মেয়াদ শেষ, কাজ ২৫ শতাংশ: কবে চালু হবে সিলেট-ছাতক রেলপথ?
রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৪১ PM

মেয়াদ শেষ, কাজ ২৫ শতাংশ: কবে চালু হবে সিলেট-ছাতক রেলপথ?

ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২০/০৯/২০২৬ ০৭:২৯:৫১ AM

মেয়াদ শেষ, কাজ ২৫ শতাংশ: কবে চালু হবে সিলেট-ছাতক রেলপথ?


২০২২ সালের ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সিলেট-ছাতক রেলপথ সংস্কারে ২১৭ কোটি টাকার বেশি ব্যয়ে নেওয়া প্রকল্পের নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হলেও কাজ এগিয়েছে মাত্র ২০ থেকে ২৫ শতাংশ। এর মধ্যে প্রায় চার বছর ধরে বন্ধ রয়েছে এই রেলপথে ট্রেন চলাচল। সংস্কারকাজের ধীরগতির পাশাপাশি এরই মধ্যে রেললাইনের লোহার পাত ও মূল্যবান স্লিপার চুরি যাওয়ায় পুরো প্রকল্পের বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে।

রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশ রেলওয়ের সিলেট থেকে ছাতক বাজার অংশ পর্যন্ত প্রায় ৩৪ কিলোমিটার মিটারগেজ রেলপথ পুনর্বাসনের জন্য ২০২৫ সালে প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। ‘বাংলাদেশ রেলওয়ের সিলেট থেকে ছাতক বাজার অংশের (মিটারগেজ ট্র্যাকিং) পুনর্বাসন প্রকল্প’ নামের এই প্রকল্পে মোট আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছে ২১৭ কোটি ৩৪ লাখ ৪ হাজার ৩৬৯ টাকা।

জিঅবি ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) যৌথ অর্থায়নে প্রকল্পটি ২০২৫ সালের ২ জানুয়ারি সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভায় অনুমোদন পায়। পরে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মীর আখতার হোসেন লিমিটেড (এমএএইচএল)’ কাজটি পায়। ২০২৫ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর হয়। চুক্তির মূল্য ছিল প্রায় ১৯৯ কোটি টাকা। প্রকল্প বাস্তবায়নের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল ২৩ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত।

কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও প্রকল্পের বড় একটি অংশের কাজ এখনো বাকি। দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ২০ থেকে ২৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। ৯৬টি পাইলিং পয়েন্টের মধ্যে ৮৫টির কাজ সম্পন্ন হয়েছে। পাশাপাশি মাটি ভরাট ও কালভার্ট নির্মাণের কাজ চলছে।

প্রকল্পের আওতায় ক্ষতিগ্রস্ত রেলপথ পুনর্নির্মাণ ও সংস্কারের পাশাপাশি মাটি ভরাট, কালভার্ট ও সেতু মেরামত, নতুন স্লিপার স্থাপন এবং নতুন রেললাইন বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এরই মধ্যে ছাতক থেকে সিলেট পর্যন্ত প্রায় ৩৪ কিলোমিটার পুরোনো রেললাইন তুলে ফেলা হয়েছে। তবে নতুন ট্র্যাক স্থাপনসহ গুরুত্বপূর্ণ আরও কয়েকটি কাজ এখনো পিছিয়ে রয়েছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ছাতক উপজেলার গোবিন্দগঞ্জ, হাসনাবাদ, কালারুকা, মাধবপুর, ছৈলা-আফজলাবাদ, সৎপুর এবং সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার খাজাঞ্চিসহ বিভিন্ন এলাকায় সংস্কারকাজ চলছে ধীরগতিতে। কিছু এলাকায় কাজ বন্ধ থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি সড়কে মাটি ভরাটের পর রেলপথের উচ্চতা যথাযথভাবে নির্ধারণ না হওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

ইসলামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সুফি আলম সোহেল বলেন, পণ্য পরিবহন এবং কম খরচে যোগাযোগের ক্ষেত্রে এই রেলপথের গুরুত্ব অনেক। সংস্কারকাজ শুরু হওয়ায় নতুন করে আশার সৃষ্টি হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে মাটি ভরাটের কাজ ছাড়া দৃশ্যমান অগ্রগতি তেমন দেখা যাচ্ছে না। ফলে সড়কপথে পণ্য পরিবহনে সময়ের পাশাপাশি ব্যয়ও বাড়ছে।

একই ধরনের হতাশার কথা জানিয়েছেন জাউয়া বাজার এলাকার ব্যবসায়ী হেলাল উদ্দিন। তাঁর ভাষ্য, সংস্কারকাজ হঠাৎ স্থবির হয়ে পড়লেও কেন এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, সে বিষয়ে স্থানীয়রা পরিষ্কার কোনো তথ্য পাচ্ছেন না।

প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও সিলেট রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন উপসহকারী প্রকৌশলী মাসুদ পারভেজ জানান, প্রকল্পের প্রায় ২৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে এবং প্রায় ৭৫ শতাংশ কাজ এখনো বাকি। ২৩ আগস্ট নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ায় প্রকল্পের সময় বাড়ানো এবং পরবর্তী বাস্তবায়নের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেবে।

এদিকে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ার পেছনে সুনামগঞ্জের প্রতিকূল আবহাওয়া ও ভারি বৃষ্টিপাতকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মীর আখতার হোসেন লিমিটেডের প্রকল্প প্রকৌশলী সজিবুর রহমান।

প্রতিষ্ঠানটির প্রকল্প ব্যবস্থাপক আবুল কালাম আজাদ বলেন, দেড় বছর মেয়াদের প্রকল্পের মধ্যে দুটি বর্ষাকাল পড়েছে। এর সঙ্গে রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে প্রয়োজনীয় কিছু মালামাল নির্ধারিত সময়ে আমদানি করা সম্ভব হয়নি। এসব কারণে কাজ ব্যাহত হয়েছে। সম্প্রতি ২৯ কোটি টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে এবং প্রয়োজনীয় মালামাল আমদানির চেষ্টা চলছে।

তিনি আরও জানান, বাকি কাজ শেষ করতে প্রকল্পের মেয়াদ আরও এক বছর বাড়ানোর আবেদন করা হয়েছে। বর্ধিত সময় পাওয়া গেলে অবশিষ্ট কাজ শেষ করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদী।

তবে নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও যখন প্রকল্পের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ কাজ অসম্পূর্ণ, তখন দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা সিলেট-ছাতক রেলপথে আবার কবে ট্রেন চলবে সেই প্রশ্নই এখন সবচেয়ে বড় হয়ে দেখা দিয়েছে।

আজকের সিলেট/ জেকেএস

সিলেটজুড়ে


মহানগর