বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৪৪ পূর্বাহ্ন

গোয়াইনঘাটে দা দিয়ে কোপে কৃষকের কবজি বিচ্ছিন্ন, অভিযুক্ত ৫

গোয়াইনঘাট প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১২/১০/২০২৬ ০৮:২৪:৪১ অপরাহ্ন

গোয়াইনঘাটে দা দিয়ে কোপে কৃষকের কবজি বিচ্ছিন্ন, অভিযুক্ত ৫


সিলেটের গোয়াইনঘাটে দা দিয়ে কুপিয়ে হারিছ আলী (৫৫) নামের এক কৃষকের ডান হাতের কবজি বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় তাঁকে লাঠি দিয়েও পেটানো হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

রোববার রাত সাড়ে আটটার দিকে উপজেলার তোয়াকুল বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে কামারগ্রাম এলাকার একটি বাঁশঝাড়ের পাশে এ হামলার ঘটনা ঘটে। হারিছ আলী ফুলতৈছগ্রামের বাসিন্দা। কৃষিকাজ করে তিনি সংসার চালান।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন হারিছ আলী জানান, রোববার রাতে তোয়াকুল বাজারে একটি সালিসে অংশ নেন তিনি। সালিস শেষে রাত সাড়ে আটটার দিকে হেঁটে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। বাজার থেকে তাঁর বাড়ির দূরত্ব প্রায় দুই কিলোমিটার। পথে তাঁর পেছনে একই এলাকার আরেক ব্যক্তি হাঁটছিলেন।

হারিছ আলীর ভাষ্য অনুযায়ী, কামারগ্রাম এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা তাঁর সামনে থামে। অটোরিকশা থেকে পাঁচজন দা ও লাঠি নিয়ে নেমে তাঁকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘গুন্ডারে বহুত দিনে পাইছি।’ এরপর তাঁদের একজন দা দিয়ে কোপ দেন। আঘাত ঠেকাতে ডান হাত সামনে বাড়ালে তাঁর কবজির ওপরের অংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে হামলাকারীরা তাঁকে এলোপাতাড়ি লাঠি দিয়ে পেটান। এ সময় পেছনে থাকা পথচারী ভয়ে পালিয়ে যান।

তিনি জানান, তাঁর চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা অটোরিকশায় করে পালিয়ে যান। পরে স্থানীয় লোকজন রাস্তার পাশের একটি খাদ থেকে তাঁকে উদ্ধার করে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।

হারিছ আলী হামলায় জড়িত হিসেবে একই গ্রামের এমরান, মোহাম্মদ, বুরহান, নজরুল ও অটোরিকশাচালক ইমামের নাম উল্লেখ করেছেন। তাঁর দাবি, এমরান, মোহাম্মদ ও বুরহান আপন ভাই এবং এমরানই তাঁকে দা দিয়ে কুপিয়েছেন।

হামলার বর্ণনা দিতে গিয়ে হারিছ আলী বলেন, প্রথম কোপেই তাঁর হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তখন হাত থেকে প্রচুর রক্ত ঝরছিল। তিনি কাটা হাতটি খুঁজতে চাইলেও সেদিকে তাকাতে পারেননি। পরে উদ্ধারকারীদের একজন নিজের পাঞ্জাবি দিয়ে তাঁর হাত বেঁধে দেন। স্থানীয় লোকজনকে কাটা হাতটি খুঁজে হাসপাতালে নিয়ে আসার অনুরোধও করেছিলেন তিনি। তবে হাতটি আর পাওয়া যায়নি।

হামলার পেছনে পুরোনো বিরোধ থাকতে পারে বলে দাবি করেছেন হারিছ আলী। তাঁর ভাষ্য, অভিযুক্ত নজরুলের সঙ্গে আগে থেকেই তাঁর বিরোধ ছিল। গত চৈত্র মাসে তাঁর একটি গরু চুরি হয়। পরে খোঁজাখুঁজি করে ৫০ হাজার টাকা খরচ করে গরুটি উদ্ধার করেন তিনি। যে স্থান থেকে গরুটি উদ্ধার করা হয়েছিল, সেখান থেকে তিনি জানতে পারেন, নজরুল গরুটি চুরি করে অন্যত্র রেখেছিলেন। এ নিয়ে তাঁদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। পরে সালিসের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা হলেও নজরুল বিরোধ জিইয়ে রেখেছিলেন বলে অভিযোগ হারিছ আলীর।

হাসপাতালে তাঁকে দেখতে আসেন ভাগনে আবদুর রশিদ। তিনি বলেন, তাঁর মামা কৃষিকাজ করে সংসার চালান। তাঁর দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। ডান হাত হারানোয় মামার কর্মক্ষমতা কমে যাওয়ায় পরিবারের ভবিষ্যৎ নিয়ে তাঁরা দুশ্চিন্তায় আছেন।

অভিযুক্তদের বক্তব্য জানতে মোহাম্মদের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে প্রথমবার সাড়া পাওয়া যায়নি। পরে ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। অভিযুক্ত নজরুলের বক্তব্যও পাওয়া সম্ভব হয়নি।

গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওমর ফারুক মোড়ল বলেন, এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি। তবে ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হচ্ছে।

আজকের সিলেট/ জেকেএস

সিলেটজুড়ে


মহানগর