শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) শাহপরাণ হলে ছাত্রদলের একাংশের আয়োজিত রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. খায়রুল ইসলামসহ প্রশাসনের দুই কর্মকর্তার উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর জানিয়েছেন, এ কর্মসূচির জন্য তাঁর দপ্তর থেকে কোনো লিখিত অনুমতি দেওয়া হয়নি। শুক্রবার বাদ জুমা শাহপরাণ হলের টিভি রুমে ‘শহীদ জিয়া সাপ্তাহিক পাঠচক্র’ আয়োজন করে শাখা ছাত্রদলের একাংশ। কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র সহসভাপতি মো. সোহাগ এবং যুগ্ম সম্পাদক মারুফ বিল্লাহ ও আফফান।
অনুষ্ঠানে উপাচার্য অধ্যাপক ড. খায়রুল ইসলাম ছাড়াও ছাত্র উপদেশ ও নির্দেশনা পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম এবং শাহপরাণ হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. মিজানুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রের বরাতে জানা যায়, শাকসু নির্বাচনকে সামনে রেখে গত বছরের ২২ সেপ্টেম্বর ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতির ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে প্রশাসন। তবে একই সঙ্গে কিছু শর্তও দেওয়া হয়।
প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ নিশ্চিত করে শিক্ষার্থীদের কল্যাণমূলক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড প্রক্টরের অনুমোদন নিয়ে করা যাবে। তবে একাডেমিক ও প্রশাসনিক ভবনের পাশাপাশি আবাসিক হলগুলোতে সভা ও মিছিলের ওপর আগের নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখা হয়। শাকসু নির্বাচন উপলক্ষে প্যানেল গঠন ও প্যানেল পরিচিতিমূলক অনুষ্ঠান হল প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে করা যাবে বলে সিদ্ধান্তে উল্লেখ করা হয়।
তবে শুক্রবারের কর্মসূচির বিষয়ে প্রক্টর অধ্যাপক মোখলেছুর রহমান বলেন, তাঁর দপ্তর থেকে কোনো লিখিত অনুমতি নেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, আবাসিক হলের ভেতরের বিষয়গুলো প্রভোস্ট বডির আওতাধীন। সেখানে কী ধরনের কার্যক্রম হচ্ছে, সেটি তারা দেখবে।
শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র সহসভাপতি মো. সোহাগ অবশ্য বলেন, ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ থাকার বিষয়টি তিনি এভাবে দেখেন না। তাঁর ভাষ্য, রাজনীতি করা শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক অধিকার। অন্য সংগঠনগুলোও বিভিন্ন সময়ে হলে প্রচার-প্রচারণা চালিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
অনুমতির বিষয়ে সোহাগ বলেন, প্রক্টরকে বিষয়টি জানানো হয়েছিল। তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে লিখিত চিঠি দেওয়া হয়েছিল কি না, তা তিনি দেখে বলতে পারবেন।
শাখা ছাত্রদলের সভাপতি রাহাত জামান জানান, তিনি কর্মসূচির বিষয়ে অবগত ছিলেন। তবে পায়ে ব্যথা এবং পরিবারের সদস্যরা সিলেটে আসায় তিনি সেখানে যেতে পারেননি। তাঁর মতে, নতুন কিছু শেখার সুযোগ থাকলে এ ধরনের কার্যক্রম করা যেতে পারে এবং কল্যাণকর বিষয়গুলো আয়োজন করা উচিত।
অন্যদিকে, শাহপরাণ হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. মিজানুর রহমান বলেন, নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে তিনি কোনো তথ্য জানেন না। তাঁর কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক অনুমতি নেওয়া হয়নি, তবে মৌখিকভাবে কর্মসূচির কথা জানানো হয়েছিল। অনুষ্ঠানটি এত দীর্ঘ সময় ধরে চলবে, তা তিনি বুঝতে পারেননি বলেও জানান।
প্রভোস্ট বলেন, পরে উপাচার্য সেখানে চলে আসায় তাঁর পক্ষ থেকে অনুমতি দেওয়ার আর কোনো বিষয় ছিল না।
কর্মসূচিতে নিজের উপস্থিতি এবং অনুমতির বিষয়ে বক্তব্য জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. খায়রুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
আজকের সিলেট/ জেকেএস
শাবি প্রতিনিধি 








