স্কুলের টাই, গয়না আর ট্যাটুতে প্রিয়জন খুঁজছেন স্বজনেরা
সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ০১:৫২ PM

স্কুলের টাই, গয়না আর ট্যাটুতে প্রিয়জন খুঁজছেন স্বজনেরা

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩১/০৮/২০২৬ ০৯:৪০:২৮ AM

স্কুলের টাই, গয়না আর ট্যাটুতে প্রিয়জন খুঁজছেন স্বজনেরা


নেপালের স্মরণকালের ভয়াবহ বিপর্যয়ের পর শত ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এখনো সন্ধান মেলেনি বহু মানুষের। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনাও কমে আসছে। সর্বশেষ প্রতিবেদনে বিপর্যস্ত এলাকাগুলো থেকে ৮০৪টি মরদেহ উদ্ধারের কথা জানানো হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন ২ হাজার ৫০২ জন।

উদ্ধার করা মরদেহগুলোর অনেকগুলোই মুখ দেখে শনাক্ত করা যাচ্ছে না। ফলে স্বজনদের কেউ স্কুলের টাই, কেউ পরনের গয়না, কানের দুল কিংবা শরীরের ট্যাটুর মতো পরিচিত চিহ্ন দেখে প্রিয়জনের মরদেহ শনাক্ত করার চেষ্টা করছেন। মরদেহগুলোতে পচন ধরতে শুরু করায় শনাক্তকরণ আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।

সোমবার (৩১ আগস্ট) সকালে পাওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, জীবিত অবস্থায় সাড়ে ৯ হাজার মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে। রেড ক্রসের প্রাথমিক হিসাব বলছে, বুধবারের এই বিপর্যয়ে আনুমানিক ৯০ হাজারের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

বিপর্যয়ের পর থেকেই নিখোঁজদের স্বজনেরা মর্গগুলোতে ভিড় করছেন। প্রিয়জনের সন্ধানে একেকজনকে মরদেহের পরিচিত কোনো চিহ্ন খুঁজে বের করতে হচ্ছে। কারও স্কুলের টাই, কারও গয়না, আবার কারও শরীরের ট্যাটু হয়ে উঠছে পরিচয়ের সূত্র।

নিখোঁজদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ভারতীয় নাগরিকও রয়েছেন। শনিবার রাতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, ১০৮ জন ভারতীয়কে উদ্ধার করা হয়েছে এবং আরও ৫০ জনের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়েছে। সে সময় ২৭৫ জন ভারতীয় নিখোঁজ ছিলেন। পাশাপাশি ১২৮ জন ভারতীয় বংশোদ্ভূতেরও কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না।

এদিকে শনাক্ত করা সম্ভব নয় এমন মরদেহগুলোর ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের পর গণকবর দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নেপালের প্রশাসন। এ জন্য জায়গাও নির্ধারণ করা হয়েছে।

রাসুয়ার বিপর্যস্ত এলাকা থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরে চিতওয়ান জেলার দেবঘাট জঙ্গলে তৈরি করা হচ্ছে গণকবরের ব্যবস্থা। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই জঙ্গলে ইতোমধ্যে শত শত কবর খোঁড়া হয়েছে।

নেপালের প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শনাক্ত করা সম্ভব না হওয়া মরদেহগুলোর ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে সেখানেই দাফন করা হবে। চিতওয়ানের জেলা প্রশাসক গণেশ আরিওয়াল বলেন, ‘আমাদের আর কোনো উপায় ছিল না। তাই এই পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হচ্ছি। মরদেহগুলোতে পচন ধরতে শুরু করেছে।’

প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার দেবঘাট জঙ্গলে ৯৬টি মরদেহ দাফন করা হয়। রবিবারও সেখানে আরও মরদেহ দাফন করা হয়েছে।

আজকের সিলেট/ জেকেএস

সিলেটজুড়ে


মহানগর