সুনামগঞ্জের মধ্যনগরে সড়ক উন্নয়নকাজে নিম্নমানের ইট ও বালু ব্যবহারের অভিযোগে নির্মাণকাজ বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুর পৌনে ১টার দিকে সড়কটি পরিদর্শন করে তিনি এ নির্দেশ দেন।
পরিদর্শনের সময় নির্মাণকাজে ব্যবহৃত ইট ও বালুর মান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন সংসদ সদস্য। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হামিম কন্ট্রাকশনকে নিম্নমানের সামগ্রী সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি মানসম্মত নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কাজ বন্ধ রাখতে বলেন তিনি। পরে শ্রমিকেরা কাজ বন্ধ করে দেন।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, মধ্যনগর থানা থেকে কায়েতকান্দা গ্রাম পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটার সড়কে আরসিসি ঢালাই, মাটি ভরাটসহ বিভিন্ন উন্নয়নকাজের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৪৪ কোটি টাকা। দরপত্রের মাধ্যমে কাজটি পায় হামিম কন্ট্রাকশন।
চুক্তি অনুযায়ী, আগামী বছরের ২০ এপ্রিলের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি গত বছরের জুলাইয়ে নির্মাণকাজ শুরু করলেও ব্যবহৃত ইট ও বালুর মান নিয়ে আপত্তি জানিয়ে আসছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, সড়কের বিভিন্ন অংশে দীর্ঘদিন ধরে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছিল।
এলাকাবাসীর আশঙ্কা, নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে সড়ক নির্মাণ করা হলে অল্প সময়ের মধ্যেই তা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এতে সরকারি অর্থের অপচয়ের পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের দুর্ভোগ বাড়বে। তাই কাজের প্রতিটি পর্যায়ে যথাযথ তদারকি এবং প্রকল্পের নির্ধারিত মান বজায় রাখার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
অভিযোগের বিষয়ে হামিম কনস্ট্রাকশনের স্বত্বাধিকারী হাবিবুর রহমান অপুর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে নির্মাণস্থলে প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্বে থাকা প্রতিনিধি জসীম উদ্দিন বলেন, দ্রুত নিম্নমানের ইট ও বালু পরিবর্তন করে ভালো মানের নির্মাণসামগ্রী দিয়ে আবার কাজ শুরু করা হবে।
এলজিইডির মধ্যনগর উপজেলা প্রকৌশলীর অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা ধর্মপাশা উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ শাহাব উদ্দিন বলেন, দুই সপ্তাহ আগেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নিম্নমানের ইট ও বালু পরিবর্তনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি সেই নির্দেশনা আমলে নেয়নি। সংসদ সদস্যের নির্দেশের পর বর্তমানে কাজ পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।
সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল বলেন, উন্নয়নকাজে অনিয়ম কিংবা নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার বরদাশত করা হবে না। জনস্বার্থে নিম্নমানের ইট ও বালু ব্যবহারের কারণে হামিম কন্ট্রাকশনের কাজ বন্ধ রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের শিডিউল অনুযায়ী উন্নতমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার নিশ্চিত করেই কাজ শেষ করতে হবে।
আজকের সিলেট/ জেকেএস
মধ্যনগর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি 








