নদীভাঙনে বিলীনের পথে শিমুলতলার শত বছরের পুরনো কবরস্থান
মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:০৯ AM

নদীভাঙনে বিলীনের পথে শিমুলতলার শত বছরের পুরনো কবরস্থান

শাহ্ মাশুক নাঈম, দোয়ারাবাজার (সুনামগঞ্জ) থেকে

প্রকাশিত: ১৪/০৯/২০২৬ ০২:৪৩:৪৯ PM

নদীভাঙনে বিলীনের পথে শিমুলতলার শত বছরের পুরনো কবরস্থান


সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের শিমুলতলা গ্রামের শত বছরের পুরনো কবরস্থানটি খাশিয়ামার নদীর (উপশাখা) ভাঙনে ক্রমেই ছোট হয়ে আসছে। ইতোমধ্যে কবরস্থানের একটি অংশ নদীগর্ভে চলে গেছে। বেশ কয়েকটি কবর বিলীন হওয়ায় স্বজনদের কেউ কেউ সেখান থেকে হাড়গোড় তুলে অন্যত্র দাফন করেছেন।

প্রায় তিন একর জায়গাজুড়ে থাকা এই কবরস্থানটি শিমুলতলা গ্রামসহ আশপাশের মানুষের কাছে দীর্ঘদিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক স্থান। সরেজমিনে দেখা গেছে, নদীর ভাঙন কবরস্থানের একেবারে কাছাকাছি চলে এসেছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পুরো কবরস্থানই নদীতে বিলীন হয়ে যেতে পারে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় একশ বছর আগে শিমুলতলা গ্রামসহ আশপাশের এলাকার মানুষের উদ্যোগে কবরস্থানটি প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর কয়েক প্রজন্মের মানুষের স্বজন এখানে চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন। বাপ-দাদা ও আপনজনদের কবর জিয়ারত করতে গ্রামের মানুষ নিয়মিত সেখানে যান। দেশ-বিদেশে অবস্থানরত গ্রামের লোকজন বাড়িতে এলেও প্রিয়জনদের শেষ স্মৃতির জায়গাটি দেখতে কবরস্থানে ছুটে যান।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, অতীতে গ্রামের মানুষের সহযোগিতায় বাঁশ ও গাছ ব্যবহার করে নদীভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করা হতো। তবে এখন আগের মতো গ্রামের মানুষের মধ্যে মিল-মহব্বত না থাকায় সম্মিলিতভাবে ভাঙন প্রতিরোধের উদ্যোগও কমে গেছে। এতে পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়েছে। তাদের আশঙ্কা, ভাঙন ঠেকানো না গেলে কবরস্থানের পাশাপাশি পুরো গ্রামের অস্তিত্বও হুমকির মুখে পড়বে।

শিমুলতলা গ্রামের মাওলানা জমির উদ্দীন আজকের সিলেটকে বলেন, কবরস্থানটি গ্রামের একটি ঐতিহ্যবাহী স্থান। বহু বছর আগে গ্রামবাসীর সহযোগিতায় এটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। এখানে শত শত মানুষ চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন। নদীভাঙনের কারণে অনেক পরিবার তাদের স্বজনদের শেষ স্মৃতিটুকু রক্ষার জন্য হাড়গোড় ও কঙ্কাল তুলে অন্যত্র দাফন করছেন। এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি কবর নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।

তিনি বলেন, জরুরি ভিত্তিতে কবরস্থানটি সংরক্ষণের ব্যবস্থা না করলে পূর্বপুরুষদের স্মৃতিবিজড়িত কবরগুলোও নদীতে হারিয়ে যাবে।

একই গ্রামের মইনূল হক আজকের সিলেটকে বলেন, চোখের সামনে শত শত কবর নদীগর্ভে বিলীন হতে দেখলেও তাঁরা কিছু করতে পারছেন না। বিষয়টি খুবই কষ্টের। একদিন হয়তো তাঁদেরও এই কবরস্থানে শায়িত হতে হবে। তখন আত্মীয়-স্বজনদের মতো তাঁদের কবরও নদীতে বিলীন হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করেন তিনি।

সুরমা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হারুন-আর-রশীদ বলেন, কবরস্থান মানুষের পার্থিব জীবনের শেষ ঠিকানা এবং অনন্তকালের যাত্রার প্রথম ধাপ। নদীভাঙনে এমন একটি কবরস্থান বিলীন হওয়ার খবর শুনে তিনি ব্যথিত হয়েছেন। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে ভাঙন প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান তিনি।

তবে এখন পর্যন্ত নদীভাঙন ঠেকাতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবি) কার্যকর কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

দোয়ারাবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সাদ্দাম হোসেন আজকের সিলেটকে বলেন, শিমুলতলা কবরস্থান নদীভাঙনে বিলীন হওয়ার বিষয়টি তিনি প্রথমবারের মতো জানতে পেরেছেন। তিনি কবরস্থানটি পরিদর্শন করবেন। এরপর প্রকল্প গ্রহণের মাধ্যমে স্থায়ীভাবে ভাঙন প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

আজকের সিলেট/ জেকেএস

সিলেটজুড়ে


মহানগর