শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:১৮ অপরাহ্ন

একটার পর একটা অঘটন ঘটবে, আমরা কি বসে থাকব: জামায়াত আমির

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৪/১০/২০২৬ ০১:৪৭:২৫ অপরাহ্ন

একটার পর একটা অঘটন ঘটবে, আমরা কি বসে থাকব: জামায়াত আমির


সরকারের ভুলের দায় বিরোধী দল নেবে কেন এমন প্রশ্ন তুলে জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, সংসদে তারা দায়িত্বশীল ও বিবেকবান বিরোধী দল হিসেবে থাকতে চান। সরকারের ভালো উদ্যোগকে সমর্থন করবেন, তবে ভুল ও অনিয়মের সমালোচনা করতেও পিছপা হবেন না।

শনিবার দুপুরে মৌলভীবাজার সার্কিট হাউজে জেলার কর্মরত সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। 

এসময় দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, প্রশাসনের দলীয়করণ, গণমাধ্যমের ভূমিকা, প্রবাসীদের অধিকার ও জাতীয় রাজনীতির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেন জামায়াত আমির।ডা. শফিকুর রহমান বলেন, একটার পর একটা অঘটন ঘটবে, আর আমরা কি বসে থাকবো? ইতিহাস কি আমাদের ক্ষমা করবে? সরকারের ভুলের দায় বিরোধী দল নেবে কেন?

তিনি বলেন, অতীতে দেশে এমন রাজনৈতিক পরিস্থিতি ছিল, যেখানে সরকারি দলের সবকিছু ভাল আর বিরোধী দলের সবকিছু খারাপ হিসেবে তুলে ধরা হতো। এমনকি সরকারি দল কিছু বলার আগেই বিরোধী দল সমর্থন জানিয়ে দিত। এখন তারা প্রধান বিরোধী দলের দায়িত্বে রয়েছেন। 

কেউ চান, তারা সংসদে ভাঙচুর করে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করুন। আবার সরকারি দল চায়, তারা সব বিষয়ে সমর্থন জানাক। কিন্তু তারা এ দুই অবস্থানের কোনোটিই গ্রহণ করতে চান না।

আইনশৃঙ্খলা ও মাদক নিয়ন্ত্রণে সরকারের সমালোচনা ও দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জামায়াত আমির বলেন, পুলিশের মধ্যে অনেক দায়িত্বশীল ও দেশপ্রেমিক কর্মকর্তা রয়েছেন। তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নিজের মন্ত্রণালয়ের কাজে আরও মনোযোগী হওয়া উচিত। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও মাদক নির্মূলে প্রত্যাশিত অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না।জেলা পরিষদে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের দায়িত্ব দেওয়া এবং সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) দলীয়করণের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, জেলা পরিষদে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের পরিবর্তে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সাময়িকভাবে দায়িত্ব দেওয়া হলো না কেন?

দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি রাজনৈতিক দলের জন্য ক্ষতিকর উল্লেখ করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, দুর্নীতিবাজ ও চাঁদাবাজরা কোনো দলের নয়; তারা দলকে ডুবিয়ে দেন। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, অনেক সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীর বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধের অভিযোগ থাকলেও তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। নীতির প্রশ্নে কাউকে বড় করে দেখার সুযোগ নেই। কেউ ভুল করলে তাকে সংশোধনের সুযোগ দেওয়া উচিত, কিন্তু অপরাধ করলে ছাড় দেওয়া উচিত নয়।

নিজ দলের এক সংসদ সদস্যকে বহিষ্কারের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ওই সংসদ সদস্যকে দল থেকে বাদ দেওয়ার বিষয়ে তারা ২৪ ঘণ্টাও সময় নেননি। তার সঙ্গে দলের আর কোনো সম্পর্ক নেই বলেও জানান তিনি।গণমাধ্যমের ভূমিকা তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, দেশের কোথায় কী ঘটছে, তা সংবাদমাধ্যমে উঠে আসে। তবে ফ্যাসিবাদী শাসন প্রতিষ্ঠার পেছনে সংবাদমাধ্যমেরও দায় থাকতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সৌদি আরবের কারাগারে সাত হাজারের বেশি বাংলাদেশি বন্দি রয়েছেন বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সৌদি আরবের আইন অনুযায়ী তাদের বিচার হবে। তবে বন্দিদের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারকে অবহিত করা উচিত, যাতে তারা ন্যায়বিচার পাচ্ছেন কি-না, তা জানা যায়।স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে তিনি বলেন, তারা জোটগতভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেবেন না। অতীতেও তারা এভাবে নির্বাচন করেননি। আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে পরিস্থিতি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

আজকের সিলেট/এপি/প্রতিনিধি

সিলেটজুড়ে


মহানগর