শরতের আগমনী বার্তা যেন জানান দিচ্ছে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের ভুড়ভুড়িয়া ছড়ার পাড়ের কাশবন। দুই পাশে সবুজ চা-বাগান আর মাঝ দিয়ে বয়ে যাওয়া ছড়ার তীরে জেগে ওঠা বালুচরজুড়ে এখন দুলছে শুভ্র কাশফুল। প্রায় এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে সাদা কাশফুলের এই দৃশ্য প্রকৃতিপ্রেমী ও দর্শনার্থীদের টানছে প্রতিদিন।
শ্রীমঙ্গল শহর থেকে মাত্র দুই কিলোমিটার দূরে ভানুগাছ সড়কের বেলতলী–সংলগ্ন ভুড়ভুড়িয়া ছড়ার পাশে এ কাশফুলের বালুচর। ভানুগাছ সড়ক ধরে কিছুটা এগোলেই চোখে পড়ে মনোমুগ্ধকর এই প্রাকৃতিক দৃশ্য। প্রতিবছর আগস্টের শেষের দিক থেকে অক্টোবরের প্রথম দিকে এখানে কাশফুল ফুটতে শুরু করে। ফলে প্রায় দুই মাস ধরে স্থানীয় মানুষ ও পর্যটকদের আনাগোনায় মুখর হয়ে ওঠে এলাকাটি।
শনিবার (২৯ আগষ্ট) দুপুরের পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সরেজমিনে দেখা যায়, বিভিন্ন বয়সী মানুষ দূরদূরান্ত থেকে কাশফুল দেখতে এসেছেন। কেউ ফুলের সঙ্গে ছবি তুলছেন, কেউ আবার কাশগাছের ভেতরে ঢুকে পড়ছেন। আবার অনেকেই খোলা বাতাসে পুরো বালুচর ঘুরে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করছেন।
ঢাকা থেকে পরিবার নিয়ে শ্রীমঙ্গলে বেড়াতে আসা পর্যটক মিসেস সুমাইয়া জামান জানান, গত বৃহস্পতিবার রাতে তাঁরা শ্রীমঙ্গলে পৌঁছান। বিভিন্ন পর্যটনস্থান ঘুরে দেখার পর স্থানীয়দের কাছ থেকে কাশবনের কথা জানতে পেরে সেখানে আসেন। চারপাশের সবুজের মাঝে সাদা কাশফুলের পরিবেশ তাঁর কাছে বেশ উপভোগ্য মনে হয়েছে। তাঁর মতে, ঢাকার কাশবনের সঙ্গে এখানকার কাশবনের সৌন্দর্যের পার্থক্য রয়েছে।
কাশফুল দেখতে আসা সালশ্রী আজিম বলেন, ‘জায়গাটি অনেক সুন্দর। এই প্রথম এখানে এসেছি। এখানে সময় কাটাতে খুবই ভালো লাগছে। এই কাশফুলগুলোর সঙ্গে ছবি তুললে ছবিগুলোও অনেক সুন্দর হয়।’
কর্মব্যস্ত জীবনের ব্যস্ততা থেকে কিছুটা অবসর পেতে আশপাশের বিভিন্ন এলাকার মানুষও ছুটে আসছেন এখানে। শরতের স্বচ্ছ আকাশের নিচে বাতাসে দুলতে থাকা কাশফুলের শুভ্রতা দর্শনার্থীদের জন্য হয়ে উঠেছে বিনোদনের আকর্ষণীয় একটি স্থান। বিশেষ করে শহরের কোলাহল থেকে দূরে কিছুটা নিরিবিলি সময় কাটাতে আগ্রহীদের কাছে জায়গাটি বেশ আকর্ষণীয়।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতিবছর আগস্টের শুরু কিংবা শেষের দিকে কাশফুল ফুটতে শুরু করে। সেপ্টেম্বর মাসে এসে প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকা সাদা কাশফুলে ছেয়ে যায়। সেপ্টেম্বরের শেষভাগ অথবা অক্টোবরের প্রথম দিকে ফুল ঝরে যেতে শুরু করে। আর সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে দর্শনার্থীদের উপস্থিতি আরও বেড়ে যায়।
শ্রীমঙ্গল পর্যটনসেবা সংস্থার সাধারন সম্পাদক ও গ্রিনলিফ গেস্ট হাউজের পরিচালক,এস কে দাশ সুমন বলেন, শ্রীমঙ্গলে আসা পর্যটক ও স্থানীয় মানুষের কাছে প্রায় দুই মাস ধরে কাশফুলের এই স্থানটি আকর্ষণের কেন্দ্র হয়ে থাকে। চায়ের রাজধানী হিসেবে শ্রীমঙ্গলের পরিচিতি দেশে–বিদেশে রয়েছে। চা-বাগানের পাশাপাশি এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যও পর্যটকদের আকৃষ্ট করে। গত চার-পাঁচ বছর ধরে ভুড়ভুড়িয়া ছড়ার পাশের এই কাশফুলের বালুচর মানুষের কাছে আলাদা আকর্ষণ তৈরি করেছে।
তিনি বলেন, শ্রীমঙ্গলে আসা পর্যটকেরা প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতেই এখানে আসেন। কাশবন ও কাশফুল তাঁদের সেই অভিজ্ঞতায় বাড়তি আনন্দ যোগ করে। তবে দর্শনার্থীদের কাশফুল না ছেঁড়ার পাশাপাশি সেখানে ময়লা–আবর্জনা না ফেলার অনুরোধ জানান তিনি। তাঁর ভাষায়, প্রকৃতিকে ভালোবাসলে প্রকৃতিও মানুষকে ভালোবাসবে।
এদিকে স্থানীয় প্রকৃতিপ্রেমীদের আশঙ্কা, মানুষের অসচেতন আচরণের কারণে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ধীরে ধীরে কাশবন হারিয়ে যাচ্ছে। তাই ভুড়ভুড়িয়া ছড়ার পাড়ে প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা এই কাশবন টিকিয়ে রাখতে দর্শনার্থীদের সচেতন হওয়া জরুরি। তাঁদের পরামর্শ, কাশফুল না ছিঁড়ে এবং কাশবনের ভেতরে প্রবেশ না করে দূর থেকেই এর সৌন্দর্য উপভোগ করা উচিত।
আজকের সিলেট/ জেকেএস
শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি 








