রপতির সফর নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে এসএমপির পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
তিনি আমার দেশকে বলেন, রাষ্ট্রপতির দপ্তরের স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ) ও বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থার পাশাপাশি এসএমপিও ব্যাপক নিরাপত্তা প্রস্তুতি নিয়েছে।
মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, রাষ্ট্রপতির চলাচলের বিভিন্ন সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে গোয়েন্দা শাখা (ডিবি), স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি) এবং সাদা পোশাকে পুলিশ সদস্যদের মোতায়েন করা হবে। সার্বিক নিরাপত্তায় পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ক্রাইম রেসপন্স টিম (সিআরটি)-এর সদস্যদেরও স্ট্যান্ডবাই রাখা হবে।
সফরের সময় নগরীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকা, প্রবেশপথ এবং সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে বিশেষ নজরদারি থাকবে। এসএমপির সংশ্লিষ্ট সব ইউনিট সমন্বয়ের মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করবে বলেও জানান উপ-পুলিশ কমিশনার।
এদিকে রাষ্ট্রপতির সফর উপলক্ষে সিলেট জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নেওয়া হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মাসুদ রানা আমার দেশকে জানান, সফরকে ঘিরে সার্বিক প্রস্তুতি এগিয়ে চলছে।
তিনি জানান, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে একাধিক সভা হয়েছে। এসব সভায় নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা ও সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সফর সফল ও নির্বিঘ্ন করতে সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর ও সংস্থাকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
সরকারি প্রস্তুতির পাশাপাশি রাজনৈতিকভাবেও রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এ উপলক্ষে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী আমার দেশকে জানান, রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর সিলেটে এটি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের প্রথম সফর। এ উপলক্ষে সিলেট মহানগর বিএনপি এবং দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা সাধারণ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সড়কের দুই পাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানাবেন।
তিনি আরও বলেন, দলের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে সফরটি সুষ্ঠু, সুন্দর ও সফল করতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবেন।
সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী জানান, রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানাতে নাগরিক সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়েছে। এ ছাড়া মাজার এলাকায় ছয়তলা ভবন, মহিলা ইবাদতখানা, কবরস্থানের বাউন্ডারি ও পুকুরসহ বিভিন্ন উন্নয়নকাজ সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে বড় একটি প্রকল্পের কাজও চলমান রয়েছে।
রাষ্ট্রপতির সফরকে স্বাগত জানাতে সিলেটবাসী প্রস্তুত রয়েছে উল্লেখ করে আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী সফরটি সুন্দর ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিকভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
আজকের সিলেট/ জেকেএস









