শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:২৩ অপরাহ্ন

ছুটিতে রাজধানীর বাজারে ক্রেতার আকাল, বেড়েছে আদা-রসুন-পেঁয়াজের দাম

অর্থনীতি ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৪/১০/২০২৬ ০১:২৫:২০ অপরাহ্ন

ছুটিতে রাজধানীর বাজারে ক্রেতার আকাল, বেড়েছে আদা-রসুন-পেঁয়াজের দাম


টানা পাঁচ দিনের ছুটিতে রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজারে ক্রেতাদের উপস্থিতি কমে গেছে। দুর্গাপূজার ছুটিতে অনেক মানুষ ঢাকা ছেড়ে যাওয়ায় বেচাকেনায় মন্দা দেখা দিয়েছে। তবে পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকায় অধিকাংশ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। এর মধ্যে আদা, রসুন ও পেঁয়াজের দাম বেড়েছে। অন্যদিকে কমেছে ডিম ও মসুর ডালের দাম।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাজধানীর শ্যামবাজার, ধূপখোলা মাঠ বাজার, রায়সাহেব বাজার ও নয়াবাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। ছুটি শেষে রোববার থেকে অফিস-আদালত খুললে বাজারে ক্রেতা বাড়বে বলে আশা করছেন ব্যবসায়ীরা।

বাজারগুলোতে সবজি, মাছ, মাংস ও অন্যান্য নিত্যপণ্যের দোকান খোলা থাকলেও ক্রেতাদের আনাগোনা ছিল তুলনামূলক কম। চাহিদা কমে যাওয়ায় বিক্রেতাদের বেচাকেনা কমেছে। সবজির সরবরাহ স্বাভাবিক থাকায় বিক্রি না হওয়া কিছু পণ্য নষ্ট হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

বাজারে প্রতি কেজি ঝিঙা, কচুমুখী ও পটোল বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকায়। বেগুন ও কাঁকরোলের কেজি ১০০ টাকা। আগাম জাতের মুলা ও ঢ্যাঁড়স ৮০ টাকা এবং শিম ১৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। টমেটোর দাম প্রতি কেজি ১৮০ থেকে ২০০ টাকা।

এ ছাড়া পেঁপে ৩০ টাকা ও মিষ্টিকুমড়া ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ফুলকপি ও বাঁধাকপি প্রতিটি ৫০ থেকে ৬০ টাকা এবং আকারভেদে লাউ ৪০ থেকে ৬০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। মানভেদে কাঁচা মরিচের কেজি ১২০ থেকে ১৪০ টাকা।

শ্যামবাজারের সবজি বিক্রেতা মোবারক হোসেন বলেন, দীর্ঘ ছুটিতে বিপুলসংখ্যক মানুষ ঢাকা ছেড়ে যাওয়ায় সবজির চাহিদা কমেছে। কিন্তু সেই তুলনায় ঢাকার বাইরে থেকে সরবরাহ কমেনি। ফলে অবিক্রীত সবজি নষ্ট হওয়ায় লোকসানে পড়ছেন বিক্রেতারা।

তিনি জানান, বেশির ভাগ সবজি ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে আগাম শীতকালীন সবজি ফুলকপি, বাঁধাকপি, শিম ও মুলার দাম কিছুটা বেশি। ছুটি শেষে মানুষ ঢাকায় ফিরলে ক্রেতা বাড়বে বলে আশা করছেন তিনি।

শ্যামবাজারে আলু, আদা, রসুন ও পেঁয়াজের দোকানগুলোতেও ক্রেতা কম দেখা গেছে। তবে এসব পণ্যের মধ্যে কয়েকটির দাম বেড়েছে।

বিক্রেতা মো. শহিদুল্লাহ বলেন, ছুটির কারণে ক্রেতা কমলেও পণ্যের সরবরাহ কমেনি। আমদানিনির্ভর আদা ও রসুনের দাম বেড়েছে।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতি কেজি আদা ও রসুনের দাম ২০ টাকা বেড়ে যথাক্রমে ২০০ ও ২৪০ টাকা হয়েছে। ঋণপত্র (এলসি) খোলার সমস্যার কারণে এসব পণ্যের আমদানি ব্যাহত হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

এদিকে দেশি পেঁয়াজের মৌসুম শেষের দিকে হওয়ায় দামও বেড়েছে। বর্তমানে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৫৫ টাকায়। এক সপ্তাহ আগে দাম ছিল ৫০ টাকা। নতুন পেঁয়াজের মৌসুম আসতে দেরি হলে দাম আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।

ক্রেতা কম থাকলেও মাছের বাজারে উল্লেখযোগ্য দর পরিবর্তন দেখা যায়নি। প্রতি কেজি তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা, পাঙাশ ২২০ থেকে ২৩০ টাকা এবং রুই-কাতলা ২৮০ থেকে ৪৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চিংড়ির দাম প্রতি কেজি ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা।

অন্য মাছের মধ্যে পাবদা ৩৫০ থেকে ৬০০ টাকা, ট্যাংরা ৭০০ টাকা, আইড় ৮০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা, চিতল ৭০০ থেকে ১ হাজার টাকা এবং বেলে মাছ ৭০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। মাছের আকার, প্রজাতি ও জীবিত থাকার ওপর দাম নির্ভর করছে। বাজারভেদে কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পার্থক্যও রয়েছে।

ধূপখোলা মাঠ বাজারের মাছ বিক্রেতা বিজয় দাস বলেন, মাছের দাম আগের মতোই রয়েছে। তবে ক্রেতা কম থাকায় তিনি মাছের পরিমাণ কমিয়ে এনেছেন। ছুটি শেষে রোববার থেকে বাজারে বেচাকেনা বাড়বে বলে আশা করছেন তিনি।

রাজধানীর বাজারগুলোতে প্রতি কেজি সোনালি ও কক মুরগি ৩২০ থেকে ৩৫০ টাকা এবং ব্রয়লার মুরগি ১৮০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

রায়সাহেব বাজারের মুরগি বিক্রেতা আবুল হোসেন বলেন, গত দুই দিন ধরে বিক্রি কমেছে। মুরগি কিনে দোকানে রাখার পরও পরিচর্যার খরচ বহন করতে হয়। এভাবে বিক্রি কম থাকলে লোকসান গুনতে হবে।

গরুর মাংস প্রতি কেজি ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ধূপখোলা মাঠ বাজারের মাংস বিক্রেতা রাসেল মিয়া জানান, ক্রেতা কম থাকায় খাসি জবাইয়ের পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছেন। আগে প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০টি খাসি জবাই করলেও এখন করছেন পাঁচ থেকে ছয়টি।

বাজারে ফার্মের ডিমের দাম কিছুটা কমেছে। গত দুই দিনে প্রতি ডজন ডিমের দাম ১০ টাকা কমে ১৪০ টাকায় নেমেছে। গত সপ্তাহে লাল ডিমের ডজন ছিল ১৫০ টাকা এবং সাদা ডিম ১৪৫ টাকা।

মসুর ডালের দামও কমেছে। সরু মসুর ডাল প্রতি কেজিতে ১০ টাকা কমে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মোটা মসুর ডালের কেজি ৯০ টাকা। এ ছাড়া ছোলার ডাল ১৪০ টাকা এবং মুগ ডাল ১৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

চালের বাজারে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যায়নি। মিনিকেট চাল প্রতি কেজি ৭২ থেকে ৮৫ টাকা এবং স্বর্ণা ও বিআর-২৮ চাল ৫৫ থেকে ৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বোতলজাত সয়াবিন তেলের লিটার ২০৫ টাকা এবং খোলা সয়াবিন তেল ১৯০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে সরবরাহে ধীরগতির কথা বলে কিছু দোকানে খোলা সয়াবিন ও পাম তেল লিটারে দুই থেকে পাঁচ টাকা বেশি দামে বিক্রি করতে দেখা গেছে।

শ্যামবাজারের মুদি পণ্যের বিক্রেতা মো. জাকির হোসেন বলেন, চাল, তেল, চিনি, লবণ ও আটাসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য গত সপ্তাহের দামেই বিক্রি হচ্ছে। পূজার ছুটিতে এসব পণ্যের দামে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়নি।

বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আশা, ছুটি শেষে রাজধানীতে মানুষের উপস্থিতি বাড়লে ক্রেতার সংখ্যাও বাড়বে। এতে স্থবির হয়ে পড়া বেচাকেনা আবার স্বাভাবিক ধারায় ফিরতে পারে।

আজকের সিলেট/ জেকেএস

সিলেটজুড়ে


মহানগর