সিলেটে বিদ্রোহী নিয়ে ‘চ্যালেঞ্জের মুখে’ বিএনপি ও শরিক দলের প্রার্থীরা
সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১১:০৮ AM

সিলেটে বিদ্রোহী নিয়ে ‘চ্যালেঞ্জের মুখে’ বিএনপি ও শরিক দলের প্রার্থীরা

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৯/০২/২০২৬ ০৯:২৯:৪৯ AM

সিলেটে বিদ্রোহী নিয়ে ‘চ্যালেঞ্জের মুখে’ বিএনপি ও শরিক দলের প্রার্থীরা


সিলেট বিভাগের ১৯টি আসনের মধ্যে পাঁচটি আসনে এবারের ভোটের লড়াই দলগুলোর মধ্যে যতটা, তার চেয়ে বেশি আলোচনায় বিএনপির ভেতরের টানাপোড়েন। বিএনপির দলীয় প্রার্থীর বিপরীতে বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থীরা শক্ত অবস্থান গড়ে তোলায় একদিকে ভোটব্যাংক ভাগ হচ্ছে, অন্যদিকে পাল্টে যাচ্ছে জয়ের হিসেব-নিকেষ।

নির্বাচনের সময় যত ঘনিয়ে আসছে ভোটের হিসেব-নিকেষ ততোই পাল্টাচ্ছে। দীর্ঘদিনের আন্দোলন সংগ্রামে লড়াই করা বিএনপির একটি অংশের ক্ষোভের আগুনে বলি হতে পারেন দলীয় প্রার্থীরা।

পরিস্থিতি যে অনুকূলে নয়, এটাও বিএনপির মোটামুটি জানা। নিয়ন্ত্রণে বিদ্রোহী ও শরিক দলের প্রার্থীদের আসনে ৩০জন নেতাকে বহিষ্কার করেছে দলটি।

কিন্তু এতে আরও বিপদ ডেকে এনেছে বিএনপি। এক সময় গোপনে কাজ করা সেই বিএনপি নেতারা এবার প্রকাশ্যে বিদ্রোহীদের বিজয় নিশ্চিত করতে মাঠে নেমেছেন।

সব মিলিয়ে সিলেট-৫, সুনামগঞ্জ-৩, সুনামগঞ্জ-৪, মৌলভীবাজার-৪ ও হবিগঞ্জ-১ আসনে বিদ্রোহীদের চাপে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে বিএনপি ও শরিক দল জমিয়তের পাঁচ প্রার্থী। এখন প্রতিপক্ষ নয়, নিজেদের ভেতরের বিদ্রোহ সামলে মাঠে ঐক্য ধরে রাখাও আরেক চ্যালেঞ্জ দলটির।

সুনামগঞ্জ-৩
‎‎
সুনামগঞ্জ-৩ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সাতজন প্রার্থী। এখন পর্যন্ত বেশ ভালো অবস্থানে বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিষ্টার মো. আনোয়ার হোসেন। তার সঙ্গে লড়াই হবে বিএনপির দলীয় প্রার্থী যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মোহাম্মদ কয়ছর আহমদের। এ দুজনের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়ায়ের আভাস থাকলেও ভোটাররা বলছেন শক্ত অবস্থানে ব্যারিষ্টার আনোয়ার।

আসনটিতে বিএনপির দলীয় ও বিদ্রোহী দুজন ছাড়া প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের নেতা মো. শাহীনুর পাশা (রিকশা),  আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি) সৈয়দ তালহা আলম (ঈগল), খেলাফত মজলিসের প্রার্থী শেখ মুশতাক আহমদ (দেওয়াল ঘড়ি), স্বতন্ত্র প্রার্থী মাহফুজুর রহমান খালেদ (টেবিল ঘড়ি) ও হোসাইন আহমদ (ফুটবল)। তাদের মধ্যে দেওয়াল ঘড়ি প্রতীকের প্রার্থী শেখ মুশতাক আহমদ নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীদের মধ্যে তিনজনের বাড়ি শান্তিগঞ্জ উপজেলায়। আর চারজনের বাড়ি জগন্নাথপুর উপজেলায়। শান্তিগঞ্জের তিনজনের মধ্যে আনোয়ার হোসেন আলোচনায় রয়েছেন। অন্যদিকে, জগন্নাথপুরের চারজনের মধ্যে মোহাম্মদ কয়ছর আহমদ, শাহীনুর পাশা ও সৈয়দ তালহা আলম আলোচনায়।

ভোটাররা বলছেন, আঞ্চলিকতার টানে শান্তিগঞ্জের বেশিরভাগ ভোটই পাবেন ব্যারিষ্টার আনোয়ার। তাছাড়াও রয়েছে আওয়ামী লীগের বড় ভোট ব্যাংক। এছাড়াও এ আসনে ১১ দলের জোটের প্রার্থী না থাকায় জামায়াতের ভোটও যেতে পারে আনোয়ারের বাক্সে।

অন্যদিকে, ভোটারদের ধারণা জগন্নাথপুরের আলোচিত তিন প্রার্থীর এলাকায়ও ভোটের ভাগ বসাবেন আনোয়ার। কারণ বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে দলটির বড় একটি অংশ নেই। সম্প্রতি জগন্নাথপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকসহ ৭ জনকে বহিষ্কার করেছে দলটি। বিএনপির এই অংশের প্রভাব পুরো উপজেলাজুড়ে। যার কারণে বড় ঝুঁকির মধ্যে বিএনপির প্রার্থী কয়ছর।

এ আসনে জামায়াতে ইসলামী থেকে অ্যাডভোকেট ইয়াসিন খানকে প্রার্থী দেওয়া হয়েছিল। পরে জোটের স্বার্থে ইয়াসিন খান মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিলেও ১১ দলীয় জোটের তিন দলের তিনজন প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ছিলেন। আজ একজন নির্বাচন থেকে সরে গেছেন। তবে এই তিন প্রার্থীর কাউকেই সমর্থন দেয়নি জামায়াত। এখন জামায়াতের ভোট কোনদিকে যায় সেটিও দেখার বিষয়।

তবে জামায়াতের একটি সূত্র জানায়, শাহীনুর পাশাকে দলটির অনেক নেতাকর্মীর পছন্দ না। আবার তিনজনের মধ্যে কাউকে সমর্থনও দেওয়া হয়নি। এজন্য এ আসনটি উন্মক্ত। জামায়াতের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা যাকে খুশি তাকে ভোট দিতে পারবে।

যেহেতু আইনজীবি ইয়াসিন খান প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে না পারায় একই ঘরনার অর্থাৎ ব্যারিষ্টার হিসেবে আনোয়ারকে পছন্দ অনেকের। এতে শান্তিগঞ্জ উপজেলার জামায়াতের ভোট বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী আনোয়ারের দিকে যাওয়ার অনেকটা ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানো জামায়াত নেতা ইয়াসিন খান বলেন, ‘আমরা আশা করেছিলাম তারা তিনজনের মধ্যে দুইজন সরে দাঁড়াবেন। তখন আমরা একজনের কাজ করতে সহজ হতো। কিন্তু প্রত্যাহার না করায় বিষয়টি বেশ কঠিন হয়ে গেছে। যেহেতু তিনজন প্রার্থীই জোটের শরিক দলের, তাই কারও পক্ষে প্রকাশ্যে কাজ করার সুযোগ নেই। কেন্দ্র থেকে কোনো নির্দেশনাও আসেনি। এজন্য এ আসনটি উন্মক্ত। আমাদের নেতাকর্মীরা যাকে খুশি তাকে ভোট দিতে পারবে।’

সুনামগঞ্জ-৪ (সদর ও বিশ্বম্ভরপুর)
সুনামগঞ্জ-৪ আসনে পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও মূল আলোচনায় বিএনপির প্রার্থী জেলা কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির অন্যতম সদস্য অ্যাডভোকেট নূরুল ইসলাম নূরুল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী দেওয়ান জয়নুল জাকেরীন। জাকেরীন জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ও বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ছিলেন। দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করায় তাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করেছে বিএনপি।

এ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী জেলা কমিটির নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট মো. শামস উদ্দিন প্রথম দিকে  খুব ভালো অবস্থানে ছিলেন না। তবে এবার তিনিও আলোচনায় আসেছেন। যার কারণে এ আসনে ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস রয়েছে।

তবে ভোটার ও স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, মূল লড়াই হবে নূরুল ও জাকেরীনের মধ্যেই। তাদের দুজনের মধ্যে জাকেরীনের অবস্থান ভালো ও শক্ত। জাকেরীন চারবার সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এবং একবার পৌরসভার চেয়ারম্যান ছিলেন। হাছন পরিবারের এই সন্তানের রয়েছে নিজস্ব ভোট ব্যাংক। রয়েছে পারিবারিক ঐতিহ্য।

অন্যদিকে, বিদ্রোহী হলেও জাকেরীনের পক্ষে কাজ করছেন জেলা বিএনপির বড় একটি অংশ। এ অভিযোগে গত মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিএনপির ১৪ নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এরা এখন জাকেরীনের জন্য কোমড় বেঁধে মাঠে কাজ করছেন। তাছাড়া গোপনেও জাকেরীনের পক্ষে কাজ করছেন বিএনপি নেতা-কর্মীরা। সবমিলিয়ে এই ভোট ব্যাংক নির্বাচনে সমীকরণ পাল্টে দিতে সক্ষম।

এতে করে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন বিএনপি প্রার্থী অ্যাডভোকেট নূরুল ইসলাম নূরুল। ৫ আগস্টের পর নানা ঘটনায় সুনামগঞ্জে বেশ আলোচিত নূরুল ভোটারদের মন জয় করা ছাড়াও দলের নেতাকর্মীদের এক প্লাটফর্মে রাখতেও দিনেরাতে কাজ করছেন। এ দুই চ্যালেঞ্জ নিয়ে নূরুলের সামনে এখন কঠিন পরীক্ষা।

দেওয়ান জয়নুল জাকেরীন বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন জনপ্রতিনিধি হিসেবে মানুষের পাশে থেকে কাজ করে এসেছি। সদর উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে টানা চারবার জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করেছি। এ সময় শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ব্যবস্থা, গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা নিরসনসহ নানা উন্নয়ন কার্যক্রমে সরাসরি যুক্ত ছিলাম। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে উপজেলা পরিষদ- সব স্তরের জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, ইমাম, কৃষক, জেলে ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে কাজ করেছি। আমি আশাবাদী এই জাতীয় নির্বাচনে মানুষ আমাকে বিপুল ভোটে জয় এনে দিবে।’

সুনামগঞ্জ-৪ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী অপর প্রার্থীরা হলেন-জাতীয় পার্টির প্রার্থী অ্যাড. নাজমুল হুদা হিমেল ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শহীদুল ইসলাম।

সিলেট-৫ (জকিগঞ্জ-কানাইঘাট)
সিলেট-৫ আসনে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সিলেট জেলা বিএনপির সহসভাপতি মামুনুর রশিদ। এজন্য তাকে দল থেকে বহিষ্কারও করা হয়েছে। এলাকায় তিনি চাকসু মামুন হিসেবে বেশ পরিচিত। এ আসনে বিএনপি মনোনয়ন দিয়েছে জমিয়তের প্রার্থী মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুককে। আর খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মুফতি মোহাম্মদ আবুল হাসানকে সমর্থন দিয়েছে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট।

উবায়দুল্লাহর পক্ষে কাজ করতে বিএনপির স্পষ্ট নির্দেশনা থাকলেও এ আসনে বিএনপির একটি বড় অংশ মামুনের পক্ষে। এ অভিযোগে সম্প্রতি জকিগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন সেলিমসহ ৮ নেতাকে বহিষ্কার করেছে দলটি। তবুও বিএনপিতে ফেরেনি ঐক্য।

উল্টো বহিষ্কারের পর বিএনপির এ অংশ মামুনকে জেতাতে চ্যালেঞ্জ নিয়ে মাঠে নেমেছে। তাছাড়া বিএনপির একটি অংশ এখনও গোপনে কাজ করছে মামুনের হয়ে। জাতীয় পার্টিও কাজ করছে মামুনের পক্ষে। যার কারণে উবায়দুল্লাহ ফারুক আলোচনা থেকে কিছুটা পিছিয়ে।

অন্যদিকে এ আসনে আলোচনায় রয়েছেন, ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মুফতি মোহাম্মদ আবুল হাসান। জকিগঞ্জ উপজেলায় তার শক্ত অবস্থান রয়েছে। জামায়াতের ইসলামীর শক্ত ঘাটি হিসেবে পরিচিত এ আসনে নিজেদের প্রার্থী না থাকলেও জোটের প্রার্থীকে জেতাতে মরিয়া দলটি। এ অবস্থায় হাড্ডাহাডি লড়াই হবে মামুনুর রশিদ ও আবুল হাসানের মধ্যে।

আবার এ আসনে বড় একটি ফ্যাক্টর প্রখ্যাত আলেম আল্লামা আব্দুল লতিফ চৌধুরী (ফুলতলী ছাহেব নামে পরিচিত) প্রতিষ্ঠিত আঞ্জুমানে আল ইসলাহ’র ভোট। এবার এই ফ্যাক্টরে যোগ হয়েছে আওয়ামী লীগের ভোট। শেষ পর্যন্ত আল ইসলাহ ও আওয়ামী লীগের ভোটেই ভাগ্য নির্ধারিত হতে পারে মামুন ও আবুল হাসানের-এমন ধারণা ভোটারদের।

মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ)
এ আসনের হিসাবটা বেশ জটিল। এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৬ জন প্রার্থী। তারা হলেন বিএনপির মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী, স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো. মহসিন মিয়া মধু, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মাওলানা শেখ নূরে আলম হামিদী, জাতীয় নাগরিক পার্টির প্রীতম দাশ, জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ জরিফ হোসেন ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের মো. আবুল হাসান।

এ আসনটিতেও ১১ দলীয় নির্বাচনী জোটের জট রয়েছে। জোট থেকে জাতীয় নাগরিক পার্টি নাকি বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে তা নিশ্চিত করা হয়নি। তাই এখানে জোটের শরিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব প্রীতম দাশ ও একই জোটের শরিক দল বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মৌলভীবাজার জেলা কমিটির উপদেষ্টা মাওলানা শেখ নূরে আলম হামিদী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন। দু’জনই ১১ দলীয় নির্বাচনী জোটের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে দাবি করে প্রচারণা চালাচ্ছেন।

তবে, এ আসনটিতে বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরীর সঙ্গে বিদ্রোহী প্রার্থী মো. মহসিন মিয়া মধুর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস পাওয়া গেছে।

কারণ বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী মহসিন মিয়া মধুর সঙ্গে আওয়ামী লীগের ভোট ব্যাংকের বেশ ভালো সখ্যতা রয়েছে। এ কারণে মহসিন মিয়া মধুর অবস্থান বেশ ভালো।

হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ-বাহুবল)
হবিগঞ্জ জেলায় সবচেয়ে আলোচিত আসন হবিগঞ্জ-১। বিএনপিতে সদ্য যোগ দেওয়া ও দলীয় প্রার্থী ড. রেজা কিবরিয়ার মুখোমুখি জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক ও সাবেক সংসদ সদস্য শেখ সুজাত মিয়া। দলের নির্দেশ অমান্য করায় সুজাত মিয়া দল থেকে বহিষ্কৃত হলেও নির্বাচনের মাঠে শক্ত অবস্থান তার।

তারেক রহমানের নির্দেশে নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার সুর তুলেছিলেন শেখ সুজাত। কিন্তু শেষ মুহুর্তে জামায়াতের শক্ত প্রার্থী শাহজাহান আলী নির্বাচন থেকে সরে যাওযায় প্রার্থীতা প্রত্যাহার করেননি শেখ সুজাত। অন্যদিকে ১১ দলীর জোট থেকে খেলাফত মজলিসের সিরাজুল ইসলাম মিরপুরীকে প্রার্থী ঘোষণা করায় লড়াইটা গড়িয়েছে রেজা কিবরিয়া ও শেখ সুজাতের মধ্যে।

তবে ভোটারদের ধারণা জামায়াতের ভোটের উপর ভর করেই নির্বাচনে থেকে যাননি শেখ সুজাত। যার কারণে এ আসনে সুজাতের অবস্থান বেশ ভালো বলে মনে করছেন ভোটাররা।

আজকের সিলেট/ডি/এসটি

সিলেটজুড়ে


মহানগর