মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০৭ পূর্বাহ্ন

ব্যস্ত সড়কের বিভাজকে ফুলের বাগান, সৌন্দর্যে মুগ্ধ পথচারীরা

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৩/১০/২০২৬ ০৯:১৬:৩২ পূর্বাহ্ন

ব্যস্ত সড়কের বিভাজকে ফুলের বাগান, সৌন্দর্যে মুগ্ধ পথচারীরা


তীব্র রোদ, গাড়ির হর্ন আর মানুষের ছুটে চলা সব মিলিয়ে ব্যস্ত এক সড়ক। এরই মাঝে সড়ক বিভাজকে ফুটে থাকা নানা রঙের ফুল যেন তৈরি করেছে প্রকৃতির এক টুকরো শান্ত জগৎ। পথ চলতে গিয়ে কেউ থমকে ছবি তুলছেন, কেউ আবার দাঁড়িয়ে উপভোগ করছেন ফুলের সৌন্দর্য।

সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে মৌলভীবাজার পৌর শহরের ঢাকা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের বাসস্ট্যান্ড এলাকায় দেখা যায় এমন দৃশ্য। এক পথচারী ফুলের ছবি তুলতে তুলতে মন্তব্য করেন, এত কোলাহলের মধ্যেও ফুলগুলো যেন নিজেদের নীরব জগৎ তৈরি করে রেখেছে। পাশে থাকা আরেকজনের চোখে জায়গাটি ধরা দেয় এক টুকরো বাগান হিসেবে।

বাসস্ট্যান্ডে একের পর এক আন্তঃজেলা বাস এসে থামছে। ঢাকাগামী বাসগুলোও নির্ধারিত সময়ের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে। কেউ বাস থেকে নামছেন, কেউ গন্তব্যের দিকে ছুটছেন। সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও ব্যক্তিগত গাড়ির চলাচলেও বিরাম নেই। এই ব্যস্ততার মাঝেই সড়ক বিভাজকের ফুলগুলো আলাদা করে নজর কাড়ছে।

গাড়ি চলাচলের ফলে সৃষ্ট বাতাসে দুলছে ফুলের গাছ। সবুজ পাতার ফাঁকে ফুটে থাকা ফুলগুলো রোদে ঝলমল করছে। কোথাও হলুদ, কোথাও লাল-হলুদের মিশেল, আবার কোথাও বেগুনি রঙের আভা। রাধাচূড়া ও কৃষ্ণচূড়ার আধিক্যে সড়কটির এই অংশ পেয়েছে বিশেষ রূপ।

মৌলভীবাজার-শ্রীমঙ্গল অংশে শহরের ভেতর দিয়ে যাওয়া মহাসড়কের প্রায় এক কিলোমিটার সড়ক বিভাজনজুড়ে ফুটেছে এসব ফুল। প্রতিদিন এ পথ দিয়ে যাতায়াত করা মানুষের কাছে দৃশ্যটি পরিচিত হলেও ফুলের এই রঙিন উপস্থিতি ব্যস্ত শহরের চেনা পরিবেশে যোগ করেছে ভিন্ন মাত্রা।

স্থানীয়ভাবে জানা গেছে, সড়ক বিভাজকে পৌর কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি ব্যক্তি উদ্যোগেও বিভিন্ন সময়ে ফুলের গাছ লাগানো হয়েছে। সময়ের সঙ্গে গাছগুলো বড় হয়েছে, এসেছে ফুল। সেই উদ্যোগ ও পরিচর্যার ফলেই শহরের ব্যস্ত সড়কের মাঝখানে গড়ে উঠেছে এই ফুলের সমারোহ।

পরিবেশকর্মী সোনিয়া মান্নান বলেন, ব্যস্ত সড়কের বিভাজকে ফুলের গাছ শুধু শহরের সৌন্দর্য বাড়ায় না, মানুষের সঙ্গে প্রকৃতির একটি নীরব সংযোগও তৈরি করে। তাঁর মতে, একটি গাছ ফুল দেওয়ার পাশাপাশি নগরবাসীর জন্য স্বস্তির অনুভূতিও তৈরি করতে পারে।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) জাতীয় পরিষদের সদস্য আ স ম সালেহ সোহেল বলেন, শহরের কোলাহলের মধ্যে সৌন্দর্য তৈরি করতে খুব বেশি কিছুর প্রয়োজন হয় না। কিছু গাছ, সামান্য যত্ন আর বেড়ে ওঠার উপযোগী জায়গাই যথেষ্ট। এই সড়কে রাধাচূড়ার হলুদ, কৃষ্ণচূড়ার লাল ও সবুজ পাতার সমন্বয় কয়েক মুহূর্তের জন্য হলেও মানুষের দৃষ্টি আটকে দেয় এবং শহরকে অন্যভাবে দেখতে সাহায্য করে।

কবি জাহাঙ্গীর জয়েসের মতে, সড়ক বিভাজকে যাঁরা ফুলের গাছ লাগিয়েছেন এবং যত্ন নিয়েছেন, এখন সেই গাছগুলো তাদের পরিশ্রমের প্রতিদান দিচ্ছে। ফুলের সৌন্দর্য ছড়িয়ে দিয়ে গাছগুলো পথচারীদের আনন্দ দিচ্ছে।

আজকের সিলেট/ জেকেএস

সিলেটজুড়ে


মহানগর