এক কোটি টাকার মার্কেটের কাজ থেমে, ভোগান্তিতে জলঢুপ থানাবাজারের ব্যবসায়ীরা
মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২:১৭ AM

এক কোটি টাকার মার্কেটের কাজ থেমে, ভোগান্তিতে জলঢুপ থানাবাজারের ব্যবসায়ীরা

জয়নুল ইসলাম, বিয়ানীবাজার

প্রকাশিত: ০৫/১০/২০২৬ ০৮:৫৭:২৪ AM

এক কোটি টাকার মার্কেটের কাজ থেমে, ভোগান্তিতে জলঢুপ থানাবাজারের ব্যবসায়ীরা


বিয়ানীবাজার উপজেলার জলঢুপ থানাবাজারে এক কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন গ্রামীণ মার্কেট ভবনের নির্মাণকাজ দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। রডের কাঠামো স্থাপনের পর আর এগোয়নি কাজ। খোলা আকাশের নিচে পড়ে থাকা রডে ইতোমধ্যে মরিচা ধরেছে। এদিকে নির্মাণস্থলের কারণে বাজারের যাতায়াতের একটি সড়ক বন্ধ থাকায় ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের চলাচলেও ভোগান্তি তৈরি হয়েছে।

উপজেলার লাউতা ইউনিয়নের জলঢুপ থানাবাজারে চারতলা ভিত্তির ওপর দুইতলা গ্রামীণ মার্কেট নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০২৩ সালের ১৩ নভেম্বর প্রকল্পটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। এলজিইডি বিয়ানীবাজার উপজেলা কার্যালয়ের বাস্তবায়নে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে নির্মাণকাজ শুরু হয়। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে এক কোটি টাকা।

সরেজমিনে দেখা যায়, ভবন নির্মাণের নির্ধারিত স্থানে রডের কাঠামো তৈরি করে কাজ থেমে আছে। প্রায় নয় মাস ধরে সেখানে নতুন কোনো নির্মাণকাজ হয়নি। দীর্ঘ সময় খোলা আকাশের নিচে পড়ে থাকায় রডে মরিচা ধরেছে। ফলে প্রকল্পটির ভবিষ্যৎ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

নির্মাণকাজ বন্ধ থাকার প্রভাব পড়েছে বাজারের দৈনন্দিন কার্যক্রমেও। নির্মাণস্থলের কারণে রাস্তা বন্ধ থাকায় দোকানে পণ্য আনা-নেওয়া ও সাধারণ মানুষের চলাচলে সমস্যা হচ্ছে। মাছ ও সবজি ব্যবসায়ীদের অনেকে অস্থায়ী জায়গায় বসে ব্যবসা করছেন। এতে ব্যবসায়িকভাবে ক্ষতির মুখে পড়ার কথাও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

জলঢুপ থানাবাজার বণিক সমিতির সভাপতি বিলাল আহমদ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কাজ বন্ধ থাকায় ব্যবসায়ী ও ক্রেতা উভয়কেই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। দ্রুত নির্মাণকাজ শেষ করে বাজারের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানান তিনি।

বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কুদ্দুস বলেন, বাজারের যানজট কমানো এবং ব্যবসায়ীদের স্থায়ী জায়গার ব্যবস্থা করার লক্ষ্যেই গ্রামীণ মার্কেট নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কাজ শুরুর পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ বন্ধ রাখায় বাজারের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে এবং ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়ছেন।

তিনি আরও বলেন, জলঢুপ থানাবাজার কাঠের ব্যবসার জন্য পরিচিত। এখানে এক হাজারের বেশি শ্রমিক কাজ করেন। কিন্তু শ্রমিকদের জন্য প্রয়োজনীয় শৌচাগারের ব্যবস্থা নেই। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।

নির্মাণকাজ বন্ধ থাকার বিষয়ে বিয়ানীবাজার উপজেলা প্রকৌশলী দীপক কুমার দাস বলেন, কাজ বন্ধ থাকায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এ কে এন্টারপ্রাইজকে নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। জবাবে প্রতিষ্ঠানটি আর কাজ করবে না বলে জানিয়েছে। এ কারণে নতুন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিয়োগের মাধ্যমে বাকি কাজ শেষ করার জন্য আবেদন করা হয়েছে।

তিনি জানান, অনুমোদন পাওয়ার পর নতুন ঠিকাদারকে দিয়ে মার্কেট ভবনের নির্মাণকাজ পুনরায় শুরু করা হবে।

বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে হাবিবা মজুমদারও নতুন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিয়োগের অনুমোদন পাওয়ার পর নির্মাণকাজ পুনরায় শুরুর কথা জানিয়েছেন।

অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এ কে এন্টারপ্রাইজের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আজকের সিলেট/এপি/প্রতিনিধি

সিলেটজুড়ে


মহানগর