ছবি : মো. সোহেল মিয়া
সিলেট-১ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা হাবিবুর রহমানের ব্যবসায়িক সংশ্লিষ্টতা নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর প্রবণতা নিন্দনীয় বলে মন্তব্য করেছেন সিলেট মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমির মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম।
সোমবার দুপুরে নগরীর ধোপাদিঘীর পাড়ে হাবিবুর রহমানের নির্বাচনী প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
আমির মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেন, ঋণ সংক্রান্ত একটা বিষয় নিয়ে নিজেদের সেই বিষয়গুলো যখন ব্যাপকভাবে আলোচিত সমালোচিত হচ্ছে এবং নিজেরাও এটা নিয়ে নার্ভাস ফিল করছেন সেই জায়গা থেকে আরো কিছু নতুন বিষয় উপস্থাপন করে বিতর্ক তৈরি করার জন্য অপচেষ্টা শুরু হয়েছে। আমরা লক্ষ্য করেছি আপনারা হয়তো দেখবেন যে এই নির্বাচনী হলফনামায় পর্যালোচনা করে ট্রান্সফর্মার ইন্টারন্যাশনাল টিআইবি একটা রিপোর্ট প্রদান করেছে। সেই রিপোর্ট তথ্য ভিত্তিক এবং একদম শতভাগ তারা তথ্যের উপর নির্ভর করেই রিপোর্ট প্রকাশ করে থাকেন।
তিনি জানান, ১৬৩ জন এমপি পদপ্রার্থী যারা ঋণগ্রস্থ। তারা হচ্ছেন বিএনপিন। অন্যদিক বাদ দিলাম। বিএনপির ১৬৩ জন এমপি পদপ্রার্থী ব্যক্তি যারা বিএনপির মনোনয়ন প্রাপ্ত তারা হচ্ছেন ঋণগ্রস্ত এবং তার সাথে ৫৯ জন ঋণ খেলাপি। সুস্পষ্ট বড় অংকের ঋণ নিয়ে ঋণ খেলাফি এইটা আমাদের মধ্যে এই ধরনের ঋণ খেলাপি আপনারা হয়তো খুঁজে পাবেন না।
তিনি বলেন, এখানে নিজেদের এই বিষয়টা ঢাকার জন্য এবং সিলেটের একটা বিষয় নিয়ে একটু আলোচনা সমালোচনা শুরু হয়েছে। আমরা দেখলাম যে আমাদের শ্রদ্ধেয় আরেকজন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী তিনি বদরুদ্দিন কামরান সাব মরহুমকে নিয়ে একটা মিথ্যাচার। এটা আমাদের খুব কষ্ট লেগেছে। একজন ব্যক্তি দুনিয়া থেকে চলে গিয়েছেন, তিনি দুনিয়া থেকে কি করেছেন এটা আমাদের বিষয় নয়। এটা জনগণ বিবেচনা করবে, আল্লাহ ফয়সালা করবেন। কিন্তু একজন মৃত ব্যক্তিকে নিয়ে মিথ্যাচার করা আসলেই খুবই লজ্জাজনক।
ফখরুল ইসলাম বলেন, তিনি নাকি ব্যবসায়িক পার্টনার রয়েছেন, এটা আপনারা একটু বুঝবেন। আপনি একটু খোঁজ নিয়ে দেখেন যে এই ধরনের কোন সংশ্লিষ্টতা আমাদের মাওলানা হাবিবুর রহমানের সাথে আছে কিনা। ঠিক একইভাবে মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ সাহেবের নাম নিয়ে এসেছে যে তিনিও পার্টনার রয়েছেন। এটি একদম শতভাগ একটা মিথ্যা কথা। এই ধরনের মিথ্যা বলে দিয়ে জনগণকে ভোটের এই মাঠে অন্ততপক্ষে আমরা বিশ্বাস করি কেউ বিভ্রান্ত করতে পারবেন না।
জামায়াত প্রার্থীর তথ্য গোপনের ব্যপারে তিনি বলেন, সেই বিষয়টা আমরা যাচাই-বাছাই করেছি। মাওলানা হাবিবুর রহমান সাহেব যে যে কোম্পানির তিনি ডিরেক্টর কিংবা শেয়ারহোল্ডার রয়েছেন, তিনি তার হলফনামায় সেটা উল্লেখ করেছেন এবং তার নামে কোন ঋণ নেই। ব্যক্তির নামেও নেই। ওই সমস্ত প্রতিষ্ঠানের নামেও নেই। তিনি আল কারামা নামক একটি প্রতিষ্ঠান আছে। এই কোম্পানিতে তিনি পরিচালক। ১২ লক্ষ টাকা দিয়ে তিনি প্রাথমিক শেয়ার ক্রয় করেছিলেন। ইবনে সিনা হাসপাতাল যেটা আছে, সেই হাসপাতালটা হল আল কারামার একটা অংশ। শেয়ার আর ইবনে সিনার ট্রাস্ট, অর্থাৎ ঢাকা ইবনে সিনার ট্রাস্টের একটা অংশ শেয়ার। এই দুই শেয়ারের সমন্বয়ে ইবনে সিনা হাসপাতাল। এখানে যিনি মাওলানা হাবিবুর রহমান, তিনি আল কারামার একজন প্রতিনিধি হিসেবে ইবনে সিনার প্রতিনিধিত্ব করেন।
তিনি বলেন, হাবিবুর রহমান তার রিটার্ন যেটা রয়েছে, সেখানে তিনি পরিচালক বা শেয়ারহোল্ডার হিসেবে তার অর্থের বিষয়টি উল্লেখ করেছেন।সেখানে যেহেতু তার অর্থের বিষয়টা নেই, সেটা নিয়ে তিনি আসন এবং প্রতিনিধির উপরে কোন রোলের বিষয়টা বর্তায় না। প্রতিনিধি যে কেউ হতে পারে।
মহানগরের আমির বলেন, এটা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করার চেষ্টা করা হয়েছে। আমরা মনে করি যে এই ধরনের কোন বিভ্রান্তিমূলক কথা দিয়ে জাতিকে কিংবা ভোটারদেরকে কোন ধরনের বিভ্রান্তিতে ফেলা যাবে না। বরঞ্চ আমরা সত্যকে উদ্ঘাটন করতে চাই। সত্যকে নিয়েই আমরা থাকতে চাই।এখন আমরা দেখতে পাচ্ছি যে দাড়িপাল্লার যে গণজোয়ার তৈরি হয়েছে, সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে এই গণজোয়ার দেখেই কিনা আমরা জানি না যে এই ধরনের বিভিন্ন বিষয় বের করে নতুন নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করা হচ্ছে।
আজকের সিলেট/এপি
নিউজ ডেস্ক 








