ইউনিসেফ থেকে টিকা কেনার প্রস্তাব উঠছে ক্রয় কমিটিতে
মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ১২:১৬ PM

ইউনিসেফ থেকে টিকা কেনার প্রস্তাব উঠছে ক্রয় কমিটিতে

আজকের সিলেট ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৯/০৬/২০২৬ ০৯:১৫:০২ AM

ইউনিসেফ থেকে টিকা কেনার প্রস্তাব উঠছে ক্রয় কমিটিতে


সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) আওতায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য ভ্যাকসিন সংগ্রহে ইউনিসেফের মাধ্যমে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে টিকা কিনবে সরকার। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪১২ কোটি ৭১ লাখ ৪৫ হাজার ৭৫৫ টাকা। এ সংক্রান্ত প্রস্তাব সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানায়, শিশু ও নারীদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে এবং ইপিআই কর্মসূচির ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুন ২০২৬ মেয়াদের জন্য প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিন সংগ্রহ করা হবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানদণ্ড ও বাংলাদেশ সরকার এবং ইউনিসেফের মধ্যে বিদ্যমান চুক্তির আলোকে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি (ডিপিএম) অনুসরণ করে এ ভ্যাকসিন সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এ কর্মসূচির জন্য ‘প্রতিষেধক কোড ৩২৫২১১১’-এর আওতায় ১ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ৮৪২ কোটি ৯৫ লাখ ৩৬ হাজার টাকার ভ্যাকসিন ক্রয়ের বার্ষিক ক্রয় পরিকল্পনা (এপিপি) ইতোমধ্যে অনুমোদিত হয়েছে।

অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখের সভায় ইপিআই কর্মসূচির আওতায় মাঠ পর্যায়ে রুটিন ভ্যাকসিন নিরবচ্ছিন্নভাবে সরবরাহ নিশ্চিত করতে ইউনিসেফের মাধ্যমে ৫০ শতাংশ ভ্যাকসিন সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে এবং অবশিষ্ট ৫০ শতাংশ ভবিষ্যতে একই প্রক্রিয়ায় অথবা উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে ক্রয়ের সুপারিশ করা হয়।

এর ধারাবাহিকতায় সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির অনুমোদনক্রমে প্রায় ৪১৯ কোটি ৯৭ লাখ ৬৯ হাজার ৮৪২ টাকা সমপরিমাণ অর্থ ইউনিসেফকে অগ্রিম হিসেবে পাঠানো হয়। পরে সংশোধিত বার্ষিক ক্রয় পরিকল্পনা (আরএপিপি) অনুযায়ী অবশিষ্ট ৫০ শতাংশ ভ্যাকসিন সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

দরপত্র ও প্রস্তাব মূল্যায়ন কমিটির (টিইসি) প্রস্তাব অনুযায়ী ইউনিসেফ থেকে দাখিলকৃত প্রস্তাব মূল্য ৪১২ কোটি ৭১ লাখ ৪৫ হাজার ৭৫৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা দাপ্তরিক প্রাক্কলিত মূল্যের তুলনায় প্রায় ৭ কোটি ৯৯ লাখ ৬০ হাজার টাকা কম।

এই মূল্যের মধ্যে হ্যান্ডলিং ফি ৪ শতাংশ, পরিবহন ও বীমা ফি ০.২ শতাংশ থেকে ৪ শতাংশ (সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ পর্যন্ত) এবং স্ট্যান্ডার্ড কনটিনজেন্সি বাফার ৬ শতাংশ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। টেকনিক্যাল স্পেসিফিকেশন কমিটি ও মূল্যায়ন কমিটির যাচাই শেষে এ প্রস্তাব চূড়ান্ত করা হয়।

পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন ২০০৬-এর ধারা ৬৮ অনুযায়ী জনস্বার্থে জরুরি প্রয়োজন বিবেচনায় সরকার অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে এই ক্রয় কার্য সম্পন্ন করতে পারে।

এ অবস্থায় ইপিআই কর্মসূচির আওতায় ভ্যাকসিনের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে ইউনিসেফের মাধ্যমে ৪১২ কোটি ৭১ লাখ ৪৫ হাজার ৭৫৫ টাকা ব্যয়ে ভ্যাকসিন ক্রয়ের প্রস্তাব সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে বলে জানা গেছে।

আজকের সিলেট/ডি/এসটি

সিলেটজুড়ে


মহানগর