শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৫১ অপরাহ্ন

পাঁচ বছরেও স্থায়ী ঠিকানা নেই সুবিপ্রবির

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৯/১০/২০২৬ ১০:১১:২৬ পূর্বাহ্ন

পাঁচ বছরেও স্থায়ী ঠিকানা নেই সুবিপ্রবির


একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয় শুধু কয়েকটি শ্রেণিকক্ষ, অফিস কিংবা ভাড়া করা ভবনে সীমাবদ্ধ নয়। সেখানে থাকার কথা জ্ঞানচর্চার পরিবেশ, গবেষণার সুযোগ, আধুনিক ল্যাব আর শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন গড়ার পরিসর। কিন্তু প্রতিষ্ঠার পাঁচ বছর পেরিয়েও সেই স্থায়ী ঠিকানাই পায়নি সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (সুবিপ্রবি)।

নিজস্ব ক্যাম্পাস না থাকায় বর্তমানে শান্তিগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ভাড়া করা আটটি পৃথক ভবনে চলছে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক, প্রশাসনিক ও আবাসিক কার্যক্রম। কোথাও ক্লাস, কোথাও প্রশাসনিক কাজ, আবার কোনো ভবনে শিক্ষার্থীদের হল কিংবা গেস্ট হাউস এভাবেই চলছে একটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম।

ফলে স্থায়ী ক্যাম্পাসের অভাবে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা ও গবেষণার স্বাভাবিক পরিবেশ। বাড়ছে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তিও। বিশেষ করে শ্রেণিকক্ষের সংকটের পাশাপাশি আধুনিক ল্যাব স্থাপন ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি রাখার পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার ব্যবহারিক অংশ নিয়ে তৈরি হয়েছে সংকট।

২০২০ সালের ১৮ নভেম্বর জাতীয় সংসদে ‘সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় বিল-২০২০’ পাস হয়। এর চার বছর পর, ২০২৪ সালের ৩ নভেম্বর শান্তিগঞ্জ উপজেলা সদরে অস্থায়ী ক্যাম্পাসে ১২৮ জন শিক্ষার্থী নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়। তবে এরপরও স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের কাজ শুরু হয়নি।

বর্তমানে তিনটি ব্যাচের চারটি বিভাগে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট ৪৮০ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন। তাঁদের পাঠদানে রয়েছেন মাত্র ১৫ জন শিক্ষক। শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যমান অবকাঠামোগত সংকট আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মিনহাজুল আবেদিন মিনাল বলেন, স্থায়ী ক্যাম্পাস না থাকায় নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। বিশেষ করে ল্যাব ও ব্যবহারিক শিক্ষায় প্রত্যাশিত সুযোগ-সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে না। বর্তমানে তিনটি ভাড়া করা ভবনে তাঁদের ক্লাস হচ্ছে। এখন পর্যন্ত স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি বা আশার খবরও তাঁরা পাননি। দ্রুত নির্মাণকাজ শুরুর আশা করেন তিনি।

গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী গোলাম মাওলা তামিম বলেন, তাঁরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হলেও এখনো নিজেদের কোনো ক্যাম্পাস নেই। ভাড়া করা ভবনে শিক্ষা কার্যক্রম চলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ তৈরি হচ্ছে না। দ্রুত স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের দাবি জানান তিনি।

স্থায়ী ক্যাম্পাসের দাবিতে এরই মধ্যে একাধিকবার ক্লাস বর্জন, বিক্ষোভসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষার্থীরা। তাঁদের আশঙ্কা, দ্রুত ক্যাম্পাস নির্মাণ করা না হলে শিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়টি পিছিয়ে পড়তে পারে।

শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টদের মতে, একটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য আধুনিক ল্যাব, পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ এবং গবেষণার উপযোগী অবকাঠামো অপরিহার্য। ভাড়া করা বিচ্ছিন্ন ভবনে এসব সুবিধা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে। তাই স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণ শুধু অবকাঠামো তৈরির বিষয় নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবিষ্যৎ শিক্ষা ও গবেষণার ভিত্তি তৈরির সঙ্গেও জড়িত।

তাঁদের প্রত্যাশা, দ্রুত স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হলে শিক্ষার্থীদের জন্য তৈরি হবে আধুনিক শিক্ষা ও গবেষণার পরিবেশ। একই সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে ওঠার সুযোগ পাবে সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের অগ্রগতি নিয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য না করলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মো. জাকির হোসেন বলেন, সরকার দ্রুত সময়ের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাসের ব্যবস্থা করে দেবে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।

আজকের সিলেট/ জেকেএস

সিলেটজুড়ে


মহানগর