সিলেটে হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সিলেট সদর উপজেলার ইয়ামিন (১ বছর ৫ মাস) এবং অপরজন হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার আনিসা (৮ মাস)। তারা দুজনই সিলেটের শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।
একই সময়ে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৯৩ জন। সর্বশেষ পরিস্থিতিতে চলতি বছরের শুরু থেকে হামে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৮৮ জনে।
বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের শুক্রবার প্রকাশিত 'হাম ও রুবেলা রোগের প্রতিবেদন-২০২৬' থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
দিকে, একই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ৯৩ জন বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ২৩ জন, ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫১ জন, নর্থ ইস্ট হাসপাতালে ২ জন, মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ৬ জন এবং সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ১১ জন ভর্তি হয়েছেন।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য বলছে, বর্তমানে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ২৯৪ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ১১৯ জন, ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৮৭ জন, রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১২ জন, নর্থ ইস্ট হাসপাতালে ৮ জন, গোলাপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩ জন, বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২ জন, সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ৩৬ জন, হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ২ জন এবং মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ২৫ জন চিকিৎসা নিচ্ছেন।
প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৭ আগস্ট পর্যন্ত সিলেট বিভাগে নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন ৭৮৮ জন। এর মধ্যে সিলেট জেলায় ২৫৬ জন, হবিগঞ্জে ৯১ জন (এর মধ্যে রুবেলায় আক্রান্ত ২ জন), মৌলভীবাজারে ৯০ জন এবং সুনামগঞ্জে ৩৫১ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে নিশ্চিত হয়েছেন আরও ১৪ জন।
স্বাস্থ্য বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে ১১৬ জন এবং নিশ্চিত হামে ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। সব মিলিয়ে হাম-সংশ্লিষ্ট মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২২ জন। জেলা ভিত্তিক হিসেবে সিলেটে ৪৩ জন, হবিগঞ্জে ১৪ জন, মৌলভীবাজারে ১৩ জন এবং সুনামগঞ্জে ৫২ জনের মৃত্যু হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আক্রান্তের সংখ্যা ও হাসপাতালে ভর্তি রোগীর চাপ এখনও উদ্বেগজনক। তাই শিশুদের সময়মতো হামের টিকা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জ্বর, শরীরে র্যাশ ও শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
আজকের সিলেট/ জেকেএস









